হাইকোর্টের রায়ে ধাক্কা খেল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ : স্থগিতাদেশ তিন পড়ুয়ার বহিস্কারের ওপর

আজকের খবর গণ-আন্দোলন বিশেষ খবর রাজ্য

Last Updated on 2 weeks by admin

শ্রীধর কর্মকার (বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র), শান্তিনিকেতন, ৮ সেপ্টেম্বর,২০২১ :

কলকাতা হাইকোর্ট আজ বিশ্বভারতীর তিন পড়ুয়া ফাল্গুনী পান (অর্থনীতি বিভাগ), সোমনাথ সৌ(অর্থনীতি বিভাগ), রূপা চক্রবর্তীর  (হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত) তিন বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার এর সিদ্ধান্তের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এর সঙ্গেই বিচারপতি রাজশেখর মান্থা বলেছেন ওই তিন পড়ুয়াকে অবিলম্বে ক্লাসে ফিরিয়ে নিতে হবে। গত ২৭ আগস্ট থেকে বিশ্বভারতী ছাত্রছাত্রীরা তিন পড়ুয়ার বহিস্কারের নির্দেশ প্রত্যাহার ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন। গত ২৩ আগস্ট ঐ তিন পড়ুয়াকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করেন ও দুজন অধ্যাপককে সাসপেন্ড করে্ন।

এর আগে ওই তিন পড়ুয়াকে তিনমাস করে মোট তিনবার অর্থাৎ নমাস সাসপেন্ড করে রাখা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা ৯ জানুয়ারি ছাতিমতলা ও অর্থনীতি বিভাগে বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের দাবি উপাচার্যের ‘ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা’র বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্যই তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী তাঁর সময়কালে ফি বৃদ্ধি, পাঁচিল তোলা, পৌষ মেলা বন্ধ করা, এনআরসি-সিএএ এর সমর্থনে বিজেপির সাংসদ ডেকে ‘লেকচার সিরিজ’ আয়োজন করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের ‘গৈরিকীকরণ’ করছেন-এমনই অভিযোগ করছেন ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, কর্মী, প্রাক্তনী ও স্থানীয় মানুষ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার পরিবেশ ধ্বংস করে ছাত্রছাত্রী , অধ্যাপক ও কর্মীদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। উপাচার্য তার কার্যকালে কুড়ি জনের বেশি অধ্যাপকসহ মোট দেড়শ’ জনকে সাসপেন্ড, শোকজ বা বহিষ্কার করেছেন। তারই প্রতিবাদে ২৭ আগষ্ট ছাত্রছাত্রীরা অবস্থান শুরু করার পর সেখানে একে একে যোগদান করেন অধ্যাপক, কর্মী, আশ্রমিক, প্রাক্তনী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষজন।

বিভিন্ন ছাত্রছাত্রী ও নাগরিক সংগঠন অবস্থান মঞ্চে এসে আন্দোলনকারীদের সংহতি  জানিয়ে গেছেন ও ফ্যাসিবিরোধী সংগ্রামকে জোরদার করার বার্তা দিয়ে গেছেন। ১২ দিন ধরে অবস্থান চলাকালীন উপাচার্য একবারও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেননি। এরইমধ্যে বহিষ্কৃত ছাত্রী রূপা চক্রবর্তী ও সাসপেন্ডেড প্রফেসর গত তিনদিন ধরে রিলে অনশন করেছিলেন। আজ আদালতের রায়ের পর তাঁরা অনশন ভঙ্গ করেন। আদালত আরো বলেছেন যে ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা যদি সত্যও হয় তবে বলতে হয় তাদের লঘু পাপে গুরুদণ্ড হয়েছে । কোর্ট আরো বলেছে যে সাসপেন্ডেড অধ্যাপক ও কর্মীরা কোর্টে আপিল করতে পারেন এবং তা জরুরি ভিত্তিতে শোনা হবে।

কোর্টের রায়কে আন্দোলনকারীরা প্রাথমিক জয় হিসেবেই দেখছেন। পঠন-পাঠনে ফিরতে পেরে বহিষ্কৃত ছাত্রছাত্রীরা খুশি। তাঁরা এটাকে তাঁদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে দেখছেন। যদিও তাঁরা বলেছেন তাঁদের সব দাবিদাওয়া এখনো পূরণ হয়নি। প্রচুর অধ্যাপক ও  কর্মী সাসপেনশনে  আছেন। তাঁরা মনে করেন ক্যাম্পাসে রবীন্দ্রভাবনার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে গেলে উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ করা দরকার। তাঁরা বলছেন – “রবীন্দ্রনাথ বিরোধী আরএসএস বিজেপির দালাল উপাচার্য এর জন্যই বিশ্বভারতীর এই অবক্ষয়।” এদিকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনরকম অবস্থান ,ধর্মঘট বা আন্দোলন করা যাবে না। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন যে ফ্যাসিস্ট উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তবে ভবিষ্যতে আন্দোলনের পদ্ধতি ও রূপরেখা কেমন হবে তা ঠিক করার জন্য তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসবেন।

  • বিশ্বভারতীর তিন জন পড়ুয়াকে বরখাস্ত করেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও দুজন অধ্যাপককে সাসপেন্ড করে্ন।
  • বরখাস্ত ও সাসপেনশনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিলেন ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারীরা। সমর্থনে দাঁড়ান নাগরিক সমাজ।
  • সাসপেন্ডেড অধ্যাপক ও বহিষ্কৃত ছাত্রী অনশনে বসেছিলেন।
  • তিন পড়ুয়াকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
  • আন্দোলনকারীরা এই রায়কে তাঁদের জয় হিসাবে দেখছেন।

 

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on হাইকোর্টের রায়ে ধাক্কা খেল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ : স্থগিতাদেশ তিন পড়ুয়ার বহিস্কারের ওপর

Leave A Comment