বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে আরো নীচে নেমে গেল ভারত

আজকের খবর পর্যালোচনা বিশেষ খবর

Last Updated on 1 month by admin

 

বিশেষ প্রতিবেদন, ১৫ অক্টোবর :

গতকাল বিশ্বের ক্ষুধা সূচক (Global Hunger Index) প্রকাশিত হয়েছে। যৌথভাবে এই সূচক তালিকা প্রস্তুত করেছে জার্মানির সংস্থা ‘ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে’ ও আইরিশ ত্রাণ সংস্থা ‘কনসার্ন ওয়ার্লড ওয়াইড’। তাতে দেখা গেছে  প্রতিবেশী দেশ মায়ানমার (৭১),বাংলাদেশ (৭৬), নেপাল (৭৬) এবং পাকিস্তানের (৯২) থেকে নীচে রয়েছে ভারত। যদিও এই প্রতিবেশী দেশগুলিও ক্ষুধার নিরিখে ভয়াবহ জায়গায় রয়েছে। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ১০১ তম স্থানে নেমে গেল ভারত। গত বছর ভারত ছিল ৯৪তম স্থানে।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক দেখা হয় কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তারমধ্যে চারটি বিষয়ের উপর জোর দিয়ে তৈরি হয় এই সূচক। সেগুলি হল সামগ্রিক অপুষ্টি, শিশু অপচয় (Wasting) (পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে যাদের উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, তীব্র অপুষ্টি রয়েছে), শিশুর বৃদ্ধি স্টান্টিং (পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা যাদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম, বৃদ্ধি অত্যন্ত ধীর, দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির প্রতিফলন), শিশু মৃত্যুহার (পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার)। ভারতে বিশ্বব্যাপী শিশু অপচয়ের হার সবচেয়ে বেশি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষুধা ও অপুষ্টির নিরিখে তৈরি এই সূচকে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে চিন, কিউবা, চিলি, ব্রাজিল, কুয়েত, এস্তোনিয়া সহ ১৮টি দেশ। ৫-এর নীচে আছে তাদের জিএইচআই স্কোর। নেপাল, বাংলাদেশ, মায়ানমার, পাকিস্তান ভারতের চাইতে উপরে থাকলেও তারাও ভারতের মতো ‘উদ্বেগজনক’ অবস্থায় রয়েছে। সামগ্রিক ভাবে বিশ্বজুড়ে খিদের সঙ্গে  লড়াই মোটেও ভালো অবস্থায় নেই। সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, আফগানিস্তান, অ্যাঙ্গোলার মতো বেশ কিছু দেশ ক্ষুধার নিরিখে ‘বিপজ্জনক’ অবস্থানে রয়েছে।

গত বছর অক্টোবরে ‘হাঙ্গার ওয়াচ’ প্রকাশিত একটি  রিপোর্ট অনুসারে ভারতের অপুষ্টি ও ক্ষুধা সম্পর্কিত  কিছু তথ্য উঠে এসেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল যে দেশব্যাপী কোভিড -১৯-এর ফলে পূর্ণ লকডাউন শেষ হয়ে ধীরে ধীরে আনলক পর্বের পরেও দরিদ্র এবং সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর মধ্যে ক্ষুধা সূচকটি মারাত্মকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

কয়েকটি একই ধরণের বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে ‘খাদ্য সুরক্ষা অধিকার অভিযান’ করে এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করে ১১ টি রাজ্যে সমীক্ষা চালিয়ে। রাজ্যগুলি হল উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু। সমীক্ষা চালানো মোট মানুষের ৫৫ শতাংশ গ্রামাঞ্চলের ও ৪৫ শতাংশ শহরাঞ্চলের। যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তারা মূলত তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, অন্যান্য পিছিয়ে পড়া জাতি এবং মুসলিম সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

অনুসন্ধানে ৬৪% মানুষ বলেছে যে তাদের ডাল জাতীয় শষ্য ব্যবহার কমে গেছে,৭৩% বলেছেন তাদের সবুজ শাকসব্জির ব্যবহার আগের চাইতে কমে গেছে। সমীক্ষার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “প্রায় ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতাদের লকডাউনের আগে কখনও খাবার এড়িয়ে যেতে হয়নি। ২৭ শতাংশ উত্তরদাতারা বর্তমানে না খেয়ে ঘুমাতে যান।“ রেশন কার্ড বহু মানুষের ক্ষেত্রে অকার্যকরী হয়ে পড়ে আছে। রেশন কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সুরক্ষার বিষয়ে বহু মানুষের কোণো ধারণাই নেই। সরকারের দিক থেকে এ বিষয়ে সচেতন করার কোনোরকম উদ্যোগও দেখা যায় নি।

প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদী ও তার দলের মডেল রাজ্য গুজরাটে, খাদ্য সুরক্ষা অধিকার অভিযান পরিচালিত সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ২০.৬% পরিবার প্রায়ই বাড়িতে খাবার না থাকায় খাবার এড়িয়ে যায় এবং ২৮% মানুষ বলেন যে তাঁরা খাবার ছাড়াই রাতে ঘুমোতে গেছেন।

গত বছরের অক্টোবরের সমীক্ষার ভিত্তিতে ‘দ্য হিন্দু’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “যারা আমিষাশী ছিল তাদের প্রায় ৭১% ডিম বা মাংস আর খেতে পারে না ক্রয় ক্ষমতা না থাকায়। প্রাক-কোভিড -১৯-এর তুলনায় খাদ্যের পরিমাণ কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রায় ৬৬% বা ২/৩ অংশ মানুষ বলেছিল যে তারা যে অল্প পরিমাণ খাবার খেত তার চেয়ে বর্তমানে খাদ্য গ্রহণ আরো কমে গেছে।

গত বছরের সমীক্ষা ও এবছরের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের প্রতিবেদন থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যতই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘নিউ ইন্ডিয়া’-র বক্তৃতা দিন; দারিদ্রের মাপকাঠিতে – অপুষ্টি ও ক্ষুধা দূরীকরণের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হচ্ছে।

Please follow and like us:
error17
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
One Thought on বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে আরো নীচে নেমে গেল ভারত
    সন্দীপন মাজী
    16 Oct 2021
    2:23am

    তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। উৎসবের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ না করে মানুষের ক্ষুধা মেটাতে o কর্ম সংস্থান তৈরিতে এগিয়ে এলে হয়তো কিছু উপকার হত।

    0
    0

Leave A Comment