করোনা ভাইরাস টিকা – কোভ্যাক্সিন কতটা কার্যকরী ও নিরাপদ : তথ্য চেয়ে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন

আজকের খবর বিশেষ খবর

Last Updated on 8 months by admin

বিশেষ প্রতিবেদন : ১৭ জানুয়ারি

“ভ্যাকসিন গ্রহণের ঝুঁকি ও পরিণাম কী হতে পারে, সে সম্পর্কিত তথ্য নেই” তথ্যের অধিকার আন্দোলনের কর্মীর আবেদনে বলা হয়েছে।

‘ভারত বায়োটেক সংস্থাটি তাদের দ্বিতীয় ধাপ এবং চলমান তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অনুসন্ধান ও তথ্য কোনও কাগজে প্রকাশ করেনি’।”

ভারত বায়োটেকের কোভিড-১৯ টিকা, কো ভ্যাক্সিনের প্রয়োগ শুরু হয়ে গেল সারা দেশে। ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI) ভারত বায়োটেকের কো ভ্যাক্সিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে। এই ভ্যাক্সিন কতটা কার্যকরী ও নিরাপদ সে সম্পর্কিত কোনও তথ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা জনসমক্ষে এখনও প্রকাশ করে নি। আদালত স্বতঃপ্রনোদিতভাবে সে সম্পর্কে নির্দেশ চাওয়ার আগেই শনিবার তথ্যের অধিকার আন্দোলনের কর্মী (আর.টি.আই অ্যাক্টিভিস্ট) সাকেত গোখলে DCGI –এর কাছে তথ্য চেয়ে কোভ্যাক্সিনের টিকাকরণ নিয়ে একটা জনস্বার্থ মামলার আবেদন করেছেন বম্বে হাইকোর্টে।

আবেদনে পরিষ্কার করে গোখলে লেখেন যে ১৬ই জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্যাক্সিন প্রয়োগ শুরু হয়ে গেলেও ভারত বায়োটেক, ভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া-নিরাপত্তা বা কার্যকারিতা নিয়ে যা যা তথ্য দিয়েছে তার কিছুই ডি.সি.জি.আই জনসমক্ষে আনছে না। যার ফলে, ভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষানিরীক্ষা (ট্রায়াল) পর্ব শুরু হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষ এখনও জানেনই না আদৌ কোভ্যাক্সিন তাদের জীবন সংকটে ফেলে দেবে কিনা !! কোনো সরকারী ওয়েবসাইটেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে ডি.সি.জি.আই জানুয়ারির ৩ তারিখ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে আপতকালীন অবস্থায় কোভ্যাক্সিন ব্যাবহার করা যেতে পারে, কারণ প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল পর্বের পর কোভ্যাক্সিন যে আপাত ভাবে নিরাপদ সে সম্পর্কে খানিক নিশ্চত হওয়া গেছে। কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল পর্ব এখনও চলছে।

সাকেত তাঁর মামলার আবেদনে ঠিক এই জায়গাটার ওপরই জোর দেন। কারণ কোনোরকম কোনো সরকারী তথ্য ছাড়াই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল পর্ব শুরু করে দেওয়ার মানে আসলে সরকারিভাবেই ভারত বায়োটেক তাদের ভ্যাক্সিনের সফলতা যাচাই করতে সাধারণ মানুষকে নমুনা হিসাবে ব্যবহার করছে।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ভারত বায়োটেক কিন্তু এখনও অবধি পুরোপুরি ভাবে ভ্যাক্সিনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতি পায় নি। অথচ সরকার বাহাদুর প্রায় নিজেই দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল পর্ব শুরু করে দিয়েছে।

এমনকি দ্বিতীয় পর্যায় বা চলমান তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের কোনোরকম তথ্য বা অনুসন্ধান এখনও অবধি কোম্পানির তরফ থেকে লিখিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় নি। শুধুমাত্র সরকারীভাবে প্রয়োগের অনুমতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটা রিপোর্ট বা প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অথচ মানুষের মধ্যে ভ্যাক্সিনের ব্যবহার জোরকদমেই শুরু হয়ে গেছে।

শুধু তাই নয়, ভ্যাক্সিন নেওয়ার আগে প্রত্যেককেই বাধ্যতামূলক ভাবে একটি সম্মতি পত্রে (কনসেন্ট ফর্ম) সই করতে হচ্ছে।

সাকেত এই পদ্ধতিটি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, ভ্যাক্সিন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য স্বচ্ছভাবে সাধারণ মানুষকে জানানোর আগেই কি করে একটি কনসেন্ট ফর্মে সই করিয়ে মানুষের মধ্যে এই ভ্যাক্সিনটিকে প্রয়োগ করা হতে পারে?

