সুন্দরবনের প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষদের বাঁচানোর দাবী নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো ‘সুন্দরবন শ্রমজীবী অধিকার রক্ষা সমিতি’র

আজকের খবর বিশেষ খবর রাজ্য

Last Updated on 2 weeks by admin

সুরভী দাসের প্রতিবেদন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ : –

রায়দিঘীর কাশীনগর গ্রামে এক সাধারণ সভায় গতকাল (৫ সেপ্টেম্বর) আত্মপ্রকাশ করলো সুন্দরবন শ্রমজীবী অধিকার রক্ষা সমিতি (দঃ২৪ পরগনা)।  পেটকুলচাঁদ, কুলতলি, রানাঘাটা, রায়দিঘী, কুমরাপাড়া, জয়নগর, চীকের মোড় ,ছাতুয়া সহ সুন্দরবনের নানান প্রান্তের নানা গ্রামের প্রায় ৮০০জনকে নিয়ে হয়ে গেল এই সভা।

এই সভায় বক্তারা তুলে ধরেন সুন্দরবনের প্রকৃতি ও পরিবেশের কথা, মানুষের জীবন সংগ্রামের ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতির কথা, জলে বাঘ ও ডাঙ্গায় কুমিরের সাথে লড়াইয়ের কথা, আয়লা, আম্ফান ও ইয়াসে বিধ্বস্ত হওয়ার কথা। বছরের পর বছর নদীবাঁধ ভাঙ্নের ফলে নোনা জল ঢুকে সুন্দরবনের কৃষি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ জীবিকার সন্ধানে নিজেদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, এমনকি নিজের রাজ্য ছেড়ে তাঁরা অনেকে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে গেছেন।

সুন্দরবন শ্রমজীবী অধিকার রক্ষা সমিতি তাদের লিখিত বক্তব্যেও জানায় –  “গোটা পৃথিবী সুন্দরবনের ভৌগোলিক অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ শুধু ভারত নয়, সারা পৃথিবীর ভালো থাকার জন্য সুন্দরবনের পরিবেশ অতি প্রয়োজনীয় অঞ্চল। ভারত বহু দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে এই সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য, বহু দেশী-বিদেশী NGO, বহুজাতিক কোম্পানী সে জন্য অর্থ বিনিয়োগ করে সুন্দরবনে। তবুও এখানকার মানুষের উন্নতি আর হয় না। এখানকার ছেলেমেয়েরা মাথা উঁচু করে সমাজে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বছরের পর বছর মাথা নীচু করে দাঁড়ায় গিয়ে সরকারি বেসরকারি ত্রাণের লাইনে। এ বড় লজ্জার। ভোটবাজ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুন্দরবনের উন্নয়নের বদলে নিজেদের দলীয় মিটিং মিছিলে ভিড় বাড়ানোর কাজেই ব্যবহার করে এসেছে সুন্দরবনের মানুষকে। দুর্নীতি আর দালালচক্রর তান্ডবে সুন্দরবনের মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। সুন্দরবন সংক্রান্ত মন্ত্রক তৈরি হলেও সে দপ্তর আসলে কী কাজ করে তা চোখে দেখাই যায় না। তাই, আমাদের ভাবনায় পরিবেশের সাথে এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষেরও সার্বিক জীবনযাত্রার মান কীভাবে উন্নত করা যায় তার বিশেষ উদ্যোগ এবং চর্চার গুরুত্ব রয়েই যাচ্ছে”।

বক্তারা সুন্দরবনের মানুষের প্রতি বছরের পর বছর বঞ্ছনার কথা তুলে ধরেন। একজন বক্তা বলেন, “এইসব বঞ্চনার বিরুদ্ধে সুন্দরবনের লড়াকু মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস সুপ্রাচীন। স্বাধীনতার আন্দোলনে আপোষহীন ধারার ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল সুন্দরবনের মাটিতে। পরবর্তীকালে কৃষকদের বিদ্রোহে সুন্দরবন আলোড়িত হয়েছে। ফসলের দুই তৃতীয়াংশ দাবি নিয়ে তেভাগা আন্দোলনের উর্বর জমি ছিল সুন্দরবন। কাকদ্বীপে শহীদ হয়েছিল অহল্যা, বাতাসীরা”।

সভার সূচনা হয় অন্বেষার গান দিয়ে । সভায় সুন্দরবনের মানুষের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতি প্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।  এখানে বক্তব্য রাখেন ফিরোজ,মানোয়ার, পুলক, প্রিয়াঙ্কা, ছোটু, যমুনা হালদার, আফতাব হালদার ,প্রিয়স্মিতা, সৌরভ, কুশল দেবনাথ ও অন্যান্যরা।  সুন্দরবনের ছাত্রছাত্রীরা নানা সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। এছাড়াও লড়াইয়ের গান, স্বাধীনতার নাচ, পেটকুলচাঁদের অষ্টমী সরকারের দলের আদিবাসী নৃত্য ও গানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় সভাটি। সুন্দবনের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তাদের নিজের নিজের এলাকার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার চরম দুর্দশা, প্রতিকূলতা ,বেঁচে থাকার অদম্য লড়াই এবং প্রশাসনের ঔদ্ধত্য – দ্বিচারিতা- চোখরাঙানি সহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নিজদের দাবি রেখে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

তাঁরা মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী, পরিবেশ বান্ধব নদীবাঁধ তৈরির দাবীসহ যে দাবীগুলি তুলে ধরেছেন তা হলো –  ১) সুন্দরবনের মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে  জঙ্গল – পরিবেশ -বন্যপ্রাণী – বাস্তুতন্ত্র- ম্যানগ্রোভ ও নদী বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির দ্বারা রক্ষা করতে হবে।  ২) ম্যানগ্রোভ ও বাঁধ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য পুরনো বেলদারী প্রথার অনুরূপ সরকারি পোষ্ট তৈরি করে পর্যাপ্ত পরিমাণে লোক নিয়োগ করতে হবে। ৩) নিজের এলাকায় প্রচুর কর্মসংস্থান করতে হবে যাতে কাউকে বাধ্য হয়ে রাজ্যের অন্যত্র কিংবা ভিনরাজ্যে কাজ করতে যেতে না হয়। লাগবে সম্মানজনক মজুরি। অর্থাভাবে শিশুদের যেন স্কুল ছাড়িয়ে দিয়ে কাজ করতে পাঠাতে বাধ্য না হয় কোনো বাবা মা। কোনো মেয়েকে যেন পাচার না হয়ে যেতে হয় সুন্দরবন থেকে। ৪) কৃষিঋনের বদলে সরকারি অনুদান আরও বাড়াতে হবে । নোনা সহনশীল ফসলের বীজ সংরক্ষণের ব্যাঙ্ক বানাতে হবে। জৈব চাষে উৎসাহ দিতে হবে। ৫) সুন্দরবনকে আলাদা জেলা ঘোষণা করতে হবে ও অন্যান্য

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on সুন্দরবনের প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষদের বাঁচানোর দাবী নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো ‘সুন্দরবন শ্রমজীবী অধিকার রক্ষা সমিতি’র

Leave A Comment