বিএসএনএল-এর ঠিকা শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় কলকাতা হাইকোর্টের

আজকের খবর গণ-আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 6 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৩ মার্চ,২০২১ :

 

বিএসএনএল এর ঠিকা শ্রমিকদের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে “কন্ট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন অফ বিএসএনএল (কলকাতা টেলিফোন)” এর তরফ থেকে একটি রীট পিটিশন করা হয়। ২০১৯ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর ঠিকা শ্রমিকদের বিষয়ে বিএসএনএল কর্পোরেট অফিসের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে এই ইউনিয়নটি। প্রথম দফায় বিচারক এই মামলাটিকে শ্রম ট্রাইবুনালে যাওয়ার যোগ্য ঘোষণা করে মামলাটিকে সেখানেই স্থগিত করেন। পুনরায় “কন্ট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন অফ বিএসএনএল (কলকাতা টেলিফোন)” ডিভিশন বেঞ্চের কাছে মামলাটির পুনর্শুনানির জন্য আবেদন করে। অরিন্দম সিনহা ও শুভ্রা ঘোষের এজলাসে গত ৪ঠা মার্চ এই আবেদনের সপক্ষে রায় দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের এই রায় প্রসঙ্গে ইউনিয়নের সভাপতি অমিতাভ ভট্টাচার্য জানালেন, “এই ঠিকা শ্রমিকরা বিএসএনএল তৈরি হওয়ার পূর্বে সরকারের টেলিকমিউনিকেশনস বিভাগে ক্যাজুয়াল শ্রমিক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৪ সালে এনাদের মধ্যে কয়েকজনের চাকরি স্থায়ী হলেও বেশিরভাগ জন বিএসএনএল (কলকাতা টেলিকমস) এর ঠিকা শ্রমিক হিসাবে রয়ে যান। অথচ, ২০০২ এর ৫ই ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল বিশেষ পাঁচটি কাজে ঠিকা শ্রমিক রাখা হবে না। এই কর্মীরা সেই বর্গভুক্ত কাজগুলোর সাথে যুক্ত থাকলেও তাদের কোনও সুরাহা হয় না। ২০১৩ সালে স্থায়ীকরণের দাবীতে তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন। কিন্তু, সাময়িক মজুরী বৃদ্ধির মাধ্যমে সেই আন্দোলনকে তখন থামিয়েছিল বিএসএনএল কলকাতা টেলিফোন কর্তৃপক্ষ।”

২০১৯ সালে একটি অফিস অর্ডারে বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ “ব্যয়সংকোচ” এর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।  তাতে প্রতিটা সার্কেলকে নির্দেশ দেওয়া হয় ৫০ শতাংশ ব্যয়সংকোচের নির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করতে হবে। বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রের ঠিকা শ্রমিকদের জন্য নো-ওয়ার্ক-নো-পে সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমেই এই ব্যয়সংকোচের নিদান দেয় বিএসএনএল এর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশের মাধ্যমে আসলে “সার্ভিস লেভেল অ্যাগ্রিমেন্ট” (SLA)-র মাধ্যমে ঠিকা প্রথা চালানোকেই শিলমোহর দেওয়া হল বলে অভিযোগ করেন কলকাতা টেলিফোনের ঠিকা শ্রমিকদের ইউনিয়ন “কন্ট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন অফ বিএসএনএল”।

‘কন্ট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন অফ বিএসএনএল (কলকাতা টেলিফোন)’ ২০১৯-এ  তৈরি করেন কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নগুলো থেকে বেরিয়ে এসে। তখন থেকেই বিএসএনএল কলকাতা টেলিফোনের ঠিকা শ্রমিকদের নিয়ে এস এল এ প্রথার বিরোধিতা সহ অন্যান্য দাবিদাওয়ায় অবস্থান, অনশন, মিছিল ইত্যাদির মাধ্যমে আন্দোলন করে চলেছে ইউনিয়নটি।  এই ইউনিয়নটির করা মামলার ভিত্তিতে ডিভিশন বেঞ্চের ৪ঠা মার্চের রায়তেও উল্লেখ করা হয় যে ২০১৯ এর এই অর্ডারটি ২০০২ এর ভারত সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তির সাথে পরস্পরবিরোধী, তাই এটি শ্রম ট্রাইবুনালে যাওয়ার বিষয় নয়। প্রথম আদালতেই এর নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। ততদিন অব্দি অফিস অর্ডারটির ওপর স্থগিতাদেশ জারী করেছে আদালত।  অমিতাভ ভট্টাচার্য জানান, “ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ঠিকা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ চালাচ্ছে বিএসএনএল। ঠিকা শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলতে গেলে বলছে আর্থিক দুরবস্থার কথা। আর কোনও যুক্তি তাদের কাছে নেই। শ্রমিক, কর্মচারীদের ওপর ব্যয়সংকোচের খাড়া নামানো হচ্ছে, অথচ বিএসএনএল এর মতো সরকারী সংস্থার মানোন্নয়ন ও আর্থিক লাভের কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের।”

প্রায় এক দশক ধরেই বিএসএনএল সংস্থা ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৩৯০০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে এই সংস্থার। তার ঠিক এক বছর আগেই প্রায় ১৫০০০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল বিএসএনএল। এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক ক্ষতির বোঝা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনাহীনতা ও বেসরকারিকরণের নীতিকেই দায়ী করছেন শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠকেরা।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on বিএসএনএল-এর ঠিকা শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায় কলকাতা হাইকোর্টের

Leave A Comment