২০২০ তে ইন্টারনেট ব্যানের ফলে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমান কুড়ি হাজার পাঁচশো কোটি টাকা

অর্থনীতি বিশেষ খবর

Last Updated on 9 months by admin

বিশেষ সংবাদ, ৬ই জানুয়ারি: গতবছর মোট ২১ টি দেশ নানা কারণে তাদের দেশে ইন্টারনেটকে বন্ধ করেছিল। এই বন্ধের আর্থিক প্রভাবের দিক খতিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইউরোপের একটি সংস্থা – Top10vpn; তারা দেখিয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ তালিকায় থাকা পরবর্তী ২০ টি দেশের ক্ষতির দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।

২০২০ সালে নানা জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কারণে গোটা পৃথিবীতে ভারত সবচেয়ে আর্থিক ক্ষতির সামনে পড়েছে। সব মিলিয়ে ভারতে ঐ বছর ইন্টারনেট বন্ধ ছিল ৮৯২৭ ঘন্টা। যার আর্থিক মূল্য হল প্রায় কুড়ি হাজার পাঁচশো কোটি টাকার সমান। ওই সংস্থার রিপোর্ট থেকে আরো জানা যায় যে এই পরিমান এমনকি এর থেকেও বেশি হতে পারে, এবং এই ক্ষতির আর্থিক মূল্য ২০১৯ এর ক্ষতির তুলনায় দ্বিগুণ। রিপোর্টে বলা আছে, “আগের বছরগুলোর মতোই এই বছরও ভারত যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছে, যার সংখ্যা ২০২০ তে ৭৫ বারেরও বেশি। এই পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে একেবারে বেছে বেছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাম, বা শহরের সমষ্টির সাথে সাথে নির্দিষ্ট কিছু শহর বা গ্রামকেও পরিষেবা থেকে বিচ্যুত করা হয়েছে। আমাদের এই রিপোর্টে সেইসব হিসাব করা হয়নি; এখানে শুধু বিরাট এলাকা জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের প্রভাবই বিবেচিত হয়েছে”।

রিপোর্টে কাশ্মীরে দিনের পর দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার বিষয়টি আলাদা করে উল্লিখিত হয়েছে। প্রসঙ্গত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার দিন থেকে, অর্থাৎ আগস্ট ২০১৯ থেকেই সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। ২০২০র মার্চ মাসে তা আংশিক চালু হলেও 2g পরিষেবা ছাড়া কিছু চালু হয়নি। এই পুরো ঘটনাটিকে রিপোর্টে “কোনো গণতন্ত্রে দীর্ঘতম ইন্টারনেট বন্ধ” বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বলা হয়েছে, “ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ফলে ওষুধের বিতরণ, ব্যবসাবাণিজ্য, স্কুল কলেজের পড়াশোনা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ”। ট্রাই এর ৩১ শে অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীর সার্কেলের ওয়্যারলেস টেলিকম পরিষেবার গ্রাহক সংখ্যা ১১৭ লক্ষ। জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি যেখানে যেখানে আঞ্চলিকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলি হল অরুনাচল প্রদেশের নানা জায়গা, যেমন লোয়ার সুবানসিরি, আপার সুবানসিরি, লোয়ার দিবাং উপত্যকা, লোহিত, তিরাপ, চাংলাং, ইটানগর রাজধানী অঞ্চল, পাপুম পারে, তাওয়াং, পূর্ব কামেং, পশ্চিম কামেং, পূর্ব সিয়াং, পশ্চিম সিয়াং, লেপারদা এবং লোয়ার সিয়াং, এছাড়াও মেঘালয় এর নানা অঞ্চল।

সফটওয়্যার ফ্রিডোম ল সেন্টার  সংস্থার আইনি অধিকর্তা প্রশান্ত সুগঠন বলেন, “ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা যেহেতু বেড়ে গেছে, তাই যখন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন নানা রকমের জরুরি পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যায়। গতবছর মে মাসে হুগলিতে ৬ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল, এবং তখন ছিল করোনা অতিমারির সর্বোচ্চ বিস্তারের সময়। মানুষ সেইসময় কাজ হারাচ্ছিলেন, আইনজীবীরা আদালতের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারছিলেন না, যেসন মানুষ অনলাইন ওষুধের দোকানের ওপর নির্ভরশীল, তাঁরা ওষুধ আনাতে পারেননি, এবং ছাত্রছাত্রীরা তাদের ক্লাসও করতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, ভারতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের  সামগ্রিক ও সম্পূর্ণ প্রভাব সঠিকভাবে জানার জন্য কোনো গ্রাহ্য পদ্ধতিও নেই। সবটাই চূড়ান্তভাবে আঞ্চলিক স্তরে ঠিক হয়”

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on ২০২০ তে ইন্টারনেট ব্যানের ফলে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমান কুড়ি হাজার পাঁচশো কোটি টাকা

Leave A Comment