প্রতীকী চিত্র

দিল্লীর এন.সি.আর-এ ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের ওপর পুলিশি হামলা

আজকের খবর

Last Updated on 8 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়া দিল্লী: কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে আজ আই.টি.ও দিল্লীর সাহীদ পার্কে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের কর্মীবৃন্দ একটি প্রতিবাদসভার আয়োজন করেছিলেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই সভা থেকে দিল্লী পুলিশ ইউনিয়নের নেতৃত্বসহ বেশ কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে গৃহবন্দী করে রেখেছে। সাংবাদিকরা এই বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে জানা যায়, দিল্লীর বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন, নারী সংগঠন, ছাত্র-ছাত্রী সংগঠন এবং গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলি যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করেছিল এবং সভার উদ্যোক্তাদের তরফ থেকেও যাবতীয় সরকারি নিয়মাবলী মেনেই সভার অনুমতি নেওয়া ছিল। তারপরেও দিল্লী পুলিশের এহেন আচরণ সকলকেই ধন্দে ফেলেছে।

সাংবাদিকরা খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন যে, ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়নস (ইফটু)-র সদস্য অনিমেষকে সভা শেষ হওয়ার পর আনুমানিক ৫ টা নাগাদ, সি.আর পার্কে তাঁর নিজস্ব বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে দিল্লী পুলিশ। অনিমেষ ও তাঁর সহযোগীরা চলমান কৃষক আন্দোলনের একেবারে গোড়ার দিক থেকেই শ্রমিকদের মধ্যেও কৃষিবিল বিরোধী বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিতে নিতে যাচ্ছিলেন।

এমনকি সিটুর অন্যতম প্রবীণ নেতা বিপিনকেও রাত ১২ঃ৩০ টা নাগাদ বাদলী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এ.আই.সি.সি.টি.ইউ এর সৌর্য্যকেও ইতিমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে

এমনকি প্রগতিশীল মহিলা সংগঠনের নেত্রী পুনম কৌশিকও যাতে কোনোভাবেই প্রতিবাদ সভায় না পৌঁছোতে পারেন তাই তাঁর বাড়ির সামনেও সকাল থেকে পুলিশি প্রহরা বসানো হয়েছে

এর আগেও গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন ইনকিলাবী মজদুর কেন্দ্রের নেতা সঞ্জয় মৌর্য্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী ওই দিন তিনি ২৬ শে জানুয়ারির কৃষক মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য সাইকেল মিছিল করে আসছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও প্রতিবাদী কৃষকরা সফলভাবেই ২৬ তারিখের মহামিছিল সংগঠিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু ২৬ তারিখের মিছিলের পরপরই কোনোরকম সরকারি প্রক্রিয়া ছাড়াই সঞ্জয়কে দিল্লী পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যারফলে অনেক শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরাই বলছেন এই ঘটনাটি আদপে গ্রেপ্তারি নয়, বরং এটি পুলিশী অপহরণের সমতুল্য।

এর মধ্যে আরও একটি খবর আমাদের সামনে আসে। যেখান থেকে জানা যাচ্ছে ২৩ বছর বয়সী নোদীপ কৌড় এবং শিভ কুমার নামক দুজন দলিত শ্রমিক সংগঠনের মহিলা কর্মীকে কার্নাল জেলে প্রায় অচেতন অবস্থাতে প্রায় ১৫ দিনের ওপর আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের ওপর মানসিক, শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এই বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে জানা যায় নোদীপ এবং শিভ গত কয়েকদিন ধরেই সিন্ধু সীমানার নিকটবর্তী কুন্ডি শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলেন। তারপরপরই বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় এবং প্রায় ১০ দিন ধরে টানা তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর পর এখন জেলবন্দী করে রেখে দিয়েছে।

কিন্তু যথেচ্ছ অত্যাচার, গৃহবন্দী বা জেলবন্দী করেও কিছুতেই সরকার আন্দোলনকারীদের দমাতে পারছে না। বরং দিল্লীতে কৃষক আন্দোলন আরও দিনে দিনে শক্তিশালী হচ্ছে এবং বিভিন্ন শ্রমিক, নারী, ছাত্রী-ছাত্র সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করছে। সেইজন্যই সাহীদ পার্কের একটা সাধারণ প্রতিবাদী সভায় ১০০ র বেশি পুলিশ মোতায়েন করে এবং সভাতে যোগ দিতে আসা কর্মীদের আটক করে সরকার আন্দোলনকারীদের মনোবলে চিড় ধরাতে চাইছে কিনা প্রশ্ন থেকেই যায়।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on দিল্লীর এন.সি.আর-এ ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের ওপর পুলিশি হামলা

Leave A Comment