বস্তিবাসীদের জীবন – মহামারি – লকডাউন

আজকের খবর পর্যালোচনা বিশেষ খবর মতামত

Last Updated on 2 months by admin

বস্তিবাসীদের জীবন – মহামারি – লকডাউন

“এ কলকাতার মধ্যে আছে আরেকটা কলকাতা”

অজয় বক্সী

মানব সভ্যতার ইতিহাসে চিরকালই শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের জনবসতির ঘনত্ব সর্বদা বেশি থাকে।  শহরকে কেন্দ্র করেই মানুষের বড় বড় সভ্যতা গড়ে উঠেছে। মূলত সমাজের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরাই শহরগুলিতে থেকে  সমাজের সমস্ত রকম  সুযোগসুবিধা ভোগ করে। দেশভাগের কারণে আমাদের দেশে পূর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বহু মানুষ শহরে বসতি গড়ে তোলে। আর পাশাপাশি গ্রাম অথবা রাজ্যের জেলা থেকে বা অনুন্নত রাজ্য থেকে  নিপীড়িত  গরীব মানুষজন পেটের তাগিদে জীবিকার উদ্দ্যেশ্যে এই সব শহর গুলিতে পাড়ি দেয়। নানান প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েও তারা মাথা গোঁজার চেষ্টা করে নিজেদের কর্মস্থলের আশেপাশে কোথাও। শহরগুলিতে বিভিন্ন শিল্পের শ্রমিক, হকার, রিক্সাচালক, বাবুদের বাড়িতে কাজের  মানুষ হিসাবে এদের পরিচয় গড়ে ওঠে। মানুষ বিভিন্ন কারণে তার নিজের জমি থেকে উদ্বাস্তু হয়ে বাধ্য হয় শহরে পাড়ি দিতে। তারা মূলত ভূমিহীন কৃষক অথবা প্রান্তিক কৃষক। প্রাথমিক ভাবে অল্প কিছু কিছু মানুষ খাস জমি, খালপাড়, জলা জমি, রেল লাইনের ধার ইত্যাদি জায়গায় একসাথে থাকতে আরম্ভ করে। কৃষি ব্যবস্থার অসম বন্টনে গ্রামীণ অর্থনীতির অসমতার ফলে গ্রাম  থেকে আরো গরীব শ্রমজীবীরা এসে ভিড় করতে থাকে এই সব জায়গায় ধনী শহরবাসীদের জীবনের স্বাচ্ছন্দের প্রয়োজনে  সস্তা শ্রমিক হিসাবে। শ্রমিকদের পরিবারের লোকজনও একটা সময় এসে বসবাস করতে থাকে। এভাবেই গড়ে ওঠে শহরের উপকন্ঠে শ্রমজীবীদের বসতি। জীবিকার সূযোগ যেহেতু গ্রামের তুলনায় শহরে বেশি, তাই শহরকে কেন্দ্র করেই শ্রমজীবিদের নানান বসতি গড়ে ওঠে।  ভারতের দিল্লী, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর সহ একাধিক আধুনিক  শহর যেগুলিকে কেন্দ্র করে এই রকম অসংখ্য বস্তি তৈরী হয়েছে। বিশ্বায়নের ধাক্কায় আজ ভারতের লক্ষ্ লক্ষ্ শ্রমজীবী কর্মচ্যুত।  সমাজ থেকে প্রান্তিকে চলে যাওয়া মানুষগুলি তাই বেঁচে থাকার তাগিদে, একটু অন্নের টানে ভাসতে ভাসতে বড় বড় শহর গুলির উপকন্ঠে হাজির হয়।  সেখানে তাদের সস্তা শ্রমের বিনিময়ে মালিকদের তৈরি ব্যবস্থা ফুলে ফেঁপে ওঠে, আর তাদের জীবন ঠাঁই পায় অন্নহীন, স্বাস্থ্যহীন দীর্ণ ঝুপড়িতে।

এখন আমরা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহরের বস্তিবাসীদের জীবন সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব। প্যান্ডেমিক, লকডাউন এসবের মধ্যে তাঁদের বেঁচে থাকার কথা জানার চেষ্টা করব।

