ব্যয়সংকোচের অজুহাতে পূর্বাঞ্চলের ‘রাষ্ট্রীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্ষমতায়ন সংস্থান’ বন্ধের নির্দেশ কেন্দ্রের, বিক্ষোভ একাধিক সংগঠনের

আজকের খবর বিশেষ খবর

Last Updated on 9 months by admin

30 ডিসেম্বর 2020, নিজস্ব সংবাদদাতা

দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী দের প্রশিক্ষনের বিষয়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য করা এবং বিভিন্নভাবে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করত রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিহীন বিকলাঙ্গ সংস্থা বা NIVH। যার বর্তমান নাম পরিবর্তন হয়েছে ‘রাষ্ট্রীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্ষমতায়ন সংস্থান’ (NIEPVD)।  এই সংস্থার পূর্বাঞ্চল শাখাটি বরানগরে অবস্থিত  রাষ্ট্রীয় অস্থি বিকলাঙ্গ সংস্থা বা  ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর দ্য অর্থোপেডিক্যালি হ্যান্ডিক্যাপ্ড’ (NIOH) ক্যাম্পাসের মধ্যে। কলকাতায় সংস্থার এই শাখার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ সহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তের নানা বয়সের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের কাছে নানাবিধ প্রশিক্ষণ এবং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। দৃষ্টিহীন শিশুদের বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগের পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, একাধিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত দৃষ্টিহীন শিশুদের প্রশিক্ষণ এবং বেশি বয়সের দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার এটি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা।

 NIOH এর ভিতর সেই দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধীদের সংস্থার পূর্বাঞ্চল শাখাটি বন্ধ করে দেওয়ার চ্ক্রান্ত করছে কেন্দ্র সরকার – শুধুমাত্র ব্যয় সংকোচনের অজুহাতে। এই চক্রান্তের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার NIOH বরানগর ক্যাম্পাসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল পাঁচটি প্রতিবন্ধী সংগঠনের যৌথ মঞ্চ। উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল প্লাটফর্ম ফর দ্য রাইটস অব ডিজেবেল্ড, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনী, ব্লাইন্ড পারসন্স অ্যাসোসিয়েশন, ফোরাম ফর স্টুডেনন্টস উইথ ডিজেবিলিটি (যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়) এবং উদ্দীপনা বাংলা সংস্কৃতি পরিষদের সংগঠক এবং সদস্যরা। এই সংগঠনগুলি একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্ধ প্রতিবন্ধী মানুষেরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে চারজনের প্রতিনিধিদল ডেপুটেশন দিয়ে আসেন। চারজনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন অনির্বাণ মুখার্জি, অনুপম চক্রবর্তী, মানস গায়েন ও সাম্য গাঙ্গুলী। তারপরে এন আই ও এইচ’ বিল্ডিং থেকে মিছিল করে বিটি রোড যাওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পথ অবরোধ করা হয়।

NIEPVD সংস্থার মূল কার্যালয়টি অবস্থিত উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। গত ১৫ ডিসেম্বর মূল কার্যালয় থেকে বরানগরের বনহুগলির পূর্বাঞ্চল শাখাটি বন্ধের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সেকেন্দ্রাবাদের কেন্দ্রটিও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিন প্রতিবাদ চলছে। প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে নিয়েই অভিভাবকরা, এখানকার প্রশিক্ষনে থাকা ছাত্রছাত্রীরা। এমনকি শাখাটির চিকিৎসক ও কর্মীরাও বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “এই শাখা বন্ধ হয়ে গেলে বেশ কিছু দৃষ্টিহীন শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে, বেশি বয়সের দৃষ্টিহীন হয়ে পড়া অনেক মানুষ বঞ্চিত হবেন জীবনের মূলস্রোতে ফিরে আসার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থেকে। অসংখ্যা দৃষ্টিহীন ছাত্র-ছাত্রী বঞ্চিত হবেন আধুনিক সহায়ক সরঞ্জাম পাওয়া থেকে।“

আন্দোলনরত সংগঠনগুলির দাবি, “এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত কোনো সংগঠনই হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। আমাদের দাবি, অবিলম্বে এই কার্যালয় বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি এখান থেকে দেওয়া পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে হবে।“

ডেপুটেশন দিতে যাওয়া দলের প্রতিনিধি অনুপম চক্রবর্তী জানান, “কেন্দ্র সতকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অমানবিক সিদ্ধান্ত। আমরা ডেপুটেশন দিলাম। এখানকার কর্তৃপক্ষ জানান তাঁরা আমাদের দাবীর কথা কেন্দ্র সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন। কেন্দ্র যদি আমাদের দাবী না মানে আমরা আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন করব।“

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on ব্যয়সংকোচের অজুহাতে পূর্বাঞ্চলের ‘রাষ্ট্রীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্ষমতায়ন সংস্থান’ বন্ধের নির্দেশ কেন্দ্রের, বিক্ষোভ একাধিক সংগঠনের

Leave A Comment