ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরের পুনর্নির্মাণের রায় দিল পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট

বিশেষ খবর রাজনীতি

Last Updated on 9 months by admin

বিশেষ সংবাদদাতা, ৬ই জানুয়ারি: গত সপ্তাহে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে মৌলবাদীদের ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া শতাব্দীপ্রাচীন মন্দির পুনর্নির্মাণের রায় দিল পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট। গতকাল ওদেশের মন্দিরসমূহের ট্রাস্টি বোর্ডকে (EPTB) এই পুনর্নির্মাণের রায় দিতে গিয়ে সুপ্রীম কোর্ট মন্তব্য করে, “মন্দিরের প্রতি এই আক্রমণ দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করেছে”। 

পাকিস্তানের সর্বোচ্চ কোর্ট নিজে থেকেই মন্দিরে আক্রমণের ঘটনার পর্যবেক্ষণ করার সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে গতকাল আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়, এবং ওই ট্রাস্টি বোর্ডকে নির্দেশ দেয়, সারা দেশজুড়ে কতগুলো বন্ধ আর চালু মন্দির আর গুরুদ্বারা আছে, তার হিসেব পেশ করতে।

গত বুধবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের করক জেলার তেরি গ্রামের ওই মন্দির আক্রমণ করে উগ্র জমিয়ত-উলেমা-ই-ইসলাম (ফজল উর রাহমান এর গোষ্ঠী) এর সদস্যরা। এই আক্রমনকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন নানা মানবাধিকার কর্মী ও সংখ্যালঘু হিন্দু গোষ্ঠীর নেতারা।

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি জাস্টিস গুলজার আহমেদ সহ তিন সদস্যের বেঞ্চ গতকাল এই মামলার শুনানির সময় ট্রাস্টি বোর্ডকে আরো নির্দেশ দেয় দেশজুড়ে মন্দিরগুলোর সামনে বা চারপাশে যত বেআইনি নির্মাণ আছে, সব ভেঙে দিতে এবং সেইসব নির্মানের জন্য যে যে আধিকারিক দায়ি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, EPTB হল একটি আইনি সংস্থা, যারা সারা দেশজুড়ে যত ধর্মীয় সম্পত্তি এবং দেশভাগের সময় এদেশে চলে আসা হিন্দু ও শিখসম্প্রদায় যত মন্দির ও গুরুদ্বারা নির্মাণ করেছিল, তাদের দেখাশোনা করে।

এই শুনানির সময় খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যসচিব, পুলিশপ্রধান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারসংক্রান্ত একটি কমিশন এর প্রধান ড. শোয়েব সাডল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।  ড. শোয়েব ওই ধংসপ্রাপ্ত মন্দির ঘুরে দেখেন ও সোমবার সুপ্রীম কোর্টে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করেন। তাঁর রিপোর্ট অনুযায়ী ওই ট্রাস্টি মন্দিরটিকে যথাযথভাবে রক্ষ করেনি।

গতকাল শুনানির সময় জাস্টিস ইজাজুল পুলিশপ্রধানকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, “আপনাদের গোয়েন্দা বিভাগ কী করছিল?”। তখন পুলিশপ্রধান বলেন, ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল এর একটি প্রতিবাদসভা চলছিল। উপস্থিত ছয় জন উলেমার মধ্যে একমাত্র মৌলবী মোহাম্মদ শরীফ জনতাকে উত্তেজিত করেন। তিনি আরো বলেন, ওই আক্রমণের সাথে যুক্ত ১০৯ জনকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ও দায়িত্বে থাকা এসপি, ডিএসপি সহ মোট ৯২ জন পুলিশকর্মী ও আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে। মুখ্য বিচারপতি মন্তব্য করেন, “শুধুমাত্র সাসপেনসশনই যথেষ্ট নয়”। তিনি EPTBর চেয়ারম্যানকেও একহাত নেন এই বলে যে, সরকারি মনোভাব নিয়ে তাঁর ওই চেয়ারে বসারই অধিকার নেই। তিনি বলেন, “আপনার কর্মচারীরা ধর্মস্থানের জমিতে ব্যবসা করছে। তাদের গ্রেপ্তার করুন, এবং মন্দির পুনরায় নির্মাণ করুন”। তিনি আরো বলেন, “এই মন্দির নির্মাণের টাকা নেওয়া হবে মৌলবী শরিফের থেকে”

জাস্টিস আহসান মন্তব্য করেন, “EPTB র নিজের বাড়ি তৈরির জন্য টাকা আছে, কিন্তু হিন্দুদের জন্য কোনো টাকা নেই!”

কয়েকদিনের মধ্যেই বিস্তারিত রায় প্রকাশ করা হবে বলে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য আদালত এই মামলার শুনানি স্থগিত রাখে।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দিরের পুনর্নির্মাণের রায় দিল পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট

Leave A Comment