বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অ্যাপোলো ফার্মাসির দোকান বসানোর সিদ্ধান্ত জেএনইউ প্রশাসনের, বিরোধ ছাত্রছাত্রীদের

বিশেষ খবর রাজনীতি

Last Updated on 9 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ৩০ ডিসেম্বর: জেএনইউ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যের কমল কমপ্লেক্স (কেসি) মার্কেটে কর্পোরেট সংস্থা অ্যাপোলো ফার্মাসিকে  দোকান খুলতে দিয়েছে আগে থেকে থাকা ক্যাম্পাসে বহুদিন থেকে থাকা একটি ওষুধের দোকানের ঠিক পাশে। জেএনইউতে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের মধ্যের দোকানগুলির টেন্ডার বণ্টন করার একটা নীতি থেকেছে। এই “প্রগতিশীল দোকান বরাদ্দ নীতি”  অনুযায়ী ক্যাম্পাসের মধ্যের বইয়ের দোকান, ধোবির দোকান, চায়ের দোকান, ওষুধের দোকান, মুদির দোকান ইত্যাদি দেওয়া হত তুলনায় দুস্থ ও অবদমিত অংশের মানুষদের, যাতে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষকশিক্ষিকা বা কর্মচারীদের সব অংশ এই পলিসি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক এক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষেবা ক্ষেত্রগুলি বিক্রি করে দিতে নেমেছে কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর হাতে। এই একই সময়ে জেএনইউ এর নানা ছোট দোকানদারকে নানারকম নোটিশ পাঠিয়ে উত্যক্ত করা হচ্ছে, লাইসেন্স রিনিউ করতে সমস্যা করা হচ্ছে, লকডাউনের পুরো সময়ে যখন সমস্ত দোকান বন্ধ আছে ৯ মাসের বেশি সময় ধরে, সেই সময়ের ভাড়া চাওয়া হচ্ছে এরকমই অভিযোগ ক্যাম্পাসের ছোট দোকানদারদের।  এর কিছুদিন আগে জেএনইউ এর ধোবির দোকান এর জন্য ‘ধোবিমার্ট’ নামে একটি চেনকে বরাত দেওয়া হয়, যারা বিরাট পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসা করতে নেমেছে।

জেএনইউ এর ছাত্রসংসদ এই ধরণের লাভের দ্বারা পরিচালিত, শোষণমূলক এবং দুর্নীতিবাজ কর্পোরেট চেনকে ক্যাম্পাসে প্রবেশকে  তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং বিশেষত প্রান্তিকের জীবনযাত্রা নষ্ট করার জন্য প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা সোচ্চার হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, জেএনইউ প্রশাসনের এই ক্যাম্পাসের বাণিজ্যিক স্থানগুলিতে কর্পোরেটের  একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তাড়াহুড়ো করে অ্যাপোলো ফার্মাসির জন্য স্থান বরাদ্দ করা সম্পূর্ণরূপে অগণতান্ত্রিক কারন জেএনইউর সমস্ত বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী ক্যাম্পাস ডেভলপমেন্ট কমিটি, এবং দোকান ও বাণিজ্যিক স্থান বরাদ্দের জন্য গঠিত সমিতির সাথে প্রশাসন কোনরূপ পরামর্শ করেনি। ছাত্রসংসদ দাবি জানিয়েছে যে, ক্যাম্পাসের জায়গাগুলিকে বেসরকারিকরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যাবে এবং সাথে প্রয়োজনীয় প্রতিনিধিত্ব সহ প্রগতিশীল দোকান বরাদ্দ নীতি এবং ক্যাম্পাস উন্নয়ন কমিটি বহাল রাখার দাবি জানায় ও অতি শীঘ্র সমস্ত ক্যান্টিনগুলি আবার চালু করার পক্ষে দাবি জানায়। জেএনইউর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাণিজ্যিক স্থানগুলির কর্পোরেশনকরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বেঁচে থাকার ইতিহাস রয়েছে।  ২০০৪ সালে কফির দোকান নেসলেকে আনার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কয়েক দফা সম্মিলিত আলোচনার পরে ছাত্র সম্প্রদায় নেসলে আউটলেটটিকে প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে মত দিয়েছিল এবং নেসলের দোকান শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বসতে পারেনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, অ্যাপোলো হসপিটালস এন্টারপ্রাইজের একটি ইউনিট অ্যাপোলো ফার্মাসি হল ভারতের স্বাস্থ্যখাতে প্রবেশকারীপ্রথম এবং বৃহত্তম ব্র্যান্ডফার্মাসি নেটওয়ার্ক, ১৮ টিরও বেশি রাজ্যে ৩০০০ এরও বেশি আউটলেট রয়েছে। এর মোট সম্পত্তির পরিমাণ কয়েকহাজার কোটি টাকা। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অসংখ্য মামলা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অঙ্গব্যবসার র‌্যাকেট, বিল মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদি সহ অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। ২০১৭ সালে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের জন্য সিবিআই তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। এর আগে ১৯৯৩ সালে অঙ্গদানের জালিয়াতির কারণে সিবিআই ওড়িশা সরকারকে অ্যাপোলো হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করতে বলেছিল।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অ্যাপোলো ফার্মাসির দোকান বসানোর সিদ্ধান্ত জেএনইউ প্রশাসনের, বিরোধ ছাত্রছাত্রীদের

Leave A Comment