শীর্ষ আদালত দ্বারা গঠিত কমিটির প্রতি অনাস্থা আন্দোলনরত কৃষকদের: কৃষকদের দাবি – কমিটির চার সদস্য কৃষি আইনের সমর্থক

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 8 months by admin

১২ জানুয়ারি, বিশেষ সংবাদদাতা : সর্বভারতীয় কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি এক বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা গঠিত কমিটিতে নির্বাচিত চারজন সদস্যকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “এটা স্পষ্ট যে কমিটি গঠন এক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। আদালত কর্তৃক মনোনীত চার সদস্য নতুন তিনটি কৃষি আইনকে সমর্থনের জন্য পরিচিত এবং সক্রিয়ভাবে এই নয়া আইন প্রয়োগের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে”।

নতুন কৃষি আইন নিয়ে চলমান অচলাবস্থা দূর করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিনটি কৃষি আইনের প্রণয়নকে স্থগিত করেছে এবং পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমরা একটি কমিটি গঠন করব যা আমাদের কাছে একটি রিপোর্ট জমা দেবে… সমস্যা সমাধানে সত্যিকারের আগ্রহী প্রত্যেক ব্যক্তি কমিটির কাছে গিয়ে মত প্রকাশ করবে আশা করা হচ্ছে। কমিটি আপনাকে শাস্তি দেবে না বা কোনও নির্দেশ দেবে না। কমিটি শুধুমাত্র আমাদের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে,” ভারতের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, এ এস বোপান্না এবং ভি রামসুব্রাহ্মণিয়ামের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছেন।

গতকালই সর্বভারতীয় কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি  জানিয়ে দিয়েছিল যে তারা এই কমিটিতে থাকতে পারবে না বা কমিটির সামনে কোনও মতামত নিয়ে হাজির হবে না। কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, “আমরা সর্বসম্মতভাবে কোনও কমিটির সামনে যাওয়ার মত নেই। সরকারের অনড় মনোভাবের কারণে আজ মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা কমিটি নিযুক্ত হতে পারে”। সুপ্রিম কোর্ট আজ চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি।

শীর্ষ আদালত কর্তৃক গঠিত কমিটির চার সদস্য:

ভূপিন্দর সিং মান

গুজরানওয়ালায় (বর্তমানে পাকিস্তানে) জন্ম, ভূপিন্দর সিং মান ১৯৯০ সালে রাজ্যসভায় মনোনীত হন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদের উচ্চ সভায় সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি সর্বভারতীয় কৃষাণ সমন্বয় কমিটির (এআইকেসিসি) অন্তর্ভূক্ত ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) সভাপতি। ভূপিন্দর সিং মানের নেতৃত্বে গত ১৪ ডিসেম্বর এআইকেসিসি তিনটি নতুন কৃষি আইনকে সমর্থন করে, কৃষি ভবনে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিল। সেদিন ভূপিন্দর সিং মান সামান্য কিছু সংশোধন করে তিনটি নয়া কৃষি আইন কার্যকর করার দাবিতে একটি স্মারকলিপি কৃষিমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

