এপিডিআর : সম্মেলনের পর এবার কোপ প্রকাশ্য কেন্দ্রীয় সভার অনুমোদনে

আজকের খবর বিশেষ খবর রাজ্য

Last Updated on 1 month by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৯ অক্টোবর,২০২১ :

গত ২৩-২৪ অক্টোবর মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)-র ২৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার ছিল।  হুগলি জেলার শেওড়াফুলি অঞ্চলে একটি বিদ্যালয়ের সভাগৃহে এই কর্মসূচি  হওয়ার কথা ছিল। সম্মেলন শুরু হওয়ার একদিন আগে আচমকা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয় করোনা অতিমারির বিধিনিষেধের জন্য কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। এবারে প্রশাসনের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও হস্তক্ষেপ করা হল লালবাজার থেকে। এক সরকারি নির্দেশিকায় যুগ্ম পুলিস কমিশনার জানিয়েছেন এই কর্মসূচি নিলে এপিডিআর এর বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন (ডি এম অ্যাক্ট)-এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্মেলন বাতিল প্রসঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ধীরাজ সেনগুপ্তর বক্তব্য অনুযায়ী পুলিসের বয়ানে অসঙ্গতি স্পষ্ট। “তারা একবার বলছে অন্য জায়গা থেকে আপত্তি, আবার বলছে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করা হয়নি – কোনটা সত্যি?” প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই প্রসঙ্গে এপিডিআর-এর অন্যতম সহ সম্পাদক আলতাফ আহমেদের বক্তব্য, “সমস্ত কাগজপত্র নিয়ম মেনে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও শেষ মুহুর্তে অনুমোদন বাতিল করা হলো আগে থেকে কিছু না জানিয়ে। আমরা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জন বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে একের পর এক কর্মসূচি নিয়েছি বলেই রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের তরফে এপিডিআর-কে হেনস্থা করার জন্য এই পদক্ষেপ।”

শ্রীরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দিব্যেন্দু দাস আমাদের জানান, “পুলিসের তরফ থেকে প্রাথমিকভাবে বাধা আসেনি। উপযুক্ত অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে মূল অভিযোগ আসে স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতির তরফ থেকে লিখিতভাবে। এছাড়াও  পুরসভার স্থানীয় পদাধিকারীরাও জানান যে তাদেরও এ’ব্যাপারে অবহিত করা হয়নি। বর্তমানে লাগু কোভিড বিধি মেনে পুলিসের থেকেও অনুমোদন আদায়ে গাফিলতি তো ছিলই।”

এপিডিআর –এর আরেক সহ সম্পাদক ও সম্মেলন সংগঠক কমিটির অন্যতম সদস্য রাংতা মুন্সী জানিয়েছেন, “যে সভাগৃহে কর্মসূচিটি নেওয়া হয় সেটি তিনটে বিদ্যালয়ের সাধারণ চৌহদ্দির মধ্যে পড়ে। নির্দিষ্ট পরিচালন কমিটি অনুমোদন দিলেও একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাকি আপত্তি করেন বলে জানা যায়। তিনি থানায় এফ আই আর করেছেন বলেও পুলিসের দাবী। কিন্তু তার কোনও কপি আমাদের দেখাতে রাজি হয়নি পুলিস। সাধারণভাবে সভাগৃহে কর্মসূচি থাকলে পুলিসের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এক্ষেত্রে যেভাবে বাধা দেওয়া হল তা অনভিপ্রেত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

৫০ বছরে পা দিতে চলা দেশের মানবাধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ এই সংগঠন। মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে  এপিডিআর চিরকাল আপসহীন লড়াই করে শাসকদের বিরাগভাজন হয়ে এসেছে বলে  ধীরাজ সেনগুপ্তর অভিমত। সম্মেলন বাতিলের প্রতিবাদে বিভিন্ন শাখা থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসাবে ২৯তারিখ (শুক্রবার) কলেজ স্ট্রীট মোড়ে একটি সভার ডাক দেওয়া হয়। সেই সভাও প্রশাসনের নির্দেশে বাধাপ্রাপ্ত হল। এপিডিআর এর কেন্দ্রীয় সম্পাদকমন্ডলীর অন্যতম সদস্য রঞ্জিত শূরের মতে, “বিভিন্ন ছোট যে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলি সারা বছর ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি নিতো, তাদের পরিকল্পনামাফিক নিশানা করছে প্রশাসন। তাই রাজনৈতিক দলদের বাধা না দিলেও এই ধরণের উদ্যোগগুলোকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। একদিন আগেও বহরমপুরে জলাভূমি বাঁচানোর দাবিতে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সত্তরোর্ধ এক মানুষকেও যেভাবে হেনস্থা করা হল এটা তারই নিদর্শন।”

দুর্গাপূজা, নির্বাচনী ব্যাপক জমায়েত ও শাসক দল সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সভা সমিতি চললেও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি-র কর্মসূচিতে বারবার পুলিসি হস্তক্ষেপ কেন – প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

Please follow and like us:
error17
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on এপিডিআর : সম্মেলনের পর এবার কোপ প্রকাশ্য কেন্দ্রীয় সভার অনুমোদনে

Leave A Comment