ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের দাবিতে বর্ধমানে কৃষকবিক্ষোভ

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন রাজ্য

Last Updated on 9 months by admin

30 December, 2020

নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্ধমানে চাল মিল মালিকরা কৃষকদের সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দিতে চাইছেন না। কৃষকদের অভিযোগ, মিল মালিকরা তাঁদের সরাসরি জানিয়ে দেন যে তাঁরা আর সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কিনবেন না, তাঁদের ধার্য করা দামে যদি কৃষকরা ধান বেচতে রাজি থাকেন, তবেই তাঁরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনবেন। পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান।

ভাতার ব্লকের  কৃষকরা গত কয়েকদিন ধরে ধানবোঝাই লরি নিয়ে মিলের সামনে অপেক্ষা করার পর যখন চাল মিল মালিকরা তাঁদের একথা জানান, তখন তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভাতার সমষ্টি আধিকারিকের অফিসের সামনের রাস্তা অবরোধ করেন গত ২২ ডিসেম্বর।

ধান চাষিরা চাষের জন্য সব সময় সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে উপযুক্ত কৃষি ঋণ পান না। বাধ্য হয়ে তাঁরা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করেন চড়া সুদে। উৎপন্ন ধান যদি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে বিক্রি না হয় তাহলে চাষিরা বিপদে পড়ে যান। মহাজনের পাওনা মেটাতে তাঁরা পারেন না। মোহনপুরের এক কৃষকের বক্তব্য, “ আমরা ট্রাক ভাড়া করে মিলের সামনে অপেক্ষা করছি। এখন মিল মালিক বলছেন সহায়ক মূল্যে ধান কিনবেন না। এদিকে পাওনাদার বাড়িতে এসে টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। আমরা তো সহায়ক মূল্য না পেলে ধারের টাকা শোধ দিতে পারব না”।  

ভাতার ব্লকের খাদ্য দপ্তরের এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেন যে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন যে কৃষকরা ধানের সঠিক দাম পাচ্ছেন না। মিল মালিকরা ইচ্ছে করে বেশি ধান বাদ দিয়ে দিচ্ছেন। তিনি কৃষকদের বলেন তাঁরা চাইলে নৃষক মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ – কৃষক মান্ডিতে কোন নিয়ম মানা হচ্ছে না। সেখান থেকেও তারা ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।  তুলসীডাঙ্গা গ্রামের সেক সহিদুরের দাবি – মিল মালিকদের আগের মতো ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান কিনতে হবে।

কয়েকদিন আগে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা নিয়ে বর্ধমান ১ ব্লকের বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি চালকলে বিক্ষোভ দেখান  ধানচাষিরা। বিক্ষোভ চলাকালীন দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে কৃষকরা ওই চালকলের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন ও মিলের সব ইউনিট বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। পরে সেখানে এক বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অবশেষে দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আলোচনা করে সমাধানের প্রস্তাব দেন বর্ধমান থানার তরফে আইসি পিন্টু সাহা। বর্ধমান ১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক মৃণালকান্তি বিশ্বাস জানান, “খাদ্য দফতর, চালকলের মালিকদের সংগঠন ও চাষিদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় ডাকা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কেন্দ্র খুলে সমবায়ের মাধ্যমে চাষিদের ধান কেনা হবে।’’ যদিও কৃষকরা এই আশ্বাসে ঠিক ভরসা রাখতে পারছেন না।

গলসিতেও একই কারণে রাস্তা অবরোধ করেন কৃষকরা। প্রতি বছরই ধান কেনা নিয়ে গলসির চালমিল মালিকদের সঙ্গে কৃষকদের সমস্যা হয়। গলসির একটি মিলের সামনের রাস্তা কেটে দেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। এ বছরও মরসুমের শুরু থেকেই ধানের সহায়ক মূল্য নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। চাল মিল মালিকরা এক দিনে ২৫ – ৩০ জনের কাছ থেকে ধান কিনবেন বলে  ফরমান জারি করেছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, মিল মালিকরা যে দাম ধার্য করেছেন সেই দামে কৃষকরা ধান বিক্রি না করলে তারা ধান কিনবেন না বলে জানা গেছে। কয়েকজন কৃষক জানালেন, ‘‘আগের বছরও চালকল কর্তৃপক্ষ একই ফরমান জারি করেছিল। তাতে আমাদের ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার উপরে নিয়ম না মেনে প্রতি বস্তায় পাঁচ-সাত কেজি ধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন যাব কোথায়?’’   

উল্লেখ করা যেতে পারে কেন্দ্র সরকার যে কৃষি বিল এনেছে তার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সেই বিলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তুলে দিতে চেয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কৃষকদের বক্তব্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তুলে দিলে লাভবান হবে বড় পুঁজির মালিকরা। বর্ধমানের কৃষক আন্দোলনের এক নেতার কথায় –  “বিল আইনে পরিণত হওয়ার আগেই কৃষকরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পেতে বেগ পাচ্ছেন। তাও স্থানীয় মিল মালিকদের তারা সামনে পাচ্ছেন। তাদের সাথে দর কষাকষি করতে পারছেন। বড় কর্পোরেট পুঁজির সাথে গ্রামের কৃষকরা পেরে উঠবেন তো?”

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের দাবিতে বর্ধমানে কৃষকবিক্ষোভ

Leave A Comment