প্রায় ৬ বছর আগের একটি সমীক্ষা বলছে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতে প্রায় ৩৩৩৪ টি ছোট বড় বস্তিতে প্রায় ৩৪ লক্ষ মানুষের বাস। কলকাতার জনসংখ্যার বিচারে তা প্রায় ৪০%। বিগত ১০ বছরে বাগবাজার,  নাড়কেল ডাঙ্গা, ১৬ বিঘা, নিউটাউন, বাসন্তী কলোনী প্রভৃতি জায়গার বস্তিতে যেভাবে একের পর এক আগুন লেগে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে তাতে এই সমস্ত মানুষের থাকার জায়গার ভয়াবহতা সামনে এসেছে। বিভিন্ন পেশার মানুষ যারা গোটা কলকাতাকে সচল করে রেখেছে তাদের কোন জায়গাতেই অগ্নিনির্বাপক এর কোন ব্যবস্থা নেই। অধিকংশ বস্তিতে বাঁশ, প্লাস্টিক দিয়ে গায়ে গায়ে অসংখ্য ঘর – যেকোন সময় দুর্ঘটনা হলে সামলাবার কোন রাস্তা নেই। পানীয় জল নেই। নিকাশী  ব্যবস্থা নেই। পায়খানার লম্বা লাইন। বিদ্যুতের তার  বিপদজনক ভাবে ঝুলছে। কর্দমাক্ত গলি।

দক্ষিণ কলকাতার বুকে সেই বাম আমলেই গড়ে উঠেছিল নোনাডাঙা বস্তি।  ক্যানিং, সাগরদ্বীপ সহ পশ্চিমবাংলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ পেটের টানে এখানে ছোট ছোট বসতি গড়ে তুলেছে। বছরের পর বছর বসবাস করা  সত্বেও তারা প্রতিনিয়ত উচ্ছেদের আশংকায় ভোগে। কিছু পরিবার সরকারি ঘর পেলেও শত শত পরিবারের নেই কোন স্থায়ী ঠিকানা। পরিবর্তের সরকার ক্ষমতায় আসা মাত্রই চলে উচ্ছেদ অভিযান। মরণপণ  লড়াই করে রোখা গেছে উচ্ছেদ  প্রক্রিয়া।  অথচ আজও শ্রমিক কলোনির ৬২,  সুভাষ পল্লীর ৪৫,  লেকপল্লীর ১৫০ টি পরিবারের বাসস্থানের নেই কোন বৈধ বা স্থায়ী কাগজপত্র। স্থানীয় বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি এরা ভ্যান চালিয়ে, সবজি বেচে, বাবুদের  বাড়ির কাজ করে জীবন চালাচ্ছে। করোনা কালে তাদের অধিকাংশ এর কাজ নেই অথবা নাম মাত্র আয়ে সংসার চালাচ্ছে। সরকারি কোন সূযোগ সুবিধা এদের কাছে এসে পৌঁছায় না।লকডাউনে গাড়ি ঘোড়া বন্ধ ছিল। র‍্যাপিডো বা ওলা – উবের করে হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই অসুখ নিয়ে ঘরে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। কথা হচ্ছিল সবিতা দি আর লক্ষী মন্ডলের সাথে। মাঝবয়সী লক্ষী মন্ডল স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন, আর সবিতা দি বাবুদের বাড়ি কাজ করেন। লকডাউনের ফলে দুজনেরই আয় কমেছে। কোন রকমে সংসার চালাচ্ছেন। আন্দোলন করে নিজের ভিটেটি টিকিয়ে রাখলেও আজ তাঁরা দুবেলা খেয়ে কীভাবে বাঁচবেন সেই আতঙ্কে ভুগছেন।

