“কৃষকের সাথে কর্পোরেট মালিকের বিরোধ হলে কৃষকের কোর্টে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ নয়া কৃষি-আইনে”-হরিয়ানার কৃষক নেতা

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন

Last Updated on 7 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি: চলমান কৃষক আন্দোলনে খাপ পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়ে হরিয়ানার এক খাপ প্রধানের সাথে কথা বলতে গিয়ে উঠে এলো নানা তথ্য। পশ্চিমবঙ্গের সমাজ জীবনের সাথে উত্তর ভারতের এই বাস্তবতার অনেক তারতম্য।  যেটা বোঝা গেল, খাপকে না বুঝলে আজকের আন্দোলনের একটা বড়ো দিক আমরা বুঝতে পারবো না। সুরেশ কোত হরিয়ানার হিসার জেলার “বারা খাপ” এর প্রধান। লড়াকু ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক আন্দোলনেও সহযোগিতা করে জেল খেটেছেন। তিনটি কৃষি আইনের খারাপ দিক এবং তার বিরুদ্ধে হরিয়ানার মানুষের লড়াইয়ের কথা বলছিলেন। সরকারি মান্ডি ব্যবস্থা হরিয়ানা, পাঞ্জাবের মতো সারা দেশের আর কোনও রাজ্যেই প্রায় কার্যকর নয়। সুরেশ বলছিলেন, “প্রথম কৃষি আইন এই মান্ডি ব্যবস্থাই তুলে দেবে। আমাদের অবস্থা তখন আজকের বিহারের মতো হবে। ১৯৩০ সালের শুরুর সময়েও আমাদের এরকম অবস্থা ছিল। তারপর স্যার ছোটুরামের নেতৃত্বে কৃষকরা আন্দোলন করে তিনটে আইন মারফর নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে। যার মধ্যে একটা আইন মান্ডি ব্যবস্থার জনক।” স্যার ছোটুরামের জন্মদিনের প্রাক্কালে তার এই অবদানের কথা স্মরণ করালেন আজকের আরেক উত্তর ভারতের কৃষক সুরেশ কোত। “মান্ডি আইনে প্রাপ্ত অধিকারগুলোর মধ্যে কৃষকের দুটো প্রধান অধিকার “তুল্য” ও “মূল্য”র অধিকার। অর্থাৎ মান্ডিতে কৃষক তার ফসলের দাম, পরিমাপ ইত্যাদি সব নিবন্ধিত করতে পারে, পরে দাম নিয়ে বিরোধ হলে বা ওজন মাপার সময় কোনও অভিযোগ থাকলে তৎক্ষনাৎ তার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। বেসরকারি বাজারে যা থাকবে না। প্রথম আইনে সরকারী মান্ডির আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না কিছুদিন বাদে।” সুরেশ কোত ধরে ধরে বোঝালেন আরো, “দ্বিতীয় আইনে কর্পোরেট ৯ বছর অব্দি কৃষকের জমির ওপর নির্মাণ করতে পারে বা ঋণ নিতে পারে। উপযুক্ত দাম না পেলে যদি তারা সব কিছু বেচে দিয়ে পালিয়ে যায় তার দায় কৃষকের ঘাড়ে এসে পড়বে। এমনকি, কৃষকের সাথে কর্পোরেট মালিকের বিরোধ হলে কৃষকের কোর্টে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ এই আইনে। যেতে হবে সরকারের চাকর আমলাদের কাছে, যে সরকার আবার পুঁজিপতিদের চাকর।” তৃতীয় আইন, যা আসলে পুরোনো “অত্যাবশকীয় পণ্য” আইনের সংশোধিত রূপ, তা যে নিশ্চিতভাবেই কৃষক এবং উপভোক্তা উভয়ের জন্য ক্ষতিকর তাও স্পষ্টভাবে বললেন এই খাপ নেতা। হরিয়ানায় ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে পথসভা, প্রচার-আন্দোলনের মাধ্যমে এই তিন কৃষি আইনের বিরোধিতায় রাস্তায় নামেন কৃষকরা। তার ১৫ দিন বাদে ২৫শে সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের চাষীরা ধর্ণা শুরু করে এবং শুরু হয় দুই রাজ্যের কৃষকের সম্মিলিত আন্দোলন যা ২৬ শে নভেম্বর দিল্লি চলো অভিযানের মধ্যে দিয়ে চরম মাত্রা পায়।

 

খাপের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুরেশ কোত বলছিলেন, “খাপের ইতিহাস অনেক পুরোনো এবং তা উত্তর ভারতের একটি বিশেষ বিষয়। থানেশ্বরের রাজা হর্ষবর্ধনের সময় থেকেই এর উদ্ভব। মহারাজা বলেছিলেন হয় তাকে কর দিতে হবে যাতে বহিঃশত্রুর আক্রমণ আটকাতে তিনি সেনাবাহিনী চালাতে পারেন অথবা সবাই মিলে একসাথে বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে হবে। জনতা দ্বিতীয় পন্থারই পক্ষ নেয়। এইভাবেই খাপ গড়ে ওঠে। খাপ একটি সামাজিক সংগঠন। প্রতিটা গ্রামে একটি কমিটি ও কয়েকটা গ্রাম মিলে একটি তাপা তৈরি হয়। কয়েকটি তাপা মিলিয়ে আবার একটি খাপ। কিছু খাপের প্রধান বংশগত ধারায় ঠিক হয়, কিছু আবার পাঁচ বছরের জন্য গণতান্ত্রিকভাবে।”

সুরেশ কোত জানালেন, “এই আন্দোলন কৃষকদের আন্দোলন। খাপের এতে ভূমিকা আছে, কিন্তু তা সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার নয়। বরং পিছনে থেকে সহযোগিতা করাই এর কাজ।”

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on “কৃষকের সাথে কর্পোরেট মালিকের বিরোধ হলে কৃষকের কোর্টে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ নয়া কৃষি-আইনে”-হরিয়ানার কৃষক নেতা

Leave A Comment