ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াইয়ের ডাক নাগরিক কনভেনশনে

আজকের খবর গণ-আন্দোলন বিশেষ খবর রাজ্য

Last Updated on 3 weeks by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২১ :

পশ্চিমবঙ্গে গত ৪ঠা জানুয়ারি এক গণ কনভেনশনের মাধ্যমে পথ চলা শুরু করেছিল “ফ্যাসিস্ট আর এস এস বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা” মঞ্চ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই কনভেনশন থেকে ওঠা আহ্বান “বিজেপিকে একটিও ভোট নয়” বা “নো ভোট টু বিজেপি” পরবর্তীকালে বেশ জনপ্রিয় স্লোগান হয়ে ওঠে। এমনকি ১০ই মার্চ মঞ্চ থেকে আয়োজিত এক মহামিছিলে এসে দেশের কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্বরাও সেই স্লোগানে গলা মেলান । সারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি বিরোধী শক্তিরা এই স্লোগান ব্যবহার করে প্রচার আন্দোলন গড়ে তোলে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফলাফলেও মনে হয় এখানকার মানুষ যেন সেই সুরেই সুর মিলিয়েছেন। এই নির্বাচনে বিজেপি ভোটে জিতে এ’রাজ্যে ক্ষমতায় আসার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়লেও, ফ্যাসিবাদের বিপদ মোটেও কমেনি বলে মনে করেন “ফ্যাসিস্ট আর এস এস বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা”-র সদস্য সমর্থকরা। এই আশংকা থেকেই মঞ্চের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করতে কলকাতার মহাজাতি সদনে এই মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয় বলে জানান উদ্যোক্তারা।

মহাজাতি সদনে আজকের সভার শুরুতে স্মরণ করা হয় শহীদ শঙ্কর গুহ নিয়োগীকে। এছাড়াও স্মরণ করা হয়  প্রয়াত শর্মিষ্ঠা চৌধুরীকে, আসামে জমিরক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত মইনুল হক, শেখ ফরিদকে। কৃষক আন্দোলনের শহীদদেরও স্মরণ করা হয়। প্রায় ৫৫০ মানুষের সমাগমে মহাজাতি সদনে এই উদ্দেশ্যে চলে সাড়ে চার ঘন্টার সভা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ যোগ দেন, বক্তব্য রাখেন সেই জেলাগুলোর ২৯ জন প্রতিনিধি এবং মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়কেরা। মঞ্চের ১৬ দফা দাবী সহ বিভিন্ন জেলায় আগে হয়ে যাওয়া আলোচনাসভা থেকে উঠে আসা ১৮ দফা প্রস্তাব পেশ করেন মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক সুজাত ভদ্র। মঞ্চের কর্মসূচি ও স্লোগান ঘিরে কিছু চলতি সমালোচনার জবাব দেন আরেক আহ্বায়ক কস্তুরি বসু। এগুলোর ওপর বক্তব্য রাখেন বাকি বক্তারা – উঠে আসে বিভিন্ন সংযোজন ও পরিবর্তনের প্রস্তাব।

বক্তব্য রাখেন গ্রামের প্রান্তিক খেতমজুরের পাশাপাশি মফস্বলের বিজ্ঞান ক্লাবের সংগঠক, শহরের বস্তিবাসী মানুষ, ছাত্র, যুব, চলচ্চিত্র নির্মাতা সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ। এমনও বক্তব্য উঠে আসে যে “ফ্যাসিস্ট আর এস এস নারী সমাজের সবচেয়ে বড়ো ক্ষতি করতে চায় তাদের শুধু সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রে পরিণত করে, তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা হনন করে।” কেউ বলেন “ধর্মে ধর্মে ভাগাভাগির রাজনীতি আমরা চাই না। তাই এদের বিরুদ্ধে একসাথেই লড়তে হবে।” উঠে আসে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিবেশের প্রশ্নে বিকল্প সামাজিক নির্মাণের চাহিদার কথা।

অনেকের বক্তব্যেই উঠে আসে মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বিকল্প হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার কথা। যদিও সব বক্তব্যের শেষে মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়কমন্ডলীর পক্ষ থেকে শংকর দাস বলেন যে মঞ্চ আপাতত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতামূলক উদ্যোগ হিসাবেই থাকবে, সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামার বাস্তবতা বা ঐক্যমত এখনই নেই। সমাপ্তি ভাষণে অন্যতম আহ্বায়ক কুশল দেবনাথ জানান “যে দলই ফ্যাসিস্টদের কর্মসূচি রূপায়ণ করতে চাইবে তার বিরুদ্ধেই রাস্তায় নামবে মঞ্চ।” UAPA, NSA, NRC, CAA, NPR, জল-জঙ্গল-জমি দখলের কর্পোরেট প্রচেষ্টা, উচ্ছেদ ইত্যাদিকে ফ্যাসিস্ট কর্মসূচির অংশ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে মঞ্চের দাবীসনদে। বলা হয় আগামী উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে যথাসাধ্য প্রয়াস করবে এই মঞ্চ। বাঁকুড়া থেকে আগত বাউল শিল্পীরা লালন নিয়ে গান বেঁধে গেয়েছিলেন সভার মাঝে এবং সভার শেষ হয় জাতি-ধর্ম ভেদাভেদের বিরুদ্ধে লালনের গান দিয়েই।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াইয়ের ডাক নাগরিক কনভেনশনে

Leave A Comment