বেহালার সঞ্জিব পল্লীর বস্তি। ছোট বসতি। সবমিলিয়ে প্রায় ২০-২৫ ঘর। চারিপাশে উঁচু উঁচু ফ্লাট বাড়ি। উঁচু বড় ফ্ল্যাটের ধনীদের কাছে এই বস্তি জঞ্জালের মতো। অথচ এখান থেকে সস্তায় তাঁরা পান বাড়ির কাজের লোক। বহু বছর থাকার ফলে তুলে দেওয়াও যাচ্ছে না। ভোটের দলের কাছে এরা ভোটব্যঙ্ক। গত বছর লকডাউনের সময় থেকেই বস্তির প্রায় সবার চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ দেখেছি। আর এ বছরে তো আরো ভয়াবহ ছবি। কোলের বাচ্চাগুলির মুখে কীভাবে দুধ যোগানো যায় সে কথা ভাবতে ভাবতে মায়েরা ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে। গায়ত্রী দি অনেক বাড়ি কাজ করে একরকম বেকার ছেলে বউকে নিয়ে সংসার চালান। লকডাউনে সব বাড়ির কাজ গিয়ে অবশিষ্ট একটি বাড়িতে ২৪ ঘণ্টার আয়ার কাজ করছিলেন।  অবস্থার সুযোগ নিয়ে সেখানেও মাইনে অর্ধেক করে দিয়েছে। তার পরেও চলছে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেবার হুমকি।

বেহালার ছোট শিল্পাঞ্চলে পটলডাঙ্গায় প্রায় ৩০০ ঘর নিয়ে গড়ে ওঠা সারদাপল্লীতেও কমবেশি একই রকম দৃশ্য। ৪০ বছর ধরে থাকার পরেও কারোরই জমির কাগজ নেই। দিন আনি দিন খাই মানুষগুলি লকডাউনের ফলে একেবারে নুইয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশার কথা শোনালেন যে এই বসতির মানুষগুলিকে করোনা ছুতে পারেনি। তাতে হয়ত কেউ হাসপাতালে যায়নি,  তবে না খেতে পেয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই এগোচ্ছে। রেশনের চাল গম ছাড়া সরকারি কোন সুবিধাই তারা পাচ্ছে না।

বিধাননগর পৌর অঞ্চলের উল্টোডাঙায় অবস্থিত বাসন্তী কলোনী। প্রায় ১২০০ ঘর। এখানকার বাসিন্দারা এসেছেন মূলত দক্ষিণবঙ্গ থেকে। ক্যানিং,  রায়দীঘি, লক্ষীকান্তপুর, সোনারপুর, সুন্দরবন অঞ্চল থেকে। আর হাতে গোনা কিছু অবাঙালী আছেন যারা মূলত বিহার এবং উত্তর প্রদেশের। অনেকে বাংলাদেশ থেকে অনেক আগে থেকে এসে এখানে বসবাস করছেন। এখানকার মানুষরা – অটোচালক, ভ্যানচালক, প্রাইভেট  চার চাকার গাড়ির চালক, ওলা – উবের চালক, সব্জি বা মাছ বিক্রেতা, রাস্তায়, ফুটপাথে, রেল স্টেশনে দোকানদারি করা হকার, রেল স্টেশনের কুলি, মহিলাদের বেশীরভাগটাই ধনী লোকদের বাড়ি কাজ করা গৃহপরিচারিকা, কাগজ কুড়ানী, ফেরিওয়ালা, দিনমজুর, জোগানদার, রাজমিস্ত্রী, রঙমিস্ত্রী, ছুতোর, ডাব ব্যবসায়ী, বেসরকারী চাকুরীজীবি, টিউশন মাস্টার, জোম্যাটো, সুইগিতে কাজ করা ডেলিভারি বয় ইত্যাদি।