সাকেত আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এমনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে যে যিনি ভ্যাক্সিন নিতে আগ্রহী তিনি জানতেও পারবেন না ঠিক কোন ভ্যাক্সিনটি তাঁর ওপর প্রয়োগ করা হবে।

অর্থাৎ, ভ্যাক্সিন সম্পর্কে উপযুক্ত তথ্য, তার কার্যকারীতা ও প্রভাব নিয়ে মানুষকে অন্ধকারে রেখেই তাকে দিয়ে অনুমতি পত্রে সই করিয়ে নেওয়া আসলে সরকারের দ্বিচারিতাকেই সামনে এনে দেয়। যার খুব সহজ বাঙলায় মানে দাঁড়ায়, হয় ভ্যাক্সিন প্রয়োগের ফলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পরতে পারে বা ভ্যাক্সিন না নেওয়ার ফলে কোভিড-১৯ ইনফেকশনে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি সে মারা অবধি যেতে পারে। এবং সরকার সেক্ষেত্রে তার কোনো দায়িত্বই নিতে বাধ্য নয়।

তবে এই অতিমারি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলার রাজনীতির অভিযোগ প্রথম নয়। অভিযোগ আছে যে , বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলটি কোভ্যাক্সিনের টিকাকে নির্বাচন জেতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল!

জানা যাচ্ছে, সাকেত তাঁর সপক্ষে আবেদনে, দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত কিছু কিছু খবর উল্লেখ করেছেন। যেমন মধ্যপ্রদেশের এক ব্যক্তি কোভ্যাক্সিন টিকা নেওয়ার পর হৃদ ও শ্বাস যন্ত্র বিকল (কার্ডিয়ো-রেসপিরেটরি ফেলিওর) হয়ে মারা গেছেন। কিছুদিন আগেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল। সাকেত এমনই বিভিন্ন খবরের বর্নণা আবেদনে লিখেছেন।

অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে সাকেত গোখলে, ডি.সি.জি.আই এর কাছে তথ্য সংক্রান্ত অধিকারের ভিত্তিতে আবেদন করেছেন যার মূল বক্তব্যই হল ভ্যাক্সিন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যসহ, তার সমস্ত অনুসন্ধান অবিলম্বে ভারত বায়োটেককে সর্বসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু এখনও অবধি ডি.সি.জি.আই এই আবেদনে কোনোরকম সাড়া দেয় নি।

প্রথম দিনের টিকাকরণ অভিযানে দেশে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৭১৪জনকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে । রাজ্যে প্রথম দিন প্রায় ১৫ হাজার ৮৮৩জনের টিকাকরণ হয়েছে। কলকাতায় প্রথম দিনে ১ হাজার ৭৩৭জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। রাজ্য জুড়ে ২০৭টি কেন্দ্রে করোনার টিকাকরণের কাজ হয়েছে ।

এখন অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, “ভারত বায়োটেকের থার্ড ফেজ ট্রায়ালের রিপোর্ট কোনও সায়েন্টিফিক জার্নালে প্রকাশিত হয়নি তবুও তারা অনুমোদন পাচ্ছে তাদের ‘ভারতীয়ত্বের জন্য’। অর্থাৎ মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগানের যথার্থতা প্রমাণ করার খেসারত কি দিতে হবে ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষকে?”

বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে আরও কথা উঠে আসছে যে আর যাইহোক, অতিমারির ভয়াবহতাকে কাজে লাগিয়ে কোভ্যাক্সিনের ব্যবহার শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের হাতিয়ার হতে পারে না, এটি সাধারণ মানুষের জীবন এবং স্বাধীনতার প্রশ্ন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on করোনা ভাইরাস টিকা – কোভ্যাক্সিন কতটা কার্যকরী ও নিরাপদ : তথ্য চেয়ে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন

Leave A Comment