শ্যামাপ্রসাদের আদর্শে আত্মসমর্পণ কেন পশ্চাদপসরণ?

মতামত

Last Updated on 8 months by admin

শতাব্দী দাশ

বিজেপির অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিজস্ব আইকন সৃষ্টির প্রয়োজনে কখনও নেতাজি, কখনও বল্লভ ভাই প্যাটেল,  কখনও ভগৎ সিং-কে টানাটানি পড়ে গেছে, যাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ অতিহিন্দু সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার বিরোধী। সে তুলনায় সাভারকর বা শ্যামাপ্রসাদ নিতান্তই অতিহিন্দুদের ঘরের লোক। তাঁদের ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট’ করার প্রয়োজন নেই, মতাদর্শভাবে তাঁরাই আজকের হিন্দু-সাম্প্রদায়িকতার জনক। সঙ্গত কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে কলকাতা বন্দরের নাম বদলানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। বঙ্গ-বিজেপির প্রচারের ধারা অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদই পশ্চিমবঙ্গের রূপকার।  সঙ্ঘের মুখপত্র ‘স্বরাজ’-এ (২৩ জুন, ২০১৯) বলা হয়েছে, হিন্দু বাঙালিদের ‘আগাম নিশ্চিহ্ন’ হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। কী ছিল শ্যামাপ্রসাদের ভাবাদর্শ, যা বর্তমান বাংলা তথা ভারতে প্রতিষ্ঠা করতে বিজেপি ব্যগ্র? কেনই বা আমরা তার বিরোধিতা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের এই পুত্রের মেধা ও পাণ্ডিত্য নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। স্নাতকে ইংরেজিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট,  বাংলায় স্নাতোকত্তর, আইনের ডিগ্রি ইত্যাদি অর্জন করার পর তিনি বিদেশে পাড়ি দেন ব্যারিস্টারি পড়তে। ১৯২৩ সালে আশুতোষের মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সংস্থা, সেনেটে নির্বাচিত হন তিনি মাত্র বাইশ বছর বয়সে, ছাত্রাবস্থাতেই।  ১৯৩৪ সালে মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কমবয়সি উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। ১৯২৯ সালে ক‌ংগ্রেসের টিকিটেই বাংলার বিধানসভায় পা রেখেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। কিন্তু ১৯৩০ সালে পদত্যাগ করে নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে পুনর্নির্বাচিত হন শ্যামাপ্রসাদ। ১৯৩৭ সালে প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনে লড়াই করেন তিনি এবং জেতেন সেখানেও। ফজলুল হকের ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ সরকার গঠন করে। ১৯৪১ সালে ফজলুলের সরকারের উপর থেকে মুসলিম লিগ সমর্থন প্রত্যাহার করলে শ্যামাপ্রসাদ বাংলায় দ্বিতীয় জোট সরকার গঠনে ফজলুলকে সাহায্য করেন। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর ফজলুল হকের সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন শ্যামাপ্রসাদ। ১৯৪২-এর ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই পদে আসীন ছিলেন তিনি।

১৯৩৯ সালে যখন সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করছেন, তখন কংগ্রেসের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে শ্যামাপ্রসদও সাভারকরের হিন্দু মহাসভায়  যোগদান করছেন এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি (অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট) হিসেবে নিযুক্ত হচ্ছেন। তার পরের বছর তিনি হলেন কার্যনির্বাহী সভাপতি (ওয়র্কিং প্রেসিডেন্ট)। সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) হিসেবে নিযুক্ত হলেন ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত।

শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন রক্ষণশীল অতিহিন্দু মানসিকতার মানুষ। তাঁর দৃঢ় ধারণা ছিল, মুসলমান সমাজের প্রতি প্রতিরোধ না গড়ে তুললে অচিরেই সম্পূর্ণ বাংলা তাদের হস্তগত হবে। ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত এক হিন্দু সমাবেশে মুসলিমদের উদ্দেশে শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, ‘‘যদি পাকিস্তানে থাকতে চাও, তবে ব্যাগ-পত্তর গুছিয়ে এক্ষুনি ভারত ছাড়ো…’’। স্বাভাবিক কারণেই তাঁর কাজকর্ম খোদ সুভাষভন্দ্রের অপছন্দ ছিল। নিজের ডায়রিতে  শ্যামাপ্রসাদ লিখেছেন, সুভাষচন্দ্র কলকাতার মেয়র থাকাকালীন নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করে হিন্দু মহাসভাকে সভা করতে দিতেন না৷

