পুলওয়ামার ‘জঙ্গি আক্রমণ’ কি সাজানো? প্রশ্ন উঠে গেল অর্ণব গোস্বামীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁসের পর

রাজনীতি

Last Updated on 7 months by admin

বিশেষ প্রতিবেদন, ১৮ জানুয়ারি :

২০১৯ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি জম্মু শ্রীনগর ন্যাশানাল হাইওয়েতে ভারতীয় সৈন্য বোঝাই কনভয়ে আত্মঘাতী বোম্বারের আক্রমণে ৪০ জন কেন্দ্রীয় রিসার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) মৃত্যুর খবর এখনও ভোলে নি দেশ। পুলওয়ামা জেলার লেথপোরা অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা তারপর দেশের রাজনীতিতে বহুদিন চর্চায় থেকেছে। এমনকি বি.জে.পি ও দেশে বাড়তে থাকা জঙ্গী কার্যকলাপের প্রমাণ হিসেবে এই পুলওয়ামায় ‘জঙ্গি আক্রমণ’কে  ২০১৯ এর নির্বাচনী প্রচারে বেশ জোরের সাথেই রেখেছিল। কিন্তু পুলওয়ামায় ‘জঙ্গি আক্রমণ’-এর প্রায় দুবছর পরে প্রশান্ত ভূষণ নামের একজন উকিল আমাদের সামনে এসে হাজির করেছে রিপাবলিক টিভির মুখ্য সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীর একটা পুরোনো হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট – যা আবার দেশের জনতার মধ্যে পুলওয়ামার স্মৃতি জাগিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলছে সেদিন ভারতীয় সেনা কনভয়ে হামলা কি আদপে জঙ্গী আক্রমণই ছিল নাকি ছিল নির্বাচন জেতার জন্য বিজেপি তথা সংঘ পরিবারের একটা কৌশল মাত্র?

রিপাবলিক টিভি গত কয়েকবছর ধরেই তাদের চ্যানেলে বা সংবাদ সংগ্রহের সময় দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদের জন্য সবথেকে বেশি সরব থেকেছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়েই তারা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় তুলে তুলোধোনাও করেছে। এমনকি গত কয়েকবছরে দেশপ্রেমের নামে ‘ভারত-মাতা’কে নিয়ে বিজেপি যে দেশজোড়া আলোড়ন তৈরি করতে পেরেছে সেখানে রিপাবলিক টিভির মতো বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোরও যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।

কিন্তু সবার সামনে এখন এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটটি এসে পড়ায় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের আড়ালে থাকা রাজার আসল চেহারাটা বেরিয়ে পড়েছে। যে ভয়াবহ চেহারা দেখিয়ে দিচ্ছে নির্বাচনে জেতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলি ভারতীয় জওয়ানদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেও দুবার ভাবে না।

সেইসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ প্রায় প্রত্যেকেই পুলওয়ামায় ‘জঙ্গি আক্রমণ’-এর পিছনে পাকিস্তানের জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের হাত আছে বলে দাবী করেছিলেন। যদিও তখন পাকিস্তানের তরফ থেকে সরকারিভাবে আক্রমণের বিষয়টিকে অস্বীকার করা হয়। তাসত্ত্বেও এই ঘটনার পরপরই অর্থাৎ ২৬ শে ফেব্রুয়ারি,২০১৯ সকালে বারোটি মিরেজ ২০০০ প্লেন নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনা লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে বোমা ফেলে এবং এয়ার স্ট্রাইক ঘোষণা করে। তা নিয়ে সেই সময় বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে জলঘোলা কিছু কম হয় নি।

কিন্তু সময় এবং দিনের হিসেবে পুলওয়ামা অ্যাটাকের পরেই “আমরা অবিশ্বাস্যভাবে এই আক্রমণটা জিততে পেরেছি” -গোস্বামী এই স্বগোতক্তি করে হোয়াটসঅ্যাপে কোনো একজনকে মেসেজ করেন। স্বাভাবিকভাবেই চ্যাটটি সামনে আসার পর থেকে তাকে ঘিরে জনগণের মধ্যে অনেক জল্পনাই তৈরি হচ্ছে। এবং এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এখনও অবধি কোনো গণমাধ্যমেই উল্টোদিকের ব্যক্তিটি এই কথপোকথনকে অস্বীকার করেন নি।

