আরএসএস-বিজেপি-র ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে প্রতিরোধে রাস্তায় নামছে “ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা”

আজকের খবর

Last Updated on 9 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ৬ জানুয়ারি: “ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা”-র পক্ষ থেকে আজ কলকাতার প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ (#NoVoteToBJP) বা ‘বিজেপি-কে একটিও ভোট নয়‘ স্লোগান সহ জেলায় জেলায় কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেন সংগঠনের আহ্বায়করা। “ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা”র সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়কমন্ডলীর পক্ষ থেকে কুশল দেবনাথ, সুজাত ভদ্র,অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, সুমিতা দাস, অমিতাভ ভট্টাচার্য, শংকর দাস, কস্তুরী বসু, তন্ময় ঘোষ, গৌরব মাসান্ত

উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ৪ জানুয়ারি কলকাতার ভারতসভা হলে রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও প্রতিবাদী মানুষের উদ্যোগে আয়োজিত হয় একটি মতবিনিময় ও ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি মঞ্চ গঠনের জন্য উদ্যোগ সভা। সেই সভায় বিভিন্ন বক্তা পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-বিরোধী একটি যুক্তমঞ্চ গঠন করার পক্ষে বক্তব্য রাখেন এবং সম্মিলিত মতের ভিত্তিতে গড়ে তোলেন  “ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা”।

আজকের সাংবাদিক সম্মেলনের প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয় যে “এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ এক সন্ধিক্ষণের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। জনগণের জন্য সব দিক থেকে ভয়ঙ্কর ক্ষতিকারক ও বিপজ্জনক একটি রাজনৈতিক দল বিজেপি এরাজ্যের “দখল” নিতে মরিয়া। সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশে ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তারা সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে প্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দেশের শাসকের আসনে বসেছে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে বিজেপি সরকার কর্পোরেট শক্তি ও RSS-এর আজ্ঞাবহ দাস হিসেবে জনবিরোধী সিএএ-এনআরসি-এনপিআর, কৃষি বিল, নয়া শিক্ষা নীতি, নয়া পরিবেশ নীতি, নয়া শ্রম কোড, অরণ্যবাসীর অধিকার হরণ ইত্যাদি আইন লাগু করেছে। নোটবাতিল করে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি করেছে। রেল সহ সরকারী সংস্থা ও দেশের সম্পদ বেচে দেওয়ার ব্যবস্থা পাকা করেছে। সব রকম ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে ও প্রতিবাদী মানুষদের দানবীয় কানুন ব্যবহার করে জেলে পুরেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে ভিন ধর্মে বিবাহ-সম্পর্কিত নারীবিরোধী, মুসলিমবিদ্বেষী আইন, হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থানের আধিপত্যবাদ সহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিপীড়নকে আইনি রূপ দিচ্ছে”।

এই সংগঠনের অন্যতম আহ্বায়ক কুশল দেবনাথ কেন্দ্রের বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের নানা জনবিরোধী কার্যকলাপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বক্তব্যে উঠে আসে যে আর.এস.এস-এর আজ্ঞাবহ দাস হিসাবে বিজেপি দেশজুড়ে বিভাজনের রাজনীতি বপন করে চলেছে। নানা জনবিরোধী আইন অবাধে লাগু করছে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্র ও নানা রাজ্যের সরকার। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই মঞ্চের তরফ থেকে আমরা বলছি ‘নো ভোট টু বিজেপি’ – ‘বিজেপি-কে একটিও ভোট নয়’। এই স্লোগানকে নিয়ে আমরা কলকাতার পাশাপাশি জেলায় জেলায় প্রচার চালাব”।

ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা”র  আহ্বায়কমন্ডলীর সদস্য ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সুজাত ভদ্র জানান, “ভারতবর্ষে বিজেপি একমাত্র ক্ষমতাশীন দল যার গণ-আন্দোলনের কোন ইতিহাস বা ঐতিহ্য নেই। এরা ফ্যাসীবাদী শক্তি। এরা মানবতাবিরোধী শক্তি। এই শক্তিকে আটকাতে হবে। তাই আমরা গণতান্ত্রিক মানুষ সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তুলছি ‘No Vote to BJP’।

