হুগলিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিবাদ সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আজকের খবর

Last Updated on 8 months by admin

  • নিজস্ব সংবাদদাতা, ৮ই ফেব্রুয়ারি: গতকাল উত্তরপাড়া গৌরী সিনেমার সামনে “ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি’র বিরুদ্ধে বাংলা” হুগলীর পক্ষে এক সাংস্কৃতিক ও প্রতিবাদী সভার আয়োজন করা হয়।

সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন গণআন্দোলনের কর্মী মোহিত রণদীপ। শুরুতেই তিনি জানান যে বাংলায় যাতে বিজেপি কোনোভাবেই বিধানসভা দখল করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার সংগঠিত হচ্ছে ও হবে সেই প্রচারের উদ্দেশ্যেই এই সভা।

সভাপতিত্ব করেন বর্ষীয়ান সাংস্কৃতিক কর্মী অসীম ভট্টাচার্য। বক্তারা ছিলেন শর্মিষ্ঠা চৌধুরী, অসিত রায় ও সুজাত ভদ্র। প্রথম বক্তা শর্মিষ্ঠা গণআন্দোলনের পরিচিত কর্মী। তিনি ভাঙ্গর আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সেই আন্দোলনে জেল খেটেছেন। তিনি বলেন যে আর এস এস বিজেপি যে হিন্দুত্বের প্রচার প্রসার ঘটাতে চাইছে তা আসলে এই দেশকে দেশের সম্পদকে কর্পোরেট কূলের হাতে তুলে দেবার তাদের প্রকল্পের একটা অংশ। আর এই প্রকল্পকে আড়াল করার জন্য হিন্দুত্ব তাদের হাতিয়ার। মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে তাদের আসল লক্ষ্য ঢাকতে চাইছে। শর্মিষ্ঠা আরো বলেন যে দিল্লির বুকে দুমাসের অধিক সময় ধরে চলা করণাকালে জারি করা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন আম্বানি আদানি আর মোদী সরকারের গাঁটছড়া স্পষ্ট করে দিয়েছে। পরের বক্তা ছিলেন বাংলার মুখ পত্রিকার সম্পাদক অসিত রায়। তিনি আরএসএস- বিজেপি কে বিশ্বব্যাপী যে ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্র চলছে তার অংশ হিসাবে চিহ্নিত করেন। সব মানুষের কাছে আবেদন রাখেন বাংলার মাটিতে বিজেপি কে পরাস্ত করার।

শেষ বক্তা ছিলেন গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের পরিচিত কর্মী সুজাত ভদ্র। তিনি বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে দেখান বিজেপি- আরএসএস জোট আমাদের ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা হাজির করে মানুষকে বিপথে চালিত করতে চাইছে। তারা স্বাধীনতা আন্দোলনের ভুল ব্যাখ্যা হাজির করছে। সাভারকার শ্যামাপ্রসাদ আসলে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন ও ব্রিটিশ শাসকদের সহযোগিতা করেছেন বিভিন্ন পর্বে। এরা আসলে গান্ধী হত্যাকারী। সুভাষ চন্দ্র যেখানে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্যের কথা বলেছেন সেখানে সাভারকার শ্যামাপ্রসাদ সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়েছেন। বাবরি মসজিদ ধংস থেকে গুজরাট দাঙ্গার রক্তে এদের হাতে লেগে আছে। এই সাম্প্রদায়িক দলটিকে আসন্ন বিধানসভা ভোটে একটিও ভোট না দেবার আবেদন জানান।

সভা শুরু হয় গন আন্দোলনের কর্মী সোমনাথের গান দিয়ে। এছাড়াও জীবনের গান পরিবেশন করেন উত্তরপাড়া ইউনিট থিয়েটারের সাথীরা। বর্ষীয়ান কবিতা লেখিকা শ্রীলা চক্রবর্তী সভায়’বেকারের চিঠি’ আবৃত্তি করেন।সভার শেষে দুটি পথনাটক পরিবেশিত হয়। প্রথম নাটকটি পরিবেশন করেন সৌমী সব্যসাচী। নাটকের নাম ভুল রাস্তা। পরের নাটকটি পরিবেশন করেন মৃত্তিকা। নাটকের নাম ভূতুরপুরের রাজা। আজকের সময়কে সহজভাবে তুলে ধরেন নাট্যকর্মীরা। গণতন্ত্রের নামে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ মানুষের রুটিরুজি কেড়ে নিচ্ছে। আবার মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সে কি পরবে, কি খাবে, সে কোন ধর্ম কিভাবে পালন করবে সব কিছুকে নিয়ন্ত্রন করবে এই ফ্যাসিবাদ। এমনকি নারীকে গৃহবন্দী করে রেখে, তার পোশাক সম্মন্ধে নির্দেশিকা জারি করছে এই ফ্যাসিবাদ। নাটকটি এই বিষয়গুলিকে সহজ ভাবে হাজির করতে সফল। অনেক মানুষ তিন ঘণ্টা ধরে চলা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on হুগলিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী প্রতিবাদ সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

Leave A Comment