১৯৪২ সালে শুরু হয় ‘আইন অমান্য’ এবং এর পরে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন। হিন্দু মহাসভা তথা শ্যামাপ্রসাদ দুটোরই বিরোধিতা করেন । ১৯৪২ সালের ২৬ জুলাই বাংলার গভর্নর জন হার্বার্টকে তিনি লেখেন ‘‘যুদ্ধ চলার সময়ে যদি কেউ জনতার আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায়, সরকার যেন তার প্রতিরোধ করে।” ব্রিটিশ গভর্নরকে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আপনাদের একজন মন্ত্রী হিসেবে, আমি পূর্ণ সহযোগিতা জানাচ্ছি।’’ কী ভাবে মন্ত্রীরা ব্রিটিশ সরকারের হয়ে প্রচার করবেন, তাও প্রস্তাব করেন শ্যামাপ্রসাদ: ‘‘যে স্বাধীনতার জন্য কংগ্রেসের এই আন্দোলন, তা ইতিমধ্যেই জনপ্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশের উপরে যেন ভারতীয়দের আস্থা থাকে…’’

তবে পরে তিনি মত পাল্টেছিলেন নিশ্চয়। নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ না দেওয়ায় আমলাতন্ত্রের উপরে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯৪২ সালে ইস্তফা দেন। ১৯৪৩ সালে বাংলায় ফজলুল হক ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি ছিলেন হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে আস্থাশীল। তার পরে খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে রক্ষণশীল মুসলিম লিগ সরকার গঠন করলে শ্যামাপ্রসাদ ভাবেন, বাংলা বুঝি মুসলমানদের দখলে চলে গেল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, পাশাপাশি বাংলায় দুর্ভিক্ষের হাহাকার।  এমতাবস্থায় প্রাদেশিক নির্বাচন স্থগিত করে দেন ব্রিটিশরা। এ দিকে নতুন নেতা হুসেন শাহিদ সোহরাওয়ার্দির নেতৃত্বে ব্রিটিশ মদতপুষ্ট মুসলিম লিগ শক্তিশালী হতে থাকে। কিন্তু শুধু সোহরাওয়ার্দি, হকের মতো বিশিষ্ট মুসলিম নেতারা নন, প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা শরৎ বসুও চেয়েছিলেন, ভারতবর্ষ থেকে গোটা বাংলা প্রদেশকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র তৈরি করতে। তাঁরা মনে করতেন, হিন্দু অধ্যুষিত কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী শিল্পোন্নত এলাকা ও মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামীন পূর্ববঙ্গীয় এলাকা একসঙ্গে থাকলেই বাংলার বিকাশ সম্ভব। কিন্তু  হিন্দু মহাসভা, এবং মূলত শ্যামাপ্রসাদ, বাংলা বিভাজনের দাবি তুললেন।

১৯৪৭ সালের মে মাসে লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে চিঠি লিখে বাংলা বিভাজনের প্রস্তাব দেন শ্যামাপ্রসাদ। তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তান যেমন মুসলমান রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, তেমনই ভারত হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। সে জন্য বাংলাকে দ্বিধাবিভক্ত হতেই হত, তাঁর মতে। শ্যামাপ্রসাদ হিন্দু ভারতবর্ষেরই নাগরিক হতে চেয়েছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলার নয়।

এরপর ভারত-ভাগ তথা বঙ্গ-বিভাজন ঘনিয়ে এল। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে গণভোট হল। তিনটি পর্যায়ে ভোট দানের পরে অবশেষে ২০ জুন বাংলাকে হিন্দু এবং মুসলিমপ্রধান এই দুই ভাগে ভাগ করার চূড়ান্ত প্রস্তাব নেওয়া হয়। অতএব শ্যামাপ্রসাদের কাছে বাঙালিত্বের চেয়ে হিন্দুত্বই যে বড় ছিল, তা বুঝতে বেগ পেতে হয় না।

জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে মতানৈক্য সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালের অগাস্টে স্বাধীন ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় সরকারে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে আসেন খোদ জওহরলাল নেহরুই। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গাঁধীর হত্যার পর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উপর ক্ষিপ্ত হন মন্ত্রীরা। পরের বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি হিন্দু মহাসভা এবং আরএসএসকে নিষিদ্ধ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভ ভাই পটেল( এঁকে আশ্চর্য ভাবে অ্যাপ্রোপ্রিয়েট করতে চাইছে বিজেপি, যখন কিনা সর্দার বল্লভভাই ঘৃণাই করতেন অতিহিন্দু রাজনীতিকে)। এ সময়ে শ্যামাপ্রসাদকে পাঠানো বল্লভ ভাইয়ের চিঠিতে তাঁর বিরক্তির স্পষ্ট প্রকাশ দেখা  যায়। শ্যামাপ্রসাদের গান্ধীহত্যাকারীদের প্রতি যে প্রচ্ছন্ন সহানুভূতি ছিল, তেমন অভিযোগ ওঠে কংগ্রেসের তরফে৷ তাই হিন্দু মহাসভার
‘সাবস্ক্রিপশন ড্রাইভ’ বন্ধ করা হয়।

