মানুষের অসহায়তার সুযোগে অ্যাম্বুলেন্স-শববাহী গাড়ী-শ্মশানে ডোম সিন্ডিকেট বন্ধ হোক

আজকের খবর বিশেষ খবর মতামত

Last Updated on 4 months by admin

মানুষের অসহায়তার সুযোগে অ্যাম্বুলেন্স-শববাহী গাড়ী-শ্মশানে ডোম সিন্ডিকেট বন্ধ হোক

সমীরণ সাহা

 

করোনা ভাইরাস আজ মহামারির আকার নিয়েছে – একথা বাড়ির বাচ্চারাও জেনে গেছে। প্রিয়জনকে হারানো মানুষের হাহাকার আজ আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ আজ অসহায়তার মধ্যে রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবেও আজ সংকটের মধ্যে আমরা সবাই পড়েছি। ডাক্তার – নার্স – স্বাস্থ্যকর্মীসহ অনেকেই দিনরাত কাজ করেছেন – মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। বহু স্বেচ্ছাসেবক আজ ঝাঁপিয়ে পড়েছে মানুষের পাশে সহমর্মী হিসাবে। কিন্তু, আবার উল্টো ছবিও কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে। মানুষ আরো বিপদে পড়ে যাচ্ছে। স্বজন হারানো  এই অসহায় মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিতে ছাড়ছে না অনেকেই।

আমাদের রাজ্যে প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের দেহ সৎকারের জন্য নিদারুণ দুরাবস্থার শিকার হতে হচ্ছে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি প্রায় এক মাস আগের ঘটনা কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ তখন সবে হানা দিচ্ছে রাজ্যে। আমার মাইমা মারা গেলেন এক বেসরকারী নার্সিংহোমে করোনায় আক্রান্ত হয়ে। মারা যাওয়ার পর প্রায় ৮ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হল মরদেহ পেতে। এসডিও অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসতে এই বিলম্ব। এসডিও অফিস থেকেই শববাহী গাড়ী এল, তারা জানালো গাড়ী করে শব বহনের জন্য লাগবে বারো হাজার টাকা। নার্সিংহোম জানালো আলমবাজার শ্মশান যদি সমস্যা করে তাহলে নার্সিং হোমকে বা সরাসরি এসডিও কে ফোন করতে হবে। তারপর নার্সিংহোমর লোকেরা মাইমার দেহ গাড়ীর সামনে নামিয়ে পাঁচশো টাকা বকশিশ নিয়ে চলে গেল। শববাহী গাড়ীর দুজন লোক( একজন চালক, একজন সহকারী) মাইমার দেহ মাটি থেকে গাড়িতে তুলতে বারোশো টাকা নিলো। তারপর শ্মশানে পোঁছে আবার দরাদরি। ইলেকট্রিক চুল্লিতে যেখানে খরচ পাঁচশো টাকার মতো সেখানে আমাদের কাছে চাওয়া হলো পাঁচ হাজার। আমাদের হয়ে দরাদরি করার গুরু দায়িত্বের সিংহভাগটাই আশ্চর্য হয়ে দেখলাম শববাহী গাড়ীর দুই ব্যক্তি নিজ কাঁধে তুলে নিলেন। চার হাজারে রফা হলো। সব মিলিয়ে প্রায় আঠারো হাজার পড়ে গেল। নার্সিংহোমের ম্যানেজার ভদ্রলোকটি অবশ্য এরকম একটা আন্দাজ দিয়েই রেখেছিলেন আগে ভাগে। পরে বুঝলাম এই সবটা মিলিয়ে একটা বড় চক্র কাজ করছে।

এই ঘটনার কিছুদিন পরে আমার এক বন্ধুর মা মারা গেলেন কোভিডেই বাড়িতে। তার সাংবাদিক যোগাযোগে অঞ্চলের কাউন্সিলর এসে হাজির এবং তারাই সমস্ত ব্যবস্থা করেন কিন্তু খরচ পড়ে পনেরো হাজার। আমাদের আর এক বন্ধুর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তার এক নিকট আত্মীয় ফুলবাগানের এক নাসিং হোমে ভর্তি ছিলেন করোনা আক্রান্ত হয়ে। দিন দশেক পর তিনি মারা মারা যান। নাসিং হোমে কয়েক লক্ষ টাকা বিল মেটানোর পর ফুলবাগান থেকে নিমতলা শ্মশানে   নিয়ে যাওয়ার জন্য শববাহী গাড়ি নেয় দশ হাজার টাকা। শ্মশানে ডোমেরা চায় ছ’ হাজার টাকা। শেষমেশ চার হাজার দিতে হয়। মানুষের স্বজন হারানোর পাশাপাশি বহু মানুষ হারাচ্ছে তাঁদের শেষ সহায় সম্বলও – এইসব নিষ্ঠুর দাবির জন্য।

দিনের পর দিন ধরে এই শববাহী গাড়ী – ডোম সিন্ডিকেট বা দুষ্টু-চক্র ভালো ব্যবসা ফেঁদে বসেছে এই মহামারীর সময়ে যার মাথা কতোদূর বিস্তৃত কে জানে! এমনকি অনেক অ্যাম্বুলেন্সও এক –দু’ কিলোমিটার যেতে কয়েক হাজার টাকা দাবী করছে। রাজ্যের নতুন সরকার এই দিকটির দিকে অবিলম্বে নজর দিক, স্বজন হারানো মানুষজনের কাছ থেকে এভাবে লুটে পুটে নেওয়া বন্ধ হোক।

  • মতামত লেখকের নিজস্ব
Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on মানুষের অসহায়তার সুযোগে অ্যাম্বুলেন্স-শববাহী গাড়ী-শ্মশানে ডোম সিন্ডিকেট বন্ধ হোক

Leave A Comment