সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা অক্সিজেন ট্যাঙ্কারে নিজেদের লোগো লাগিয়ে কি রিলায়েন্স গ্রুপ তাদের ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে চাইছে ??

আজকের খবর পর্যালোচনা বিশেষ খবর

Last Updated on 4 months by admin

বিশেষ প্রতিবাদন, ১৩মে,২০২১ :

গত কয়েকদিনে গণমাধ্যমগুলোতে বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে সৌদি আরব থেকে ভারতে পাঠানো তরল মেডিকেল অক্সিজেনের ট্যাঙ্কগুলোতে সৌদি আরবের পতাকার সাথে সাথে রিলায়েন্স গ্রুপেরও লোগো রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভারতের এই কঠিন সময়েও রিলায়েন্স গ্রুপ কী সৌদি আরব থেকে সাহায্য বাবদ পাঠানো তরল অক্সিজেনকে নিজেদের ‘মহান’ ভাবমূর্তি প্রচারের কাজে লাগাচ্ছে?

যদিও উন্নয়ন দপ্তরের একজন আধিকারিককে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা যে ট্যাঙ্কারগুলোর ছবি ভাইরাল হয়েছে, সেগুলো মূলত খালি অর্থাৎ ট্যাঙ্কারগুলোতে কোনোরকম তরল অক্সিজেন নেই। রিলায়েন্স কোম্পানি এই খালি ট্যাঙ্কারগুলোতেই তাদের উৎপাদিত তরল অক্সিজেন ভর্তি করে দেশের সর্বত্র সরবরাহ করছে। তাই ট্যাঙ্কার গুলোতে রিলায়েন্স এবং সৌদি আরব দুপক্ষেরই নিজস্ব প্রতীক লাগানো আছে।

কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ট্যুইটারের মতো গণমাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন মানুষজন সৌদি আরবের পতাকার ছবি দেওয়া ট্যাঙ্কারের একাধিক ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করছে যেগুলির সব ক’টাতেই রিলায়েন্সের প্রতীক চিহ্ন লাগানো রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে দেশের এই কঠিন সময়েও রিলায়েন্স কীভাবে অন্য দেশগুলি থেকে পাঠানো সাহায্যকে নিজেদের ভাবমূর্তি ‘উন্নত’ করার স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে?

এ বিষয়ে বিশদে খোঁজ খবর করতে গিয়ে অন্য আরেকটি ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট বুম রিলায়েন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সাথে কথা বলে। সেই কথপোকথনে রিলায়েন্সের আধিকারিকরা স্বীকার করে নেন যে ভাইরাল হওয়া ছবি এবং ভিডিও’র ট্যাঙ্কারগুলো সৌদি আরব থেকেই এসেছে। কিন্তু প্রত্যেকটি ট্যাঙ্কারই খালি ছিল। যেগুলো পরবর্তীতে রিলায়েন্স গ্রুপ তাদের উৎপাদিত তরল অক্সিজেন দিয়ে ভর্তি করে। তাই সরবরাহের সময় প্রত্যেক ট্যাঙ্কারে রিলায়েন্সের প্রতীক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

তবে এ’কথা সত্যি যে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য দপ্তর সরকারীভাবে ভারতীয় এমব্যাসিকে যে ৮০০ টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য করেছে, সেখানে এমব্যাসির সাথে অন্য কোম্পানির  যৌথ উদ্যোগ আছে। কিন্তু রিলায়েন্স গ্রুপের সাথে এইধরনের কোনো পার্টনারশিপের সরকারী নথি এখনও অবধি কোথাও পাওয়া যায় নি।

উল্লেখ্য লক ডাউন ও ‘মহামারী’র বাজারে যেখানে সাধারণ মানুষের দৈনিক রোজগার কমেছে – সেই সময়ে ভারতে সব চাইতে বেশি মুনাফা করেছে আম্বানিদের রিলায়েন্স গ্রুপ। মহামারী চলাকালীন মুকেশ আম্বানির আয় ছিল প্রতি ঘন্টায় ৯০ কোটি টাকা। ঠিক সেই সময়ে ভারতে প্রায় ২৪ শতাংশ লোক মাসে রোজগার করেছেন ৩০০০ টাকারও কম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের  “অসমতার ভাইরাস রিপোর্ট”-এ বলা হয়েছে –  “মহামারী চলাকালীন এক ঘণ্টায় আম্বানি যা রোজগার করেছেন , সমপরিমাণ রোজগার করতে একজন অদক্ষ শ্রমিকের দশ হাজার বছর সময় লাগবে।”

ফলে প্রশ্ন থেকেই যায় যে, রিলায়েন্স গ্রুপ কী সত্যি সৌদি আরবের সাথে এমন কোনো চুক্তিবদ্ধ হয়েছে নাকি এই কঠিন পরিস্থিতিতেও জনমানসে আম্বানি গ্রুপ নিজেদের ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে বেআইনিভাবে ট্যাঙ্কারগুলোতে নিজেদের লোগো ব্যবহার করছে।

 

তথ্যসূত্র : The Quint ও The Alt News

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা অক্সিজেন ট্যাঙ্কারে নিজেদের লোগো লাগিয়ে কি রিলায়েন্স গ্রুপ তাদের ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে চাইছে ??

Leave A Comment