অনিল ঘনওয়াত

অনিল ঘনওয়াত বর্তমানে মহারাষ্ট্র ভিত্তিক ইউনিয়ন শেটকারি সংগঠনের সভাপতি, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কৃষক নেতা শরদ যোশির নেতৃত্বে। সংগঠনটি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত নতুন কৃষি আইনকে সমর্থন জানিয়েছিল গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। কয়েকজন কৃষককে নিয়ে ইউনিয়নটির নেতৃত্ব কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমারের সাথে দেখা করেছিল যে কৃষি আইন নিয়ে লক্ষ লক্ষ কৃষক দিল্লির সীমান্তে বিক্ষোভ করছেন, সেই নয়া কৃষির আইনের প্রতি সমর্থন জানাতে। ঘানওয়াত বলেন যে সরকারকে প্রয়োজনীয় পণ্য আইন যা কৃষকদের শোষণ করে, তা বাতিল করতে হবে। পাঞ্জাবের কৃষকদের অবশ্যই সরকারের সাথে আলোচনা করতে হবে এবং আন্দোলন প্রত্যাহার করতে হবে। ঘানওয়াতের মতে, আইনটি রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কৃষি উৎপাদন বিপণন কমিটি (এপিএমসি)-কে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কৃষকদের জন্য প্রকৃত মুক্ত বাজার দিতে পারে। “মাত্র কয়েকজন ব্যবসায়ী কৃষি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। এখন বাজারগুলি উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথে আমরা আশা করি নতুন ও বড় ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় প্রবেশ করবে। এটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতায় সহায়তা করবে …”। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরের সাথে বৈঠকের পর ঘানওয়াত বলেছেন, “মাত্র দুটি রাজ্যের কৃষকদের চাপের কাছে নতি মেনে যদি কেন্দ্রীয় সরকার এই আইনটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে কৃষিক্ষেত্রে উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতির সমাপ্তি হবে“।

ড. প্রমোদ কুমার জোশী

১৯৫৩ সালে উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ায় জন্মগ্রহণকারী, ড. প্রমোদ কুমার জোশী কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে একটি পরিচিত নাম। জোশি এর আগে হায়দ্রাবাদ জাতীয় কৃষি গবেষণা ম্যানেজমেন্টের ডিরেক্টর এবং নয়াদিল্লিতে জাতীয় কৃষি অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেছিলেন। নতুন দিল্লিতে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা সংস্থার প্রধান (দক্ষিণ এশিয়া) পদেও ছিলেন জোশী। ড. যোশী নয়া কৃষি আইনের পক্ষে কলম ধরেছেন। The Financial Express-এ তিনি লিখেছিলেন (১৫ ডিসেম্বর,২০২০) বর্তমানে নতুন কৃষি আইনের বিরোধিতা করে চলমান কৃষক আন্দোলনের বিরুদ্ধে। এই আন্দোলনকে তিনি বিপথগামী বলে মনে করেছেন।

অশোক গুলাতি

একজন বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ, গুলাতি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভারতীয় কাউন্সিলের (Indian Council for Research on International Economic Relations – ICRIER) কৃষির অধ্যাপক। তিনি ভারত সরকারের কৃষি ব্যয় ও মূল্য কমিশন (সিএসিপি) এর চেয়ারম্যানও (২০১১-১৪) ছিলেন। গুলাতি প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের কনিষ্ঠ সদস্য এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং কর্ণাটকের রাজ্য পরিকল্পনা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। তার অবদানের জন্য ২০১৫ সালে গুলাতিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পদ্মশ্রী পুরষ্কারে ভূষিত করেছিলেন। সর্বভারতীয় এক ইংরাজি দৈনিক The Indian Express (১অক্টোবর,২০২০)-এ কেন্দ্রের নয়া কৃষি বিল এক সঠিক পদক্ষেপ বলে তিনি লিখেছিলেন। লিখিত সেই কলামে, গুলাতি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক সদ্য প্রণীত আইন ও তার সুবিধাগুলি সম্পর্কে কৃষকদের ব্যাখ্যা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র এক যোগাযোগ ব্যর্থতা বলে মত প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সম্পূর্ণভাবে কৃষিক্ষেত্রে খোলা অর্থনীতির পক্ষে বলে জানা যায়।

বর্তমানে চলা আন্দোলনের সমর্থক অনেকে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আপাতভাবে নিরীহ মনে হলেও এর মধ্যে অনেক জটিলতা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই চারজন সদস্যের নিয়োগকে তাঁরা ঘুরিয়ে নয়া কৃষি আইন প্রণয়ন করার উপায় হিসাবে দেখছেন। এটাকে তাঁরা কেন্দ্র সরকারের চক্রান্ত বলে মনে করছেন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on শীর্ষ আদালত দ্বারা গঠিত কমিটির প্রতি অনাস্থা আন্দোলনরত কৃষকদের: কৃষকদের দাবি – কমিটির চার সদস্য কৃষি আইনের সমর্থক

Leave A Comment