অমিত শাহঃ ২০১৪-র পর ‘আচ্ছে দিন’ কি শুধুই নেতাদের জীবনে?​

মতামত রাজনীতি

Last Updated on 8 months by admin

বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের জনগণের জন্য “আচ্ছে দিন”এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে কেন্দ্রে সরকার গঠন করে ভারতীয় জনতা পার্টি ও অন্যান্য দলের জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। ওই বছরেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার স্বচ্ছ ভারত অভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করে। বিজেপি দলের তাবড়-তাবড় সব নেতা-মন্ত্রীদের দিকে তাকালে আমরা দেখব ২০১৪ সালের আগেও যাদের রাজনৈতিক জীবনে স্বচ্ছতার রীতিমতো অভাব ছিল, ২০১৪-র পর তাদের জন্য সত্যিই যেন এসে গেল ‘আচ্ছে দিন’।

“স্বচ্ছ ভারত অভিযানে”র সাথে সাথে তাদের জীবন থেকে সব অস্বচ্ছতা ঘুচে যেতে শুরু করল যেন! যেমন, দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। তাঁর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগের তীরটা এসেছিল ২০১০- এ। গুজরাটে এক সন্দেহভাজন জঙ্গী সোহরাবুদ্দিন শেখ, তার স্ত্রী সহ আরো একজনকে ফেক এনকাউন্টারে হত্যার অভিযোগ ওঠে গুজরাট পুলিসের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন অমিত শাহ। তৎকালীন সিবিআই তথ্যপ্রমাণ সহ আদালতে দাবি করে যে অমিত শাহ ফেক এনকাউন্টারের কাণ্ডারি হিসাবে মূল অভিযুক্ত পুলিস অফিসারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। এই মামলায় অমিত শাহ গ্রেপ্তার হন। তিনমাস জেলে থাকার পর তাঁর জামিন হয়। অবশেষে ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অমিত শাহকে এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস করা হয়। তার জেল থেকে জামিন পাওয়া ও পরে বেকসুর খালাস হওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটা নিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন নানা জায়গায়।

২০১৩ সালে আবার এক গুরুতর অভিযোগ এসে উপস্থিত হয়েছিল শাহর জীবনে। ২০০৯ সালে গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন এক মহিলার ওপর বেআইনী নজরদারি চালানোর এই অভিযোগ যদিও তিনি আবারও “রাজনৈতিক অভিসন্ধিজনিত” বলে দাবি করেন। কোবরা পোস্ট ও গুলেইল নামের দুটি তদন্তমূলক সংবাদ সংস্থা বিস্তারিত ফোন রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ হাজির করেছিল সেই সময়। যে তথ্যপ্রমাণগুলো সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক মহিলা নাগরিকের ওপর বেআইনি নজরদারি চালানোর ইঙ্গিত দেয়। অদ্ভুত নাটকীয়ভাবে ২০১৪ সালের মে মাসেই সেই মহিলা সুপ্রিম কোর্টে এসে দাবি করেন তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ীই নাকি এই কাজ করা হয়েছিল। এই ভাবে এই মামলারও পরিসমাপ্তি ঘটে। গুজরাটে শাসনক্ষমতায় থাকাকালীন এই সব অভিযোগের বাইরেও সেই রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের ক্ষেত্রে অমিত শাহের বিশেষ ভূমিকার উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল অমিত শাহর বিরুদ্ধে যাবতীয় বড়ো মামলার পরিসমাপ্তি ঘটে ২০১৪ সালে তাঁর দল সরকারি ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সময়কালেই। যে সময়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার স্বচ্ছ ভারত অভিযানের ডাক দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই সেই দলের অন্যতম নেতার রাজনৈতিক কেরিয়ারেও অস্বচ্ছতার দাগ যেন মুছতে শুরু করলো। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার আগে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন “না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা“। অথচ, উল্লেখযোগ্যভাবে বেশ কিছু পুঁজিপতির অভাবনীয় শ্রীবৃদ্ধি ঘটে ২০১৪য় নরেন্দ্র মোদির দল সরকার গঠন করার পর। মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানীর পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে অমিত পুত্র জয় শাহের নাম উল্লেখযোগ্য। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে “দ্য ওয়ার (The Wire)” পত্রিকার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানা যায় অমিত শাহের দল ক্ষমতায় আসার মাত্র এক বছরের মাথায় তার ছেলের কম্পানি টেম্পল এন্টারপ্রাইজের সম্পত্তি বেড়ে যায় ১৬০০০ গুণ। স্পষ্টই বোঝা যায় ২০১৪-র পর দেশের জনগণের জন্য “আচ্ছে দিন” কতোটা এল তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিজেপি দলের নেতা মন্ত্রী ও তাদের ঘনিষ্ঠদের জন্য সত্যিই “আচ্ছে দিন” এসেছে।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on অমিত শাহঃ ২০১৪-র পর ‘আচ্ছে দিন’ কি শুধুই নেতাদের জীবনে?​

Leave A Comment