আলোচনা চালু করার হস্তক্ষেপ চেয়ে ‘কালা দিবস’ পালনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে আন্দোলনরত কৃষকদের চিঠি

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 4 months by admin

নিজস্ব প্রতিবেদন, ২২ মে,২০২১ :

আগামী ২৬ মে সংযুক্ত কিষান মোর্চা ‘কালা দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার আগে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলোচনার দাবী জানিয়ে চিঠি লিখলেন। তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমান্তে তাঁদের ছয় মাসের বিক্ষোভ  পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ২৬ শে মে “কালা দিবস” পালন করার আহ্বান জানিয়েছে। এই আহ্বানে ট্রেড ইউনিয়ঙ্গুলো সাড়া দিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে। আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষকরা যে সরকারের সাথে আলোচনা চালাতে চায় তা এই চিঠির মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এখন দেখার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার কৃষকদের এই চিঠিতে সাড়া দেন কিনা।

সংযুক্ত কিষান মোর্চার পক্ষ থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরলাম।

“প্রতি,

শ্রী নরেন্দ্র মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী

সাউথ ব্লক

নিউ দিল্লী- ১১০০০১

 

         বিষয় – আন্দোলনরত কৃষক ও অন্যান্য গ্রামবাসীদের জরুরি দাবীসমূহ নিয়ে সংযুক্ত কিসান মোর্চা (SKM)-র সাথে আলোচনা চালু করার ব্যাপারে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ।  

 

প্রধানমন্ত্রী মহাশয়,

সমগ্র দেশ জুড়ে চলা লক্ষ- লক্ষ প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই প্রবল অতিমারি-র মধ্যে আমরা অত্যন্ত কষ্ট, রাগ অথচ দৃঢ় সঙ্কল্প নিয়ে আপনাকে এই চিঠিটা লিখছি।

আমরা ভারতের কৃষকরা প্রখর শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার মধ্যে নিউ দিল্লীর বর্ডারে টানা থেকে সংযুক্ত কিষান মোর্চার (SKM) ব্যানারে যে আন্দোলন চালাচ্ছি সেই আন্দোলন আগামী ২৬ মে ২০২১-এ ছয় মাস পূর্ণ করবে, তার কয়েকদিন আগে এই চিঠিটা লিখছি। ঐ একই দিনে আজ পর্যন্ত স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবথেকে বেশী কৃষি বিরোধী আপনাদের এই সরকার কেন্দ্রে সাত বছর পূর্ণ করছে। কৃষকদের দাবীগুলোর প্রতি এই সরকারের চরম উদাসীনতা ও প্রবল নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে উক্ত দিনটিতে সমগ্র দেশ জুড়ে কৃষকরা ও বিভিন্ন সংগঠন সম্মিলিত ভাবে ‘কালা দিবস’ পালন করবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই দিনটিতে ভগবান বুদ্ধের জন্ম, নির্বাণ ও পরিনির্বাণ লাভের জন্য বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হবে।

SKM সবসময়ই শান্তিপূর্ণ গণ অবস্থান ও আলোচনার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সমাধান খোঁজার উপর জোর দিয়েছে। এই আন্দোলনকে সরকার প্রথম থেকে যেভাবে নিয়মিত ভাবে নিন্দা করে গেছে ও আন্দোলনকারীদের যেভাবে নিপীড়ন- দমন করা হয়েছে তা সত্ত্বেও আন্দোলনের প্রথম দুই মাসে সরকার পক্ষ থেকে আমাদের সাথে ১১ বার যে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল সেগুলোর প্রত্যেকটাতেই আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছি। তবুও সরকার আন্দোলনরত কৃষকদের ন্যুনতম দাবীগুলো মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। যে কৃষকদের নামে এই তিনটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে তারা যদি এর বিরোধিতা করে তাহলে যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারই এতদিনে এই আইনগুলোকে প্রত্যাহার করে নিত এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের ন্যুনতম সহায়ক মূল্যের দাবীকে আইনি প্রতিশ্রুতি দিত। এর পরিবর্তে আপনাদের সরকার এই বিষয়টিকে আপনাদের অহংকারের সাথে জুড়ে নিয়ে কিছু করতে অস্বীকার করল। তার উপর ২২ জানুয়ারি ২০২১ থেকে আপনারা সমস্ত আলোচনার রাস্তা বন্ধ করে দিলেন – যদিও আপনাদের দাবী উল্টো। আপনাদের একগুঁয়ে উদাসীনতার ফলে আমরা ইতিমধ্যেই ৪৭০ জন আন্দোলনের সাথীকে হারিয়েছি।

