লকডাউন ও শ্রমিকদের আত্মহত্যা

মতামত রাজনীতি

Last Updated on 9 months by admin

লকডাউন পর্বে কাজ হারিয়ে শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা বাড়ার সাথে সাথেই বেড়েছে শ্রমিকদের আত্মহত্যার সংখ্যাও। সম্প্রতি চিতোরের উপকন্ঠে ওবানাপাল্লে গ্রামের মাত্র আঠাশ বছর বয়েসের এক মহিলা ধনলক্ষ্মী তার দুই সন্তান উদয় (৬ বছর) আর ঝাঁসি (৮ বছর) কে কুয়োতে ফেলে দেন, সাথে নিজেও কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্বামী ছেড়ে গিয়েছিল ছয় বছর আগে, বাপের বাড়িতে থেকে চিতোরের একটি হোটেলে কাজ কর্ম করে ছেলেমেয়েদের মানুষ করছিলেন ধনলক্ষ্মী। কিন্তু লকডাউনে হোটেল বন্ধ থাকায় কাজটি চলে যায় তাঁর। তারপর দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন। অবশেষে গত কাল আত্মহত্যা করার কঠিনতম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। কতটা যন্ত্রণা আর অর্থনৈতিক ক্লেশে না পড়লে একজন তার নিজের সন্তানদের হত্যার সিদ্ধান্ত নেন, তা অনুমান করাও কষ্টসাধ্য।
অবশ্য লকডাউন পর্বে কাজ হারিয়ে শ্রমিকদের আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া যেন নিত্য নৈমিত্তিক একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। NCRB এর তথ্য অনুযায়ী মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যেই কোভিড নয় এরকম লোকজনের আত্মহত্যা করে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭৭১ টা। বলাই বাহুল্য, সরকারী কোনো নথি নেই, এর মধ্যে কত অংশ শ্রমজীবী মানুষ। কোনো তথ্য নেই কতজন কাজ হারিয়ে অবসাদগ্রস্ত। কারণ কেন্দ্র সরকার বা তার শ্রমদপ্তরও শ্রমিক মৃত্যুর কোন হিসেব রাখে না। এটাই এখন এদেশের বাস্তব চিত্র।
যদিও ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মেন্টাল হেলথ সিস্টেম এ লক্ষ্মী বিজয়কুমারের প্রদেয় রিপোর্টে উনি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন ভারতে লকডাউন পরবর্তী সময়ে মোট আত্মহত্যা বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। এরমধ্যে কিছু কিছু রাজ্যে আত্মহননের পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ। যেমন, বিহারে পূর্বের তুলনায় বেড়েছে ৭ গুণ। দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ২.৫-৪ গুণ মতো, যা সত্যিই আশঙ্কার।
বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে কয়েক হাজার শ্রমিকের মৃত্যুতেও টান পড়বে না শ্রমশক্তির জোগানে, তাই পুঁজির তোষণকারী সরকারের হেলদোলও নেই শ্রমিকমৃত্যুর খতিয়ান নিয়ে।
Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on লকডাউন ও শ্রমিকদের আত্মহত্যা

Leave A Comment