‘মিট্টি সত্যাগ্রহ’ এবং দিল্লি সীমান্তে ‘শহীদ কৃষকদের স্মৃতিসৌধ’ – গোটা দেশে সাড়া ফেলল

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 6 months by admin

বিশেষ সংবাদদাতা, ৯ এপ্রিল ২০২১ :

ন্যুনতম সহায়ক মূল্যের আইনী গ্যারান্টি, তিনটি কৃষি আইন বাতিল, বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ও দূষণ বিল সহ কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত কৃষকবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে দিল্লির সীমান্তে অনির্দিষ্টকালের কৃষক আন্দোলনের ১৩৫ দিন হয়ে গেছে। এই কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে ‘মিট্টি সত্যগ্রহ’ (মাটি সংগ্রহ সত্যাগ্রহ) যাত্রা গোটা দেশ জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মিট্টি সত্যগ্রহ যাত্রা ৩০ শে মার্চ ডান্ডি (গুজরাট) থেকে শুরু হয়ে রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব হয়ে দিল্লি সীমান্তে পৌঁচেছে। এই যাত্রা চলাকালীন, ২৩ টি রাজ্যের ১৫০০ গ্রাম থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয়েছে।

মিট্টি সত্যাগ্রহ যাত্রাটি আয়োজনে মূল উদ্যোক্তা ছিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপ্‌ল্‌স মুভমেন্ট  (এনএপিএম)। ১২ মার্চ থেকে ২৮ শে মার্চ পর্যন্ত মহারাষ্ট্র, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, আসাম ও পাঞ্জাব সহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিকেন্দ্রিত আকারে মিট্টি সত্যাগ্রহ হয়।

৬ এপ্রিল কৃষকরা সিংহু সীমান্তে পৌঁছান, এবং বিকাল চারটায় সত্যাগ্রহ যাত্রা গাজীপুর সীমান্তে পৌঁছে যায়। সীমান্তে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার সমস্ত প্রবীণ ও যুব কৃষক নেতারা এই সত্যগ্রহ যাত্রার অংশ নেন।

দিল্লির নাগরিকরা ২০ টি জায়গার মাটি নিয়ে দিল্লির সীমান্তে পৌঁছে যান। অন্যান্য অনেক রাজ্যের মিট্টি সত্যগ্রহ যাত্রাও দিল্লি সীমানায় পৌঁছে যায় এবং প্রতিটি সীমান্তে শহীদ কৃষকদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।

সারাদেশ থেকে মাটি কৃষকদের আন্দোলনে শহীদদের প্রতি নিবেদিত হয়। কৃষক নেতৃত্ব স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল্যবোধ এগিয়ে নিতে যাওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।

সত্যাগ্রহ যাত্রার সময়ে কিছু ঐতিহাসিক স্থান থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয়। শহীদ ভগত সিংয়ের গ্রাম খটখাদ কালান, শহীদ সুখদেবের লুধিয়ানা জেলার নওঘরা গ্রাম, উধম সিংহের সংগ্রুর জেলার সুনাম গ্রাম, শহীদ চন্দ্রশেখর আজাদের জন্মভূমি ভাভারা, সবরমতি আশ্রম, সরদার প্যাটেলের আবাসস্থল, বারডোলি কৃষক আন্দোলনের স্থান, আসামের শিবসাগর, পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম, উত্তর দিনাজপুর, ভাসাভ কল্যাণ, এবং কর্ণাটকের বেলারি। নবরঙ্গপুর জেলার পাপডাহাণ্ডি গ্রামের মাটি ওড়িশার কৃষকরা এনেছিলেন যেখানে ১৯৪২ সালে ১৯ জন সত্যগ্রহীকে ব্রিটিশরা হত্যা করেছিল।

কৃষক আন্দোলনে শহীদদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাঁদের আত্মবলিদান যাতে ব্যর্থ না হয়ে যায় তার জন্য কৃষক ইউনিয়নগুলির নেতারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। সাধারণ নাগরিকদের কাছে তাঁরা আবেদন জানান যে সাধারণ নাগরিকরা যেন অন্নদাতার সম্মানে আন্দোলনের কর্মসূচিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on ‘মিট্টি সত্যাগ্রহ’ এবং দিল্লি সীমান্তে ‘শহীদ কৃষকদের স্মৃতিসৌধ’ – গোটা দেশে সাড়া ফেলল

Leave A Comment