করোনা ভাইরাস: কর্তৃপক্ষের হয়রানির অভিযোগে উত্তরপ্রদেশে ১৪ জন সরকারী চিকিৎসকের পদত্যাগ

আজকের খবর বিশেষ খবর

Last Updated on 4 months by admin

বিশেষ সংবাদদাতা, ১৭ মে,২০২১ :

যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার সরকারী হাসপাতালগুলিতে কর্মরত  চৌদ্দ জন চিকিৎসক  ইস্তফা দিয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসাবে তাঁরা জানিয়েছেন যে তাঁদের কাজে প্রশাসন অতিরিক্ত মাথা ঘামাতো। এমনকি, জেলা, মহকুমা এবং ব্লক পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে।

উন্নাওয়ের কমিউনিটি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছেন যে, বহু-স্তরীয় পর্যালোচনার নাম করে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটিয়ে করোনা রোগ বৃদ্ধির জন্য তাঁদের দায়ী করে তাঁদেরকেই ‘বধির পাঠা’ বানানোর চক্রান্ত করেছে প্রশাসন।

এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার  ১৪ জন ডাক্তারের মধ্যে একটি যৌথ পদত্যাগ পত্র স্বাক্ষর করে এবং এটি উন্নাও-এর চিফ মেডিকেল অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে এক চিকিৎসক ডাঃ শারদ বৈশ্য বলেছেন, “আমরা ২৪ ঘন্টা ধরেই কাজ করছি। কিন্তু তাও আমাদের ‘কাজ না করার’ জন্য দেগে দেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসক, অন্যান্য কর্মকর্তা, এসডিএম এবং তহশিলদার সকলেই আমাদের কাজে নাক গলাচ্ছেন – তদারকি করছেন, পর্যালোচনা করছেন। আমরা চিকিৎসকরা ও স্বাস্থ্য প্রতিনিধিদল দুপুরে বের হই, কোভিড পজিটিভ রোগীদের খোঁজখবর নিয়ে  নমুনা তৈরি করি, ওষুধ বিতরণ করি। তারপর ফিরে আসার পর আমাদের এসডিএমের কাছে পর্যালোচনার জন্য আসতে বলা হয়। ৩০ কিলোমিটার দূরে কেউ থাকলে এই রিভিউ মিটিংয়ে তাঁকে হাজিরা দিতে হয়, আবার ৩০ কিলোমিটার ফেরত আসতে হয়। আমাদের প্রমাণ দিতে হবে যে আমরা কাজ করেছি। মনে হচ্ছে যেন, আমরা কাজ করছি না।”

বৈশ্য বলেছেন, “চব্বিশ ঘন্টা কাজ করার পরেও – দেখে মনে হচ্ছে করোনা ভাইরাস আমাদের কারণেই বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি কোনও ভুল ঠিকানা বা ফোন নম্বর দেয় এমন ক্ষেত্রে  রোগীর সন্ধান করতে না পারার জন্য আমাদের দোষী করা হয়।”

ডাঃ সঞ্জীব নামে  আরেক চিকিৎসক সংবাদ মাধ্যম পিটিআইকে বলেছেন, জেলা শাসক  ও চিফ মেডিকেল অফিসার গত এক বছর ধরে মহামারীবহুল গ্রামাঞ্চলে কাজের সময় তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন।

তবে চিফ মেডিকেল অফিসার আশুতোষ কুমার পিটিআইকে বলেছেন, “আমরা একসাথে কাজ করব। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।“

উন্নাওয়ের জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে চিকিৎসকদের এভাবে পদত্যাগের প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছি। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সমস্যার সমাধান অবশ্যই করা হবে।”

তবে পদত্যাগপত্র নিয়ে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকরা করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাপারে তাঁদের কাজ চালিয়ে যাবেন – চিকিৎসার ক্ষেত্রে আপাতত কোনো শিথিলতা দেবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে যোগীরাজ্যে চিকিতসকদের ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর ঘটনা নতুন নয়। তাই চিকিৎসক মহলে ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে।

 

 

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on করোনা ভাইরাস: কর্তৃপক্ষের হয়রানির অভিযোগে উত্তরপ্রদেশে ১৪ জন সরকারী চিকিৎসকের পদত্যাগ

Leave A Comment