একদিকে করোনার চোখ রাঙানি, মৃত্যু ভয়, আরেকদিকে পেটের খিদের দাবী মেটাতে গিয়ে গরীব মানুষের দিশাহারা অবস্থা।  দীর্ঘদিন ট্রেন-বাস বন্ধ থাকায় আরও বেশী করে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে; কাজ হারাচ্ছে। বিকল্প কাজের ব্যর্থ সন্ধানে থেকে হতাশায় ভুগছে মানুষ। নিজের এলাকাতেই বা আশেপাশের লোকালয়গুলোতে অনেকেই সব্জি বা মাছ বেচছে; তাতেও বিক্রিবাটা ভালো হচ্ছে না।  বস্তির অল্প বয়সী যুবকেরা কাজ হারিয়ে কেউ বেকার বসেই আছে, কেউবা মরসুমী ফল বিক্রি করছে, কেউবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরিবারের পেট চালাতে সুইগি – জোম্যাটোর মতো কোম্পানিগুলোতে বারো-চোদ্দো ঘন্টা ঘাম ঝরাচ্ছে। বিধাননগর স্টেশন সংলগ্ন বাসন্তী কলোনীর বাসিন্দা শুভজিৎ মুখার্জী একটি বেসরকারি কোম্পানিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেভেল বা স্টিকার বানানোর মেশিন চালান; করোনার প্রথম ঢেউয়ের লকডাউনে মালিকের সাথে কম মাইনা দেওয়া নিয়ে বচসা হলেও কাজ ছাড়তে পারেননি। বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে মালিক এখন যা দিচ্ছে তাই নিয়েই বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাকে। স্ত্রী বাবুদের বাড়ি পরিচারিকার কাজ করলেও, সেখানেও পারিশ্রমিকে কাটছাঁট হয়েছে। দুই ছেলের একজন লকডাউনের আগে থেকেই বেকার, আর একজন লকডাউনে কাজ হারিয়েছে। সংসার চালানো এখন মুশকিল হয়ে পড়েছে। স্বপ্ন, পরিকল্পনা, জীবন গোছানো এখন বিলাসিতা, খিদে মেটাতে খাবার জোগাড় করাটাই এখন চ্যালেঞ্জ। যুগল হাজরা, রাজমিস্ত্রী – এক মাসেরও বেশী সময় ধরে তার কাজ নেই। কাজের খবর পেলেও ট্রেন বন্ধে যাতায়াতের সমস্যার জন্য কাজে যেতে পারছেন না। প্রদীপ হাইত, পেশায় অটো চালক। ঘরে দুই মেয়ে এবং বৌয়ের পেট চালাতে অটো চালানো ছেড়ে এখন ডাব বেচছেন। তবে আগের তুলনায় লকডাউন শিথিল হওয়ায় আবার পুরোনো পেশায় ফিরে এসে দিনে একবার অটো চালিয়েও রোজগারের চেষ্টা করছেন।

যে যেখানেই থাকুক, তাকে সেই ঠিকানাতেই রেশন দিতে হবে, সুপ্রিমকোর্টের এমন নির্দেশ অনুযায়ী সেভাবে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। সল্টলেকের মতো ঝাঁ চকচকে এলাকার আনাচে কানাচে থাকা ঝুপড়ি, বস্তির মানুষগুলো লকডাউন পরিস্থিতে রেশন ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। সল্টলেকের বেশীরভাগ বস্তিবাসীর সল্টলেকের ঠিকানায় ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড নেই।  লকডাউন পরিস্থিতিতে আপৎকালীন কোনোওরকম কার্ড বা স্লিপের মাধ্যেমে রেশন পৌঁছে দেওয়া যায়, কিন্তু সরকার সেটা করছে না। এখানেও সেই ভোট পাওয়ার রাজনীতিতে এলাকার নেতাদের হাত স্বার্থপরতায় বাঁধা । সে তুমি হওনা, এ রাজ্য বা অন্য রাজ্যের বাসিন্দা, নেতার এলাকার ভোর্টার না হলে তোমার জন্য নীচ থেকে ওপর, কোনো মহল থেকেই কোনও পরিষেবা আসবে না। বিদ্যুৎহীন ঘরে গরমে কষ্ট পেতে হবে, অন্ধকারে কোনরকমে মোমের আলো জ্বেলে সন্তানেরা পড়াশোনা করবে বা আলোহীন হয়ে বসে থাকবে, পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই  – এইভাবেই বস্তির মানুষগুলোকে নাগরিক পরিষেবা বঞ্চিত জীবন কাটাতে হবে। এইটাই সল্টলেকের মতো বস্তির মানুষদের ভবিতব্য, এটাই যেন স্বাভাবিক। এই করোনা ভাইরাস, লকডাউন তো ছারখার করে দিচ্ছে ‘দিন আনা দিন খাওয়া’ মানুষের জীবন। নাগরিক পরিষেবাহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বছরের পর বছর কষ্ট সহ্য করে জীবন যাপন করাটাও তার থেকে কিছু কম নয়।