তা সত্ত্বেও সমগ্র দেশের কৃষকরা স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বেশী শান্তিপূর্ণ, সবথেকে বড় ও সবথেকে বেশিদিন ধরে চলা এই অন্যরকম আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোভিড-১৯ এই অতিমারির মধ্যেও আমাদের দেশের এই ‘অন্নদাতা’রা ছয় মাস ধরে রাস্তায় বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা আন্দোলনরত কৃষকদের এই অতিমারির প্রবল ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিতে চাইনা, কিন্তু কৃষকরা এই আন্দোলন এভাবে ছেড়ে দিতে পারেন না কারণ এটি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও নিজেদের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী মহাশয় এই চিঠির মাধ্যমে আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাইছি যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের প্রধান হওয়ার ফলে কৃষকদের সাথে সদর্থক ও আন্তরিক আলোচনা শুরু করার ভার আপনার উপরই বর্তায়। আবারও বলছি, আমরা অবিচল থাকছি আমাদের প্রধান দাবীগুলোতে যথাঃ তিনটি জনবিরোধি কৃষি আইন প্রত্যাহার, প্রত্যেক কৃষকের জন্য ন্যুনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ আইনের কুপ্রভাব থেকে চাষিদের রক্ষা করা।

এই চিঠিতে আমাদের আরও দাবীঃ  গ্রামাঞ্চলে কোভিড-১৯ অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ যেভাবে ছড়াচ্ছে তা রোখার জন্য সরকারকে অবিলম্বে তার সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এই ঢেউ রোখার একমাত্র উপায় সমস্ত কোভিড রুগীর বিনামূল্যে চিকিৎসা, দুঃস্থ নাগরিকদের বিনামূল্যে রেশন দান, জীবন জীবিকায় সাহায্য এবং ছয় মাসের মধ্যে সকলকে বিনামূল্যে ভ্যাক্সিন প্রদান। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এগুলোর সবকটাই লাগু করা কোনো সমস্যা নয়।

প্রতিদিন প্রবল কষ্ট সহ্য করে চলা সত্ত্বেও আমরা এই সন্ধিক্ষণে সরকারের নজর ঘোরাতে চাইনা। সেই কারণেই আমরা বিগত চার মাস ধরে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে ছিলাম। কিন্তু যদি এই মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে আমরা সরকারের থেকে কোনও সদর্থক গঠনমূলক উত্তর না পাই তাহলে আমরা ২৬ মে জাতীয় প্রতিবাদ দিবস থেকে শুরু করে পরবর্তী পর্যায়ের আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে বাধ্য হব।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আপনার সরকারের সুবুদ্ধির উদয় হোক।

ধন্যবাদান্তে

সংযুক্ত কিষান মোর্চার পক্ষ থেকে

                                                         বলবীর সিং রাজেওয়াল, দর্শন পাল,

                                                         গুরনাম সিং চাধুনি, হান্নান মোল্লা, জগজিৎ সিং দাল্লেওয়াল,

                                                যোগীন্দর সিং উগ্রাহা, শিব কুমার কাক্কাজি, যোগেন্দ্র যাদব, যুধবীর সিং।“  

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on আলোচনা চালু করার হস্তক্ষেপ চেয়ে ‘কালা দিবস’ পালনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে আন্দোলনরত কৃষকদের চিঠি

Leave A Comment