 রক্ষণশীল হিন্দু হিসেবে, নেহরুর সংস্কারের কঠোর সমালোচক ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। কাশ্মীর প্রসঙ্গ এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের অবস্থা নিয়েও সরকারের উপরে চাপ তৈরি করেন তিনি। নেহরু-লিয়াকত চুক্তির বিরোধিতা করে ১৯৫০ সালে ক্যাবিনেট থেকে ইস্তফা দেন শ্যামাপ্রসাদ। শরণার্থীদের স্বার্থরক্ষা এবং সম্পত্তি-রক্ষা সংক্রান্ত যে আইন ছিল, তা মনঃপূত হয়নি তাঁর। আরএসএস দ্বারা প্রভাবিত শ্যামাপ্রসাদ এরপর কাশ্মীরের শেখ আবদুল্লা সরকার ও কাশ্মীরের বিশেষ পদমর্যাদা পাওয়ার  বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেন।

সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও শ্যামাপ্রসাদ আধুনিক চিন্তাধারার পথে ছিলেন প্রতিবন্ধক। নেহরুর সঙ্গে তাঁর বিবাদের আরেক কারণ হল, হিন্দু কোড বিল। নেহরু হিন্দু আইনের কিছু সংস্কার  করতে চেয়েছিলেন। যেমন বিবাহবিচ্ছেদের স্বীকৃতি দেওয়া ও এক-বিবাহ নীতি চালু করা। নেহরু ও অম্বেদকর পরিকল্পনা করেন হিন্দু কোড বিলের মাধ্যমে হিন্দু মহিলাদের ক্ষমতায়ন করা হবে। নারী-পুরুষের মধ্যে সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এই বিল। বিবাহবিচ্ছেদ না দিয়েই কোনও পুরুষ আবার বিয়ে করলে, এই বিল তাঁকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখত। এছাড়া বিলের মাধ্যমে সম্পত্তির উত্তরাধিকারে সমানাধিকার দাবি করতে পারতেন মহিলারা। এছাড়া বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা এবং বিবাহবিচ্ছেদ দেওয়ার ক্ষমতাও এই বিলে মহিলাদের দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সর্বাথেই এই বিল ছিল লিঙ্গসাম্য-পন্থী। স্বাভাবিক ভাবেই বিলের বিরোধিতা করে হিন্দু মহাসভা এবং আরএসএস। তারা একাধিক সভা করে,নেহরু ও অম্বেডকরের কুশপুতুল পোড়ায়। প্রাচীনপন্থী কিছু কংগ্রেসি নেতার সমর্থনও এক্ষেত্রে পান শ্যামাপ্রসাদ৷ শ্যামাপ্রসাদ মনে করতেন, হিন্দু সংস্কৃতির  ধারা, তার স্বাধীন স্বাভাবিক ছন্দ নাকি ধাক্কা খাবে এরকম বিল এলে৷ আজও বিজেপি একই মতাদর্শ অনুসরণ করে নারীমুক্তি-বিরোধী। এছাড়া শ্যামাপ্রসাদ ঘোর বর্ণবাদীও ছিলেন। ব্রাহ্মণ হিসেবে তিনি যে তিনি গর্বিত, তা একাধিক বার বলেছেন।

শ্যামাপ্রসাদ ১৯৫০ সালে ক্যাবিনেট ত্যাগ করার পর, ওই বছরের অক্টোবরের মধ্যেই হিন্দু মহাসভার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। আরএসএস-এর পরামর্শে তিনি ওই দলের রাজনৈতিক সংগঠন ‘ভারতীয় জন সঙ্ঘ’  প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৫১ সালে।

এরপর অতিহিন্দু শক্তির ভাবাদর্শের প্রতিনিধি হয়ে উঠলেন শ্যামাপ্রসাদ আরও বেশি করে। ৩৭০ ধারা রদ করার জন্য জনসঙ্ঘ, হিন্দু মহাসভা এবং প্রজা পরিষদের যৌথ বিক্ষোভে তিনি নেতৃত্ব দেন। কাশ্মীরে প্রচারে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন৷ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।

হেফাজতে তাঁর মৃত্যুরহস্য নিয়ে অনেক জল্পনা৷ যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুরহস্যের কিনারা হওয়া নিয়ে মতাদর্শগত বিরোধীদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের দ্বৈরথ মানুষ শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে নয়, তাঁর ঘরানার মতাদর্শের সঙ্গে। শ্যামাপ্রসাদের মতাদর্শে আজকের তারিখে ফেরত যাওয়া মানে ব্রাহ্মণ্যবাদী,গোঁড়া, পিতৃতান্ত্রিক, বর্ণবাদী ব্যবস্থায় পিছিয়ে যাওয়া।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on শ্যামাপ্রসাদের আদর্শে আত্মসমর্পণ কেন পশ্চাদপসরণ?

Leave A Comment