অর্ণব গোস্বামীর উন্নয়ন ও সুরক্ষার প্রশ্নে ‘সারা দেশ জানতে চায়’ বা ‘সমগ্র জাতি জানতে চায়’- এর উচ্চ চিৎকার এখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যগুলিতে একটা চালু ট্রেন্ড। এমনকি ২০১৯ এ পাকিস্তানের বিরূদ্ধে এয়ার স্ট্রাইক ঘোষণার পরে সরাসরি জনসমক্ষে সরকারের সমর্থনে ‘স্বঘোষিত দেশপ্রেমী’ অর্ণব গোস্বামী এবং তার টিমের আনন্দ উদযাপন এখনও জনগণের স্মৃতি থেকে পুরোপুরিভাবে হারিয়ে যায় নি।

স্বাভাবিকভাবেই ২০১৯ এর নির্বাচনের ঠিক আগে আগেই ভারতীয় সেনার কনভয়ে জঙ্গী আক্রমণ, পাকিস্তানের বিরূদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক স্তরে স্ট্রাইক ঘোষণা এবং তারপর এই চ্যাটটি অনেককেই ধন্দে ফেলছে।

অনেকেই আবার পুলওয়ামা অ্যাটাকের তিন ঘন্টার মধ্যে অর্ণব গোস্বামীর যুদ্ধ জয়ের উচ্ছ্বাস আর তার সাথে সাথে ওইদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’র করবেট রিসার্ভ ফরেস্টে অ্যাডভেঞ্চার শুটিং কে পুরোটাই একটা নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন বলেও মনে করছেন। যদিও সেইসময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি এই আক্রমণ সম্পর্কে বিন্দুমাত্রও অবগত ছিলেন না।

কিন্তু তা সত্ত্বেও পুলওয়ামার ঘটনাটি যেভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক থ্রিলার নাটকের মতো নতুন নতুন মোড় খুলে দিচ্ছে তাতে নির্বাচন ঘিরে সংসদীয় দলগুলো ঠিক কতটা নীচে নামতে পারে সেই প্রশ্নই বারবার সামনে উঠে আসছে।

মজার বিষয় হচ্ছে, ‘দ্য হোলি কাউ’ এর জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের প্রায় প্রত্যেক নেতাদেরই গণমাধ্যমগুলিতে যতটা সাহসী বক্তব্য রাখতে দেখা যায় সেখানে চ্যাটটি জনসমক্ষে আসার পর অতিবাহিত এখনও অবধি সরকারীভাবেও কোনো বক্তব্য সামনে আসে নি।

আর তাই প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে গলা ফাটানো নেতাদের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে। ঠিক যেমন, কি করে ভারতের সুরক্ষা প্রশ্নের মতো চূড়ান্ত গোপনীয় একটা খবর মাত্র তিন ঘন্টার মধ্যে একটি সংবাদ সংস্থার মুখ্য সম্পাদকের কাছে পৌঁছে গেল সে নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে এই ঘটনা নতুন নয়। সার্জিকাল স্ট্রাইকের বহু আগেই অর্ণব গোস্বামী জনসমক্ষে টেলিভিশন রেটিং এজেন্সি, বিএআরসি-র তৎকালীন সিইও, পার্থ দাশগুপ্তকে বলেছিলেন “এবার পাকিস্তানের বিরূদ্ধে খুব বড়সড় কিছু করা হবে।” বি.এ.আর.সির প্রাক্তণ সিইও পার্থ দাশগুপ্ত সেইসময় এই কথার আক্ষরিক অর্থ ধরতে না পারলেও কথার নির্যাস বুঝতে খুব একটা অসুবিধে হয় নি।