চিত্র পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কৃষকরা আজ প্রায় ৪৫-৫০ দিন রাস্তায়। কৃষকরা আমাদের অন্নদাতা। তাদের দাবী নিয়ে দিল্লিতে এই ঠান্ডায় অবস্থান করছেন। ন্যুনতম মানবিকতা সম্পন্ন হলে কেন্দ্রের এই সরকার কৃষকদের সাথে কথা বলতো। কৃষকরা জনবিরোধী, কৃষকবিরোধী বিল প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। সরকার অনড় বিল ফেরত নেবে না বলে। আমরা কৃষকদের দাবিকে সমর্থন করছি। কৃষকবিরোধী বিজেপি-র এই বাংলায় ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই। তাই  ‘No Vote to BJP’

গণ আন্দোলনের সংগঠক শংকর দাস জানান, “ভারতের বহুত্ববাদকে ধ্বংস করতে চায় ফ্যাসিস্ত বিজেপি। গোটা ভারতের জনগণ আজ ভয়ংকর ফ্যাসিবাদী বিপদের মধ্যে পড়েছে। দিল্লির রাস্তায় অবস্থানকারী আন্দোলনরত কৃষকরা আমাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছেন – বাংলায় বিজেপি-কে একটি ভোট দেবেন না, বিজেপি আনবেন না। আমরা সেই লড়াকু কৃষকদের সম্মান জানিয়েই বলছি  – No Vote to BJP”

অন্যতম আহ্বায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, “বিজেপি ফ্যাসিস্ত। একটা বিপর্যয়ের নাম। বিজেপি ভারতের বহুত্ববাদকে ধ্বংস  করতে চায় যা সংবিধানবিরোধী। এক দেশ একই সংস্কৃতি, এক ভাষা এক পোষাক। একটা মনোলিথিক কালচার গড়ে তুলতে চায় বিজেপি। আমরা এই বিজেপি-কে তাই চাই না। তাই , No Vote to BJP”।

তথ্যচিত্র নির্মাতা কস্তুরী বসু বলেন, “এই বিজেপি NRC, NPR, CAA করে আসামে ১৯ লক্ষের বেশি মানুষকে বেনাগরিক করেছে। তারপরও তারা বলছে তারা উদ্বাস্তুদের জন্য ভালো করবে। আমি উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান। আমি জানি – আমি শুনেছি উদ্বাস্তুদের যন্ত্রণার কথা। ভারতের সংবিধানে জন্মসূত্রে যে নিশর্ত নাগরিকত্বের কথা বলা হয়েছিল তা এরা বদলে দিল! এদের আনা NRC, NPR, CAA উদ্বাস্তুবিরোধী। তাই  No Vote to BJP”।

ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, গৌরব মাসান্ত বলেন, “এই বিজেপি ছাত্রস্বার্থ বিরোধী শিক্ষা আইন নিয়ে এসেছে। শিক্ষাকে কর্পোরেটদের হাতে বেচে দিতে চায় এরা। মধ্যযুগীয় আর অবৈজ্ঞানিক শিক্ষাব্যবস্থা ফিরিয়ে আনছে বিজেপি। তাই ছাত্রস্বার্থ বিরোধী বিজেপিকে একটিও ভোট নয় – No Vote to BJP“

মঞ্চের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, “এই মঞ্চ মনে করে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশ্নে দীর্ঘস্থায়ী গণআন্দোলন ও সামাজিক নির্মাণের কাজই পারে ফ্যাসিবাদের উত্থানকে প্রতিরোধ করতে। তাই এই মঞ্চ বাংলার সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে আশু উদ্যোগ তথা দীর্ঘমেয়াদি গণআন্দোলনের উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবিরোধী গণ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার সংকল্প নিয়েছে। বাংলার যে কোনো মানুষ সহমতের ভিত্তিতে এই মঞ্চের সদস্য হতে পারবেন”।

ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা”র পক্ষ থেকে আগামী ১৩ জানুয়ারি কলকাতার মৌলালী মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জেলায় জেলায় সংগঠন গড়ে তোলা ও প্রচার চালানোর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ কলকাতায় এক বৃহত্তর সমাবেশের কথা ঘোষিত হয়েছে আহ্বায়কমন্ডলীর তরফ থেকে। এছাড়াও এই সংগঠন জনগণের ১৫ দফা দাবিসমূহ নিয়ে লাগাতার প্রচার চালাবেন জানিয়েছেন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on আরএসএস-বিজেপি-র ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে প্রতিরোধে রাস্তায় নামছে “ফ্যাসিস্ট আরএসএস-বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাংলা”

Leave A Comment