উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে মুসলমান মাংস বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করলো গোরক্ষা বাহিনী

আজকের খবর বিভাগ-বহির্ভূত বিশেষ খবর

Last Updated on 4 months by admin

বিশেষ সংবাদদাতা, ২৮ মে, ২০২১ :

গত ২৩শে মে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩২ বছরের মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ শাকিরকে যখন উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে গোরক্ষক বাহিনী মারধর করছিল সে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে যতই বলতে থাকুক “এটা মোষের মাংস, এটা মোষের মাংস, আমি মোষের মাংস বিক্রি করি” কেউ তার কথা শোনেনি। একজন পরিচিত প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগের ভিত্তিতে FIR দায়ের করা হয় ও তারপর থেকে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও প্রধান অভিযুক্ত মনোজ ঠাকুর এখনও ফেরার। মনোজ ঠাকুরের দাবী অনুযায়ী সে ভারতীয় গোরক্ষা বাহিনীর প্রেসিডেন্ট, তবে ঐ সংগঠন তার দাবী অস্বীকার করেছে।

FIR-এ যাদের নাম আছে তাদের মধ্যে মনোজ ঠাকুর ছাড়াও প্রদীপ, বাবু, গুলশন ওরফে গুল্লি, সুমিত, বিজয় এবং আরও ৪-৫ জনের নাম আছে। এদের বিরুদ্ধে ১৪৭ ধারা (দাঙ্গা হাঙ্গামা), ১৪৮ (মারণাস্ত্র রাখা), ১৪৯ (বেআইনি জমায়েত), ৩৮৯ (তোলাবাজি), ৩৮৬ (মৃত্যুভয় দেখিয়ে তোলাবাজি), ৩২৩ (ইচ্ছাকৃত আঘাত করা), ৫০৬ (ভয় দেখানো)। প্রত্যক্ষদর্শী জুনেইদের বক্তব্য অনুযায়ী শাকিরকে একটা গাছের সাথে বেঁধে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়।

শাকির ‘দ্য কুইন্ট’ সংবাদমাধ্যমকে বলে, “আমি যখন মোষের মাংস নিয়ে যাচ্ছিলাম ওরা আট- দশ জন মিলে আমাকে থামিয়ে চারদিক থেকে আমায় ঘিরে ধরে। আমাকে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়েই বেধড়ক মারতে শুরু করে। মনোজ ঠাকুর প্রধান লোক ছিল। আমার কানে জোরে থাপ্পড় মেরে বলে বাড়িতে ফোন করে তক্ষুনি ৫০০০০ টাকার ব্যবস্থা করতে। তারপরে ঠাকুর বলে আরও ২৫০০০ টাকা প্রত্যেক মাসে দিতে আমার কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। যদি আমি ওদের কথা না শুনি তাহলে ওরা আমার নামে গোহত্যার কেস দিয়ে দেবে। আর বুমকি দেয় – পুলিশের কাছে যেন যাওয়ার সাহস না করি।“

ভারতীয় গোরক্ষা বাহিনীর প্রেসিডেন্ট রাকেশ সিং পরিহারের মতে মনোজ ঠাকুরের বিরুদ্ধে এই ধরনের তোলাবাজির অভিযোগের কারণেই তাকে ছয় মাস আগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মোরাদাবাদের প্রধান পুলিশ অফিসার, প্রভাকর চৌধুরী একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা একজন মাংস বিক্রেতাকে মারধর করার একটি ভিডিও পেয়েছি এবং অভিযোগ পেয়ে আমরা মামলা দায়ের করেছি। পাঁচ-ছয়জন অভিযুক্ত রয়েছেন। আমরা তল্লাশি চালিয়ে সবাইকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করব।”

NDTV সূত্রে জানা গেছে – আক্রান্তের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে। তবে, NDTV সূত্রে আরো জানা গেছে – ইউপি পুলিশ স্বতপ্রনোদিতভাবে আক্রান্ত মোহাম্মদ শাকিরের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে – ‘পশু হত্যার নিষ্ঠুরতার অভিযোগ’-এ কেস দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ, অভিযুক্তরা এক এক করে শাকিরকে আধ ঘণ্টা ধরে মারতে থাকে। পুলিশ যতক্ষণে আসে ততক্ষণে মনোজ ঠাকুর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে ইতিমধ্যে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একটি সাক্ষাতকারে তার এই কুকীর্তির কথা স্বীকার করে কিন্তু বলে যে নিজে আক্রান্ত হয়েছিল বলেই ও এরকম করেছিল। তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি এখনও।

শাকির আরও বলেন যে তাকে যখন মারধর করা হচ্ছিল সেই সময় কেউ তার সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি, কারণ প্রত্যেকে ঠাকুরকে ভয় পায়। ঠাকুর ওখানে উপস্থিত সবাইকে হুমকি দিয়েছিল কেউ যেন পুলিশ না ডাকে বা ভিডিও না করে। এই ঘটনার পর থেকে রোজই কেস তুলে নিয়ে বাইরে মিটমাট করে নেওয়ার জন্য হুমকি আসছে।

সরকারের কাছে মোহাম্মদ শাকিরের দাবী তার নিরাপত্তার দায়িত্ব যেন নেওয়া হয় এবং তার উপর যাতে আর হামলা না হয় সেদিকেও নজর দেওয়া হয়।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে মুসলমান মাংস বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করলো গোরক্ষা বাহিনী

Leave A Comment