‘নো-ভোট-টু-বিজেপি’-র আবেদন নিয়ে সিঙ্গুরে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 6 months by admin

14ই মার্চ, নিজস্ব সংবাদদাতা (11:45PM, 15/03/2021):

রবিবার সিঙ্গুর বাজারের কাছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার আহ্বানে ‘নো-ভোট-টু-বিজেপি’-র আবেদন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো এক বিরাট কিষাণ মহাপঞ্চায়েত। এই মহাপঞ্চায়েতে উপস্থিত ছিলেন দিল্লীর চলমান কৃষক আন্দোলনের নেতারা। এছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী মেধা পাটেকর সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণআন্দোলনের কর্মী ও নেতৃবৃন্দ।

বর্ধমান জেলার প্রভাত দাস, সত্তর বছরের প্রবীন কৃষক, সুদূর কালনার সিমলন গ্রাম থেকে সাইকেল চালিয়ে এই সভায় অংশগ্রহণ করতে এসেছিলেন । তিনি জানান যে বিজেপি সরকার কৃষকদের লোভ দেখাচ্ছে যে বহুজাতিক সংস্থা ফসল কিনলে কৃষকদের আয় তিনগুন বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যে। কারণ কন্ট্রাক্ট ফার্মিং বহুজাতিক সংস্থার মুনফার শর্তে চলবে যা কৃষকের স্বাধীনতাকে হরণ করে দেশের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থাকে কোম্পানীকরণ করবে। তিনি আরোও বলেন, “আমাদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া কাল্টিভেশন এসোসিয়েশন আগামী তিন মাস রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রের তিন কালা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে প্রচার করবে এবং কৃষকদেরকে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার জন্য আবেদন করবেন।’’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক জানালেন যে এই কিষাণ মহাপঞ্চায়েত কোনো রাজনৈতিক দলের ভোট প্রচারের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না। এই মহাপঞ্চায়েত সিঙ্গুরবাসীর কাছে আবেদন করছে তাঁরা যেন কৃষকবিরোধী, জনবিরোধী বিজেপিকে  একটিও ভোট না দেন। সমাজকর্মী মেধা পাটেকর সহ এই সভায় বক্তা ছিলেন মোট আটজন। দিল্লীর কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেতা সর্দার গুরনাম সিং চরুনী বলেন, “অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বিপ্লবীর রক্তেভেজা বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি। এই দেশ নেতাজি সুভাষ ও ভগত সিং-দের দেশ। এই দেশকে আদানি-আম্বানি ও বহুজাতিক কর্পোরেটদের হাতে বেচতে দেবো না। বিজেপি সরকার রেল, বিমান, টেলিকম, বীমা, খনি, ব্যাঙ্ক সহ দেশের আম জনতার সমস্ত সম্পদগুলিকে আদানি-আম্বানি ও অন্য বহুজাতিক সংস্থার হাতে বেচে দিয়েছে। এবার দেশের কৃষি ব্যবস্থাটাকেও কোম্পানিদের হাতে বেচে দিতে চাইছে। আমরা কৃষকরা এটা হতে দেবনা। যতদিন না এই তিন কৃষি আইন বাতিল করা হচ্ছে ততদিন এই আন্দোলন চলবে। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে একটিও ভোট না দিয়ে কৃষক আন্দোলনকে শক্তিশালী করুন।”

 

দিল্লীর কৃষক আন্দোলনের আর এক নেতা সর্দার বলবীর সিং রাজ্জিয়াল বলেন, “এই কৃষি আইন যদি সত্যিই কৃষকদের ভালোর জন্য তবে কোভিড-লকডাউনের মধ্যে গোপনে ভয়েস পোলের মাধ্যমে পাশ করার দরকার হোলো কেনো? এই আইন লাগু হলে দেশের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা আদানি-আম্বানি ও কোম্পানিদের হাতে চলে যাবে। দেশের রেশন ব্যবস্থাকে তুলে দেওয়া হবে। এতে শুধু কৃষকদের ক্ষতি হবে না, সঙ্গে এদেশের আম জনতার পেট চালানো অসম্ভব হয়ে উঠবে। জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হবে।  কারণ এই আইনে পুঁজিপতিদের খাদ্যশস্য মজুত করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আসুন বাংলার বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে প্রমান করে দিন আপনারা আদানি-আম্বানির চৌকিদারের সাথে নেই।”

অন্যান্য কৃষক নেতারাও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের জনবিরোধী কাজগুলোর ব্যাখ্যা রাখেন এবং উপস্থিত সিঙ্গুরবাসীদেরকে দেশবিরোধী বিজেপিকে একটিও ভোট না দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। তাঁরা বলেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে হারলে কেন্দ্র সরকার তিন কালা কৃষি কানুন সহ অন্যান্য জনবিরোধী আইনগুলো বাতিল করতে বাধ্য হবে। তাঁরা জানান আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাঁরা প্রত্যেকটি রাজ্যেই এই মহাপঞ্চায়েত করে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আবেদন করবেন।

সভার শেষে মেধা পাটেকর বলেন, “আপনারা ভূমি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফল হয়েছিলেন এবার দেশ বাঁচানোর লড়াইয়ের স্বার্থে তিন কালা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লীর কৃষক আন্দোলনেও আপনাদেরকে অংশগ্রহণ করতে হবে।” এই সভায় তিনি প্রধান মন্ত্রীর বংশবদ নীরব মোদী, বিজয় মালিয়া, আদানি ও আম্বানিদেরকে আর্থিক আতঙ্কবাদী বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি এও বলেন যে বিজেপি সরকার লকডাউনের মধ্যেই আদানি-আম্বানির মতো মালিকদের ৬৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ মুকুব করেছে। অথচ পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর জন্য সরকারের হাতে টাকা ছিলো না। পিএম কেয়ার ফান্ডের কোনো হিসেব দিচ্ছে না এই সরকার। বিজেপি সরকার হিটলারের সময়ের রণনীতিকে কাজে লাগিয়ে এই দেশকে কোম্পানীদের লুঠের সাম্রাজ্যে পরিণত করতে চাইছে। তিনি সিঙ্গুরের কৃষকদের কাছে তাই আবেদন করেন এই বিজেপিকে ভোট না দিয়ে প্রত্যাখান করুন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on ‘নো-ভোট-টু-বিজেপি’-র আবেদন নিয়ে সিঙ্গুরে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত

Leave A Comment