আবার ভারতীয় রেলের বৈষম্যের মুখে পরিযায়ী শ্রমিকেরা

আজকের খবর

Last Updated on 9 months by admin

আবারো ভারতীয় রেলের অবাঞ্ছিত ব্যবহারের সামনে পড়লেন পরিযায়ী শ্রমিকদের। উপর তলায় ঝা চকচকে এই সচ্ছ ভারতে প্রত্যেকদিন অধিকার হারাচ্ছেন খেঁটে খাওয়া কালিঝুলিমাখা হাতের শ্রমজীবি মানুষেরা। তাই বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া দুই শ্রমিক রামচন্দ্র যাদব ও অজয় যাদবকে। কোডার্মা থেকে ভুবনেশ্বর যাচ্ছিলেন রামচন্দ্ররা। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পরেই টিকিট চেকার নামিয়ে দেন, কারণ তাদের নাকি ‘অওকাত’ নেই এই ট্রেনে ওঠার। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ এরকম কোন নিয়ম লাগু করেননি যে ট্রেনে চাপতে হলে বৈধ টিকিট ছাড়াও ‘অওকাত’ বা ‘বিশেষ এলেম’ লাগে। যেভাবে ব্রিটিশ আমলে ট্রেনে লেখা থাকত, কুকুর ও দেশীয় লোকের ওঠার অধিকার নেই ঠিক যেন একই ভাবে  শ্রেণীবিদ্বেষের শিকার হল এই দুই শ্রমিক।   ৩০ শে ডিসেম্বরে রেল কর্তৃপক্ষের এই ব্যবহার প্রকাশ্যে আসে এই দুইজনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে। শ্রেণীবৈষম্যের এহেন নির্লজ্জ প্রকাশ ভারতীয় রেলের কাছেও চরম লজ্জাজনক হওয়া উচিৎ।

 

অবশ্য কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকা কালীন গত এক বছর ধরে শ্রমিকদের প্রতি, দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি সরকারের যা আচরণ প্রতিভাত হয়েছে তাতে নতুন করে অবাক হওয়ার কিছুই বাকি থাকে না। মার্চ মাসে কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই লকডাউনে কাজের জায়গায় আটকে পড়া লক্ষাধিক শ্রমিকদের ন্যূনতম সাহায্য করেনি এই সরকার। সুষ্ঠূভাবে বাড়িতে ফেরানোর বা কর্মস্থলে সুস্থ থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা – কোন কিছুকেই ধর্তব্যের মধ্যে ধরেনি মোদীজির সরকার। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন কেউ, অনেকেই ফিরতেও পারেননি, পথশ্রমে শ্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বহু। জুন মাসে ক্লান্ত হয়ে রেললাইনে শুয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়ার সেই বীভৎস ঘটনারও সাক্ষী থেকেছে এই দেশ। তারপরেও নির্লজ্জের মত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছিল, রেললাইন শোবার জায়গা না। আবার এত কিছুর পরেও শ্রমিক মৃত্যুর কোন সঠিক পরিসংখ্যানই নাকি নেই কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের কাছে, এ কথাও ফলাও করে বলেছেন তারা। অথচ তাদেরই রেলমন্ত্রকের আর পি এফ এর হিসেব বলছে, শুধুমাত্র শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে করে রাজ্যে ফেরার সময় অন্তত ৮০ জনের বেশী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। ভয়ানক উদাসীনতা এবং শ্রেণীঘৃণা নিক্ষেপ করেছে এরা সমাজের প্রতি। এরমধ্যেই একের পর এক শ্রমআইন বাতিল করে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রমকোড লাগু করা থেকে আরম্ভ করে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া – সব কিছুই নিপুন হাতে করেছে কেন্দ্র সরকার। দেশজোড়া বিক্ষোভ আন্দোলনকে নির্মমভাবে দমন করেছে।

 

এই সব কিছুই দগদগে ঘা এর মত জেগে আছে মানুষের বুকে। শ্রমজীবী মানুষের খাওয়া পরার ন্যূনতম অধিকার, বাঁচার অধিকার, গণতান্ত্রিক মত প্রকাশের অধিকারকে নস্যাৎ করে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে এই সরকার। ফলে সর্বস্তরে এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক চর্যার কালে রেল কর্তৃপক্ষের রামচন্দ্র যাদব কিংবা অজয় যাদবের প্রতি এ হেন বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ কিছু আলাদা নয়, বরং বলা যায় এই ঘৃণা এক বৃহত্তর শ্রেণীবিদ্বেষের, জাতিবিদ্বেষের, বর্ণবিদ্বেষের রাজনীতিরই অংশ। এখনো রেল কর্তৃপক্ষের কোন উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই ঘটনা নিয়ে টুঁ শব্দটি করেনি। একমাত্র ধানবাদ ডিভিশনের ডি আর এম আশীষ বানশাল জানিয়েছেন যে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হয়তো চাপে পড়ে দুদিন পরে রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষমা টমাও চেয়ে নিতে পারে বা ওই বিশেষ টিটিই ব্যক্তিটিকে বরখাস্ত করতে পারে। কিন্তু তাতে এই ঘটনার বাস্তব প্রেক্ষিত বদলে যাবে না। বিজেপি আর.এস.এস দীর্ঘদিন ধরে যে বিদ্বেষের রাজনীতি যে ঘৃণার বাতাবরণ তৈরী করেছে তাতে যে দেশের আপামর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ঠাঁই মিলবে না, এটা আজ দেশজুড়েই  পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

 

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on আবার ভারতীয় রেলের বৈষম্যের মুখে পরিযায়ী শ্রমিকেরা

Leave A Comment