অন্ধ্রপ্রদেশের রেল দুর্ঘটনা – চার বছর পর সামনে এল সত্যি

বিভাগ-বহির্ভূত

Last Updated on 9 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৪ ডিসেম্বর’ ২০, কলকাতা

২০১৭ সালের ২২শে জানুয়ারী রাত ১১.৩০ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের ভিজিয়ানগ্রাম জেলার কুনেরু এর কাছে লাইনচ্যুত হয়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায়  মারা যায়  কমপক্ষে ৪০ জন যাত্রী এবং ৫৪ জন গুরতর আহত হয় । ওই সময় সমস্ত সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটির পিছনে মাওবাদী হাত থাকার কথা প্রচার করা হয়েছিল। জাতীয় তদন্ত সংস্থা, এনআইএ  দাবী করেছিল যে এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, কুনেরু রেল দুর্ঘটনার পিছনে মাওবাদী যোগ রয়েছে। প্রায় ৪ বছর পরের কমিশন অফ রেলওয়ে সেফটি (দক্ষিণ মধ্যরেল) রাম কৃপাল এর তৈরি করা চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল তা টাং রেল বা সুইচ রেল যেটি একটি ট্র্যাকের উভয় রেলের সাথে যুক্ত এবং একটি ইঞ্জিন পরিবর্তনের দিকনির্দেশে সহায়তা করে, সেই সুইচ রেলটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে।

এই ঘটনায় কোন নির্দিষ্ট রেল কর্মচারী  বা আধিকারিককে  দোষী সাব্যস্ত  করা হয়নি বা শাস্তিমূলক কোনো পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়নি । প্রায় ৬০০ জন যাত্রী নিয়ে ৯ কোচ সম্বলিত হীরাখান্দ এক্সপ্রেস তখন জগদলপুর থেকে ভুবনেশ্বর এর উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে সংবাদসংস্থা পিটিআই এর সূত্রানুযায়ী, রেলওয়ের প্রাথমিক তদন্তের পর আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন যে  ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এর শাসনের আগে থেকেই এই অঞ্চলটি নকশাল প্রবণ অঞ্চল এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করতে কুনেরু স্টেশনের কাছাকাছি ট্রেনটির নিকটবর্তী ট্র্যাকের উপর মাওবাদীরা পরিকল্পিতভাবে ট্রেনটিকে লাইনচ্যুত করে। মিডিয়াজুড়ে সোরগোল পড়েছিল এই ট্রেন দুর্ঘটনায় মাওবাদীদের হাত সম্পর্কিত কাহিনীতে। রেলের নতুন রিপোর্ট সেই তত্ত্বকে পুরোপুরি খারিজ করছে।

এনআইএ রেলওয়ে আইনের ১৫০ ধারানুযয়ী বেআইনী দফায় ১৬ এবং ১৮ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করে তথাকথিত”বামপন্থী উগ্রবাদীদের” বিরুদ্ধে। রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্যই এতোগুলো মানুষের প্রাণ সংশয় ঘটা বা অনেকেই গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও কেন কোন আধিকারিকের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল না, এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন জেগেছে। কেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শুধুমাত্র ঘটনার পিছনে মাওবাদী বা উগ্রপন্থী যোগ আছে বলেই চালিয়ে দেয় , এনআইএ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা কীভাবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই আষাঢ়ে গল্প প্রচার করে, সেটা একটা গুরুতর বিবেচনার বিষয় বলে অনেকেই মনে করছেন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on অন্ধ্রপ্রদেশের রেল দুর্ঘটনা – চার বছর পর সামনে এল সত্যি

Leave A Comment