রেশন ব্যবস্থা বা খাদ্য সুরক্ষা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার অধিকার যেমন এই মানুষগুলোর আয়ত্বের বাইরে তেমনি শহরের কিছু বস্তি অঞ্চল বাদ দিয়ে বেশী সংখ্যক বস্তি অঞ্চলে এখনো ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু হয়নি।

এই হল কলকাতার বস্তিবাসীদের দৈনন্দিন জীবন। অথচ শহর পরিস্কার রাখার কাজ এরাই করে, ফুটে বসে হকারি করে, রিক্সা, ভ্যান চালায়, শিল্পে উৎপাদন করে,  এককথায় নাগরিকদের চাহিদা এরাই মিটিয়ে চলে প্রতিদিন। পরিণামে জোটে বাঁশ,  ত্রিপলের কোন রকমে অধিকারহীন  মাথার ছাউনি। যে জমিতে থাকে তার উপর আইনি অধিকার না থাকায় পাকা বাড়িও বানাতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলিও ভোটের টানে নানান মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিটিং মিছিলে ভিড় বাড়ায়। অটল মিশন ফর আর্বান রিজুভিনেশন এন্ড ট্রান্সফরমেশন (AMURT) নামে দারিদ্রের জন্য আইনি ব্যবস্থা থাকলেও তা পেতে গেলে জমির উপর যে অধিকার থাকা দরকার তা এই সব বস্তিবাসীদের নেই। ‘ সকলের জন্য বাসস্থান ‘ নীতিতে ভারত সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সাক্ষর করলেও তা কিন্তু বাস্তবে কার্যকর হয় না।

আর বস্তির লোকেরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ এর মধ্যে দিয়ে প্রতিযোগিতা – সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে নিজেরা বেঁচে থাকে। নিজেদের সস্তা শ্রম দিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকে। সম্মান নিয়ে বাঁচা, ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানীয়জল,  শৌচাগার এসব বস্তি জীবনে  দুর্লভ। অথচ  আমাদের সুস্থ চেতনা দিয়ে এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এই সমস্ত শ্রমজীবী নিপীড়িত মানুষের জীবনে উন্নতি না ঘটলে আধুনিক স্মার্ট শহরও অর্থহীন।

 

*লেখক গণ আন্দোলনের কর্মী

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
One Thought on বস্তিবাসীদের জীবন – মহামারি – লকডাউন
    23 Jul 2021
    3:54pm

    করোনা এসে পরিস্থিতি আরো খারাপ করেছে ও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে এই অবর্ণনীয় মানবেতর জীবনের কদর্যতা । কিন্তু এসব এক দিনে হয়নি । এঁদের অস্তিত্বের সুযোগ নিয়েছি আমরা সবাই, কিন্তু চোখ বুজে থেকেছি, উচ্ছেদ সমর্থন করে পৌনঃপুনিক ভাবে বাস্তুহারাদের সংকীর্ণতম স্থানটুকু কেড়ে নিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছি উদ্বৃত্ত আয়ে । তালাবন্ধ সে ঘর খুলে দিইনি করোনা সংকটে নার্স, ডাক্তারদের জন্যে বা isolation ward এর জন্যে ।
    এই নিদারুণ অসাম্যের দিকে আঙুল তুলে বলেছি কি একে ভেঙে গড়ার কথা ? নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে, দাক্ষিণ্য করে বস্তিবাসীদের অবস্থা একটু ফেরাতে আমরা রেডি ।

    0
    0

Leave A Comment