কোভিড-১৯ টিকার সুষম বন্টন হচ্ছে না – আশঙ্কা প্রকাশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

আজকের খবর বিশেষ খবর

Last Updated on 8 months by admin

বিশেষ প্রতিবেদন, ২০ জানুয়ারি, ২০২১: কোভিড-১৯ টিকার বন্টন নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা সামলাতে শেষমেশ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হল ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা হু। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে হু’য়ের ডিরেক্টর-জেনারেল টেডরস অ্যাডহানম ঘেবরিয়েসাস, গত ১৮ই জানুয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন টিকার বন্টন প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্ত দেশগুলোর অবস্থান ‘ব্যর্থ নৈতিক বিপর্যয়’ এর সমান এবং তিনি সমস্ত টিকা প্রস্তুত এবং বন্টনকারী দেশগুলিকে অনুরোধ করেছেন কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে।

গত সোমবার টেডরস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকায় আন্তর্জাতিক স্তরে টিকার সমবন্টন প্রক্রিয়া “অত্যন্ত ঝুঁকির” মধ্যে পড়েছে। যদিও হু সরকারিভাবে ঠিক করেছিল, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তাদের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘কোভ্যাক্স প্রজেক্ট‘ এর হাত ধরে কোভিড-১৯ টিকাকরণ আগামী মাসের মধ্যেই শুরু করে দেবে। কিন্তু এখন সমগ্র প্রক্রিয়াটাই কিভাবে এবং কোনদিকে এগোবে তা নিয়ে হু এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নিজেরাই ধন্দে পড়ে গেছেন।

এমনকি “গত বছরেই প্রায় ৪৪টি রাষ্ট্র টিকাকরণ নিয়ে হু’এর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষর করেছে এবং নতুন বছরেও ইতিমধ্যে প্রায় ১২ টি রাষ্ট্র এই চুক্তি সাক্ষর করেছে” বলে টেডরস জানান।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে “কোভ্যাক্স টিকার বন্টন প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে” বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “কোভ্যাক্স বন্টন নিয়ে বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আসলে তাদের যাবতীয় পূর্ব পরিকল্পনাকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। কোভ্যাক্স প্রোজেক্ট ঠিক করাই হয়েছিল চূড়ান্ত অনিশ্চত হয়ে পড়া বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারকে সামলানোর জন্য। কিন্তু প্রোজেক্টের সাথে যুক্ত থাকা দেশগুলোর পরস্পরের সাথে সমন্বয়বিহীন কার্যকলাপ পুরো প্রোজেক্টটার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক স্তরেও সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভাঙন তৈরি করছে।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংগঠিত হওয়া হু’এর বার্ষিক এক্সিকিউটিভ বোর্ড মিটিং এ প্রায় সকলেই একমত হয়েছেন যে “সমস্ত দেশেরই ‘আমাকেই প্রথম সুযোগ দিতে হবে’ গোছের মনোভাব তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশগুলোকে আরো বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

হু’এর একজন কর্মকর্তার মতে, “এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন বছরে কোভিড ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন অর্থাৎ কোভিড-২০ এসে উপস্থিত হওয়ায় দেশগুলির মধ্যে টিকাকরণ নিয়ে আরও হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে।

টেডরস পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সাংবাদিক বৈঠকে বলেছেন, “উচ্চ আয়ের প্রায় ৪৯টি দেশে যেখানে ইতিমধ্যেই ৩৯ মিলিয়নের বেশি টিকা পৌঁছে গেছে সেখানে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে গড়ে ২৫টি টিকাও পৌঁছানো সম্ভব হয় নি।

তিনি এই বছরের শুরুর দিকেই সমস্ত টিকা প্রস্তুতকারী এবং উচ্চ আয়ের দেশগুলোকে আবেদন জানিয়েছিলেন নিজেদের মধ্যে “দ্বিপাক্ষিক চুক্তি” বন্ধ করার জন্য কারণ তাদের এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রসঙ্ঘের-এনের যাবতীয় পরিকল্পনাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত টেডরস কোনো একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা কোম্পানিকে চিহ্নিত করে সেদিকে তাঁর অভিযোগের তীর ছোঁড়েননি।
এমনকি পিপলস ভ্যাকসিন জোট (অ্যালায়েন্স) গত ডিসেম্বরেই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, “গরিব উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনঘনত্ব উন্নত দেশগুলোর থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি হওয়া সত্ত্বেও এই দেশগুলোতে করোনা ভ্যাকসিন পৌঁছানো যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই অনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে যে উন্নত দেশগুলোতে প্রায় প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ভ্যাক্সিন সরবরাহ করার মতো অবস্থা তৈরি হয়ে গেলেও প্রায় ৬৭টা গরিব উন্নয়নশীল দেশে গড়ে ১০ জনের ১ জনও টিকা পাচ্ছে না।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on কোভিড-১৯ টিকার সুষম বন্টন হচ্ছে না – আশঙ্কা প্রকাশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

Leave A Comment