এর মাস ছয়েকের মধ্যেই শ্রীযুক্ত দাশগুপ্ত যখন জম্মুকে, কাশ্মীর এবং লাদাখ থেকে ভেঙে আলাদা রাজ্য বানানোর পরিকল্পনার খবর প্রথম প্রকাশ করেন, তখনও অর্ণব বলেন, “ভারত সরকার কাশ্মীরকে ভেঙে একটা ঐতিহাসিক প্ল্যাটিনাম স্ট্যান্ডার্ড এনে হাজির করতে চলেছে এবং এই খবরটি আসলে রিপাবলিক টিভির করার কথা”।

যাই হোক, এরপর নির্বাচনের কিছুদিন আগে একটি সাক্ষাৎকারে পার্থ দাশগুপ্ত কারোর নাম না করেই বলেন ” এবারের নির্বাচন, প্রধান মানুষটার জন্য খুবই ভালো হতে চলেছে……তিনি এবারেও নির্বাচনী জয় নিজের ঘরেই আনবেন।” এবং তার তিন মাসের মধ্যেই নরেন্দ্র মোদীর দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে।

ফলে কোনোরকম সরকারী পূর্বাভাস ছাড়াই মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বালাকোটে সার্জিকাল স্ট্রাইক আর কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ করা নিয়ে অর্ণব গোস্বামীর দু দুটো বড় ঘোষণা সেইসময় বিপক্ষ দলগুলোকে সরকারের বিরূদ্ধে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। এমনকি তখন থেকেই সরকারের সাথে রিপাব্লিক টিভির সম্পর্ক নিয়ে বিপক্ষ দলগুলি সরব হয়ে ওঠে।

স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গত  ২ অগাস্টের একটি চ্যাটে দেখা যাচ্ছে গোস্বামী কাউকে একটা বলছেন “বালাকোট স্ট্রাইকটিকে দেশের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় ভেবে পরিকল্পনাই করা হয় নি, বা এটা কোনো কূটনৈতিক বা নির্বাচন জেতার কৌশলগত পদক্ষেপও ছিল না বরং এটা একেবারেই ছিল জাতীয় স্তরের একটা বিনোদন। কারণ ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য পাকিস্তানের বিরূদ্ধে কেন্দ্র সরকার স্ট্রাইক ঘোষণা করলে দেশের মানুষ খুবই আনন্দ পাবে।”

অর্ণব আরও লিখেছেন, “এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকারীভাবে সার্জিকাল স্ট্রাইকের ঘোষণা করা হবে এবং তার ঠিক দুদিন পরেই সারা কাশ্মীর জুড়ে কারফিউ ডাকা হবে। যেটা আসলে আর্টিকেল ৩৭০ এবং আর্টিকেল ৩৫এ – এই দুটো ধারা বিলোপ করার ক্ষেত্রে সুবিধে হবে।”

এরপরেই অর্থাৎ ৫ই অগাস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ মন্ত্রীসভায় জম্মু কাশ্মীরকে দুটি পৃথক ইউনিয়ন টেরিটরিতে ভাঙার আইন পেশ করেন, যেখানে একই সাথে জম্মু কাশ্মীরে আর্টিকেল ৩৭০ এবং ৩৫এ বিলোপ করার কথা বলা থাকে।

ফলতঃ এই কথোপকথন যদি সত্যি হয় তাহলে সবার সামনেই এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, এটা নিছক একটি সংসদীয় রাজনৈতিক দলের বীরগাথার সাধারণ কথাবার্তা নয় বরং সরকারে থাকা দলটি ‘জাতীয় বিনোদন’এর নামে দেশের সুরক্ষাকে অবধি অনায়াসে জলাঞ্জলি দিতে পারে।

যাই হোক, অর্ণব গোস্বামীর ব্যক্তিগত চ্যাটটি স্যোশাল মিডিয়াতে আসার আগেই টি.আর.পি স্ক্যাম কান্ডে মুম্বাই পুলিশের চার্জশিটের সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়ার কথাটিও এখন সামনাসামনি চলে এসেছে। ফলে এই ঘটনাটিও যে আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা প্রায় সবার কাছেই এখন পরিষ্কার।

আর তাই একমাত্র ছত্তিশগড়ের মন্ত্রী প্রবীণ কংগ্রেস কর্মী টি.এস.সিং দেও ছাড়া কেউই এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলে নি।

দেও এই ঘটনার পরেই টুইট করে লেখেন, “ভারতীয় সেনা সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাজারি মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে যাওয়া আসলে কেন্দ্র সরকারের অপদার্থতাকেই সামনে আনে। বালাকোট স্ট্রাইকের কথা আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার অর্থ হল — পুরোটাই একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য করেছিল। তাই অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া উচিত। একজন সাধারণ সাংবাদিক আগে থেকেই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে যাচ্ছে যা আসলেই দেশের সবচেয়ে গোপন তথ্য এবং সে সেটিকে আরও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ দেশের দায়িত্বে থাকা লোকজনের কাছে দেশের সুরক্ষা এবং জঙ্গী আক্রমণের বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণই নয় বরং তারচেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যকে পূরণ করা।”

বিক্ষুব্ধ বিজেপি এবং প্রাক্তণ বিদেশ মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাও এই ঘটনার পরে টুইট করে বলেন,”অর্ণব গোস্বামীর ব্যক্তিগত চ্যাট সামনে আসার মানে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থায় কোনো মারাত্মক গন্ডগোল আছে। আমি এই বিষয়ে প্রশান্ত ভূষণের সাথে একেবারেই একমত। এই বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত। এবং কেন্দ্র সরকারকে এই মারাত্মক স্পর্শকাতর ঘটনার দায় স্বীকার করতেই হবে।”

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির হনসাল মেহেতাও টুইট করে জানান “এই ব্যক্তিটি আমাদের দেশের মৃত জওয়ানদের নিয়ে উল্লাস করে আর জনসমক্ষে নিজেকে মহান দেশপ্রেমী বলে।”

বিজেপির এক সময়কার শরিক শিবসেনাও এ বার প্রশ্ন তুলল – সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দাদের গোপন তথ্য অর্ণব গোস্বামীর কাছে গেল কী ভাবে। শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, “কোনও জওয়ানের কাছ থেকে যদি এই সংক্রান্ত কোনও নথি উদ্ধার হয়, তা হলে তাঁকে কোর্ট মার্শাল করা হয়। সেখানে অর্ণব তো আগে থেকেই বালাকোট অভিযানের কথা জানতেন। অর্থাৎ জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হয়েছে।…..আমরা জানতে চাই, অর্ণবকে কি কোর্ট মার্শাল করা হবে?’’

এরপরে বিভিন্ন সংবাদপত্রের তরফ থেকে অর্ণব গোস্বামী এবং গণসংযোগ মাধ্যমের সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর জেনারেল, দুজনের সাথেই যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দুতরফই এখনও অবধি মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছে।

অন্যদিকে,পাকিস্তান বলেছে যে ফেব্রুয়ারী ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে পুলওয়ামায় হামলা একটি ‘মিথ্যা বা ভুয়ো অভিযান’ ছিল যার মাধ্যমে ভারতের ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত সরকার  প্রতিবেশীদেশ অর্থাৎ পাকিস্তানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেয়েছিল। পাকিস্তান সরকার রিপাবলিক টিভির মুখ্য সম্পাদক অর্ণব গোস্বামীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের উদ্ধৃতি দিয়েছে, যাতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে বালাকোট বিমান হামলা সম্পর্কে তাঁর পূর্বেই জানা ছিল।

এখন অনেকেই বলছেন যে প্রশান্ত ভূষণ যে চ্যাটটি সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস করেছেন তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিজেপি’র মতো সংসদীয় রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতা দখল করতে কত দূর যেতে পারে এবং দেশের সুরক্ষা থেকে সাধারণ মানুষের অনুভূতি নিয়ে কীভাবে ছেলেখেলা করতে পারে তা আরও একবার সকলের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on পুলওয়ামার ‘জঙ্গি আক্রমণ’ কি সাজানো? প্রশ্ন উঠে গেল অর্ণব গোস্বামীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁসের পর

Leave A Comment