পাকিস্তানে হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগে ২৬ জন গ্রেপ্তার

আজকের খবর

Last Updated on 9 months by admin

বিশেষ সংবাদদাতা: ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ভারতবর্ষ দু’টুকরো হয়ে যায়। ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পাকিস্তানে (যদিও পরে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশ হিসাবে আলাদা রাষ্ট্র হয়ে যায়) এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে বসবাস শুরু করে। কিন্তু অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের লোকজন দু’দেশেই থেকে যায়। এখনও পাকিস্তানে হিন্দুরা বৃহত্তম অমুসলিম ধর্ম সম্প্রদায়।

পেশোয়ার পুলিশের আধিকারিকরা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, উগ্র  ইসলামিক দলের সমর্থকরা একটি হিন্দু মন্দিরের অনেকাংশ ভাঙার পর আগুন লাগিয়ে দেয়। রাতারাতি অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি পুলিশ ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কারাকের মন্দির ধ্বংস করার ঘটনাকে নিন্দা করেছে মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা রাতারাতি অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে আটক করেছে এবং মন্দিরটি ভেঙে দেওয়ায় অন্য যারা অংশ নিয়েছে তাদের ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এই ঘটনার উস্কানিদাতাদেরও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। কয়েকদিন আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মন্দিরটি সংস্কারের অনুমতি পায়। সংস্কারের কাজ শুরুও হয়েছিল। কিন্তু, উগ্র মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন তা ভালোভাবে মেনে নেয়নি। তাই তারা মন্দিরে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন  স্থানীয় মৌলবী এবং পাকিস্তানের উগ্র জামায়াত-উলেমা-ই-ইসলাম পার্টি।

পাকিস্তানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী নুরুল হক কাদরি এই মন্দিরের উপর আক্রমণকে “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার টুইটারে বলেছেন, “সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপাসনাস্থলে হামলা ইসলামে অনুমোদিত নয় এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা আমাদের ধর্মীয়, সাংবিধানিক, নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব।

কিছুদিন আগে পাকিস্তানের সরকার  ইসলামাবাদে হিন্দুদের একটি নতুন মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়। তারই কয়েক সপ্তাহ পরে এ ঘটনাটি ঘটে, যা ছিল সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।

যদিও বেশ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানে মুসলমান এবং হিন্দুরা সাধারণত একত্রে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছর উগ্র মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন  হিন্দু মন্দিরগুলিতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি তারা নিরীহ মুসলিম ছাত্রদের উপরও হামলা চালিয়েছে কোন কোন সময়। নাস্তিকদের উপর হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

যুক্তিবাদীদের বক্তব্য – “এই উপ মহাদেশে উগ্র হিন্দু ও মুসলিম মৌলবাদ সাধারণ মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে। এই মৌলবাদী শক্তিগুলি আসলে  একে অন্যের পরিপূরক। সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সমস্যা থেকে মুখ ঘোরানোর জন্য তারা মানুষে মানুষে হিংসা ছড়ানোর কাজগুলো করছে।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on পাকিস্তানে হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগে ২৬ জন গ্রেপ্তার

Leave A Comment