Home>বিভাগ-বহির্ভূত>ফেসবুক ও বজরং দল

17ই ডিসেম্বর 2020(4PM) , নিজস্ব সংবাদদাতা

গতকাল, অর্থাৎ ১৬ই ডিসেম্বর তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির প্যানেল ফেসবুক ইন্ডিয়ার প্রধান অজিত মোহনের তীব্র সমালোচনা করে ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল এ প্রকাশিত ফেসবুকের অন্তর্বর্তী গোপন রিপোর্টে বজরং দলকে “ভয়ঙ্কর” বলে অভিহিত করা সত্ত্বেও এই দলকে ফেসবুক থেকে ব্যান করার ক্ষেত্রে তাদের অনীহার কারণে। নিজেদেরই অন্তর্বর্তী রিপোর্টকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে বিগত পাঁচ মাসে সংসদীয় কমিটি এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ফেসবুককে তিরষ্কার করল। প্রশ্নটি প্রথম উত্থাপন করেন শশী থারুর, কার্তি চিদাম্বরম আর নাসের হুসেন। এই কমিটির প্রধান হলেন শশী থারুর; তাঁর নেতৃত্বে এই সংসদীয় কমিটি ফেসবুকের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করেন এবং ফেসবুকে নাগরিকদের অধিকারের সুরক্ষা, অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলির অপব্যবহার আটকানো এবং অনলাইনে নারীসুরক্ষা বিষয়ে ফেসবুক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চান। পাশাপাশি ওই অন্তর্বর্তী রিপোর্টের কথা তুলে তাঁরা জানতে চান ওই রিপোর্টে বজরং দলকে “ভয়ঙ্কর” বলা হলেও কেন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সংসদীয় কমিটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে এ-ও জানতে চায় যে, যেসব ফেসবুক পোস্ট ঘৃণা ছড়ায় (হেট স্পীচ) , কেন ফেসবুক নিজেই সেইসব পোস্টকে তুলে নেবে না। কেউ সেই পোস্ট সম্পর্কে যখন অভিযোগ করবে, তারপর ফেসবুক সেই বিষয়টা খতিয়ে দেখবে – এমন হলে তো সেই পোস্টের প্রাথমিক উদ্দেশ্য সফল হয়েই যাবে। অন্যান্য আলোচনার মধ্যে ওই সংসদীয় কমিটি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে তাদের অভিযোগ-নিষ্পত্তির গোটা প্রক্রিয়াটি আমেরিকার পরিবর্তে ভারতে সম্পন্ন করার কথাও বলেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা ফেসবুক ইন্ডিয়ায় কর্মরত মোট ২৬৮ জন কর্মীর বিষয়েও জানতে চান, বিশেষত তাঁরা কোন পরিমণ্ডল থেকে এসেছেন ইত্যাদি। এরপর তাঁরা ফেসবুকের নানা পোস্টের রিচ নিয়েও কথা বলেন। তাঁরা প্রশ্ন করেন, কেন সরকার-বিরোধী পোস্টের রিচ কমিয়ে দেওয়া হয়, এবং সরকারি কার্যকলাপের সমর্থনে করা পোস্টের রিচ বেড়ে যায়। কেন এক্ষেত্রে ফেসবুক নিরপেক্ষ নয়, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী ফেসবুকের একটি আভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে জানানো হয় যে বজরং দল নামক উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলটি ভয়ানক এবং দলটি সম্পর্কে সাবধানও করা হয় সেই মূল্যায়নে। গত ১৪ই ডিসেম্বর তারিখে ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল রিপোর্ট পেশ করে যে ফেসবুক এই দলটিকে তাদের সামাজিক মাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে চাইছে না। তার কারণ হিসাবে তারা অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সুরক্ষাজনিত বিষয়কে কারণ হিসাবে দেখাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে ফেসবুকের সুরক্ষা টিমের একটি সাবধানবাণী। সেখানে বলা হয়েছে, এই বজরং দলকে যদি ফেসবুক থেকে ব্যান করা হয় কিংবা এদের বিরুদ্ধে অন্য কোনোরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয় তাহলে ভারতে ফেসবুকের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং তাদের কর্মীদের সুরক্ষা – উভয়ই বিপদের মুখে পড়বে।

যদিও ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন ফেসবুকের বিরুদ্ধে এই সব অভিযোগকেই খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ফেসবুক থেকে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনকে ব্যান করার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব একটি অতন্দ্র পদ্ধতি রয়েছে, যা কিনা খুবই কার্যকরী এবং তা সব দিক দেখে বিচার করে। এই পদ্ধতি এমন একটা নীতির ওপর দাঁড়িয়ে, যা গোটা পৃথিবীজুড়েই একইরকম মানের, এবং কোন ব্যক্তি বা সংগঠন কোন রাজনৈতিক মতবাদের অনুগামী বা কোন রাজনৈতিক দলের অনুগামী, তার ওপর নির্ভরশীল নয়। আর, অজিত মোহন তো ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে প্রকাশিত ওই অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টকে “ফেক” বলে উড়িয়েই দিয়েছেন। ফেসবুক ইন্ডিয়াকে ঘিরে বিতর্ক কিন্তু এই প্রথম নয়। আগস্ট মাসে ফেসবুকের তৎকালীন দক্ষিণ এশিয়ার নীতি নির্ধারণ বিষয়ক ডিরেক্টর আঁখি দাস তেলেঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিংকে ফেসবুক থেকে ব্যান করতে বাধা দেন, এবং কারণ হিসাবে দেখান যে এর ফলে ভারতে ফেসবুকের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতির মুখে পড়বে। যদিও প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে আঁখি দাস অক্টোবর মাসে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেন, এবং টি রাজা সিংকে চিরকালের জন্য ফেসবুক থেকে ব্যান করা হয় তাঁর বিতর্কিত ও ঘৃণা-উদ্রেককারী পোস্টের (হেট স্পীচ) জন্য। আঁখি দাসের জায়গাতেই আসেন অজিত মোহন। কিন্তু সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
error

Enjoy this website? Please spread the word :)