Home>অর্থনীতি>পি এম কেয়ার তহবিলের স্বচ্ছতার হিসেব নিয়ে কেন্দ্র সরকারের ফন্দি-ফিকির চলছেই
নিজস্ব প্রতিনিধির প্রতিবেদন 

পি এম কেয়ার ফান্ড এর প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের অসচ্ছতা প্রত্যেকদিন আরো বেড়েই চলেছে। করোনা সংকটকে কেন্দ্র করে এই বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের উপর ভিত্তি করে এই বিশেষ তহবিল তৈরি করা হয়। গোটা লক ডাউন পর্যায়েই এই তহবিলে অনুদান দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ত্রাণ তহবিল থাকা সত্ত্বেও কেন পি এম কেয়ারের মতন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে পি এম কেয়ার ফান্ডের জন্ম লগ্ন থেকেই বিতর্ক উঠেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই পি এম কেয়ার ফান্ডের চরিত্র  সরকারি না বেসরকারি তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই। ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে কেন্দ্র জানিয়েছিল – “পি এম কেয়ার ফান্ড কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে নয়। তাই এই ফান্ডের তথ্য বিশেষ তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পড়ে না।“ এর মাঝেই  সাম্প্রতিক সময়ে জনৈক ব্যক্তির করা তথ্য অধিকার আইনের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্র যে উত্তর পাঠিয়েছে তাতে এই ফান্ড নিয়ে ধোঁয়াশা আরোও বেড়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে – “এই তহবিল ভারত সরকার তৈরি করেছে। একে নিয়ন্ত্রণও ভারত সরকারই করে।“ আবার জবাবের পরের অংশে লেখা হয়েছে – “বেসরকারি সংস্থা, ব্যক্তি, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি অনুদানই এই তহবিলের মূল উৎস। এতে সরকারের কোষাগার থেকে একটি টাকাও যায় না। এর ট্রাস্টি ব্যক্তি বিশেষ। ফলে আইন অনুযায়ী এই ফান্ড আর টি আই এর অধীনে আসে না। “

বিশেষজ্ঞ মহলের বক্তব্য কেন্দ্রের জবাবের মধ্যে থাকা এই দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। একটি তহবিল একই সাথে কিভাবে সরকারি ও বেসরকারি দুটোই হতে পারে !  বহুক্ষেত্রে আবার দেখা গিয়েছে কর্পোরেট সংস্থারা এই তহবিলকে সরকারি তহবিল দেখিয়ে কর ছাড় পেয়েছে।

শুধু সরকারি বা বেসরকারি এক্তিয়ার নিয়ে বিতর্কই নয়, পি এম কেয়ার তহবিলের জমা খরচের হিসেবও ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন। সরকারি হিসেব অনুসারে এখনো অবধি এই খাত থেকে ৩১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তবে ঠিক কত টাকা বর্তমানে এই তহবিলে জমা রয়েছে তা নিয়ে কোনো সরকারি হিসেব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন বিদেশি বেসরকারি সূত্রের হিসেব বলছে শুরুর দু মাসের মধ্যেই এই তহবিলে অন্তত ১.৪ বিলিয়ন ডলার জমা পড়েছিল।  এবং এই জমা টাকার মধ্যে প্রধানত কর্পোরেট বা বিদেশি সংস্থার অনুদানই রয়েছে – কেন্দ্রীয় সরকারের এই দাবিও অবাস্তব।  সরকারি কর্মচারীদের থেকে শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ান – লক ডাউন পর্বে সবাই বিপুল পরিমাণে অর্থ এই তহবিলে জমা করেছেন।

গোটা লক ডাউন পর্ব জুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অপদার্থতার জন্য পরিযায়ী শ্রমিক সহ শ্রমজীবী জনগণ দুর্বিষহ অবস্থার শিকার হয়েছিল। কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লক ডাউনে সমস্যায় জর্জরিত শ্রমজীবী মানুষের সুরাহার  জন্য কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ মোদী  সরকার নেয়নি। বড় পুঁজিপতি তথা কর্পোরেট কোম্পানিদের বহু টাকা ছাড় দিলেও  কাজ হারানো মানুষদের জন্য নূন্যতম কোনো বিশেষ ভাতাও চালু করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।  উপরন্তু পি এম কেয়ার ফান্ড নিয়ে এই ধরণের অসচ্ছতা জারি রেখে জনগণের টাকার অপব্যবহারের আরোও নতুন পন্থা বের করছে কেন্দ্রীয় সরকার।  পি এম কেয়ার ফান্ড নিয়ে এই কার্যকলাপ মোদী সরকারের অসহিষ্ণু জনবিরোধী চরিