গোয়ালিয়রে বন্ধ হল “গডসে জ্ঞানশালা”

বিশেষ খবর রাজনীতি

Last Updated on 8 months by admin

মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে চালু হওয়া গডসে জ্ঞানশালা ১৪৪ ধারা জারি করে বন্ধ করে দিলেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিক। গত ১৩ই জানুয়ারির ঘটনা। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে মাত্র দুদিন আগেই এই পাঠাগার উদ্বোধন করেছিল হিন্দু মহাসভা। উদ্দেশ্য ছিল, মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসে-র জীবনদর্শন নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রচার করা। সাথে সাথেই এই প্রচারকার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে এই পাঠাগারে এমন কিছু স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে ইতিহাসকে বিকৃত ও একরৈখিক আকারে দেখানো হয়েছে। স্বাধীনতার সময় দেশভাগের জন্য গান্ধীজীকে দায়ী করা এবং সে কারণেই জাতির জনকের হত্যাকারী গডসে কে ‘অখন্ড ভারত’ রচনার অগ্রদূত আকারে দেখানোর প্রয়াস সবদিনই ছিল আর.এস.এস এর। হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে সেই চিন্তনেরই উদযাপন চলছিল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি কেন্দ্রে আসীন হওয়ার বছরেই হিন্দু মহাসভা ২ রা অক্টোবর গান্ধী জন্ম জয়ন্তীকে ‘ধিক্কার দিবস’ হিসেবে এবং ৩০শে জানুয়ারি যেদিন গান্ধীহত্যা হয়েছিল সেই দিনটিকে ‘অনন্য দিবস’ হিসেবে পালন করে।২০১৬ সালে হিন্দু মহাসভার উত্তরপ্রদেশ শাখার তৎকালীন সভাপতি যোগেন্দ্র বর্মা মীরাটে গোডসের একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করেন। সে নিয়েও সারা দেশের শিক্ষিত মহলে অনেক সমালোচনার ঝড় ওঠে। ২০১৭ তে হিন্দুমহাসভার বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর করাও হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনায় যেখানে সরাসরি গান্ধীজীর চরিত্রকে হীন অর্থে জনমানসে প্রতিপন্ন করার প্রচারকাজ চালানোর উদ্যোগ চলছিল, সেখানে প্রশাসনিক কোনও পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি একমাত্র প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে উদ্যোগটিকে স্থগিত করা ছাড়া।

ঐতিহাসিকভাবেই ভারতে আর.এস.এস এর পথচলা এবং গান্ধীবাদের বিস্তার এর মধ্যে সরাসরি বিরোধ ও বৈপরীত্য আছে। প্রথমটি ফ্যাসিস্ট দ্বিতীয় ধারাটি খানিক সমাজবাদী হলেও গোপালকৃষ্ণ গোখলের মতাদর্শের অনুসারী হয়ে গান্দীজীর নিজেরই নামাঙ্কিত ‘গান্ধীবাদ’ নামেই বেশী জনপ্রিয়। তাঁর ‘অহিংসা’ ও ‘সত্যাগ্রহ’ ভারতবর্ষের বহু মানুষকে রাজনীতির প্রাঙ্গনে নিয়ে এসেছিল। তাঁর মতে নিরস্ত্র ভারতবাসীর পক্ষে ব্রিটিশদের মত ক্ষমতাসম্পন্ন রাজত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে জেতা সম্ভব ছিল না, তাই তিনি নৈতিক শক্তির ওপর ভর করে ভারতবাসীর অধিকার ও সম্মান রক্ষার আন্দোলনে গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। এই মতাদর্শ হিন্দু মুসলিম ঐক্য আন্দোলন ও হিন্দু ধর্মের মধ্যেই জাতপাত বিরোধী আন্দোলনকে প্রশ্রয় দেয়, যা স্বাভাবিকভাবেই আর.এস.এস এর যে মূলগত চাহিদা অর্থাৎ ‘হিন্দুরাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার ভাবনার পরিপন্থী। তারওপর স্বাধীনতা পরবর্তী দাঙ্গা অতিক্রম করেও কেন্দ্রে জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা ও একই সাথে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রের পরিচিতি ও গান্ধীর জনপ্রিয়তা আর.এস.এস এর কাছে ভয়ানক পরাজয় আকারেই পরিগণিত হয়। ফলে আর.এস.এস বিভিন্নভাবে বহুদিন ধরেই গান্ধীর ইতিহাসকে অবমূল্যায়িত করে দেখানোর এবং তাঁর পক্ষে জনসমর্থনের চেষ্টা করছে। আজকের বিজেপি শাসিত ভারতে গোডসের মূর্তি কিংবা গোডসের নামের পাঠাগার আসলে সেই চেষ্টারই ফলাফল।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on গোয়ালিয়রে বন্ধ হল “গডসে জ্ঞানশালা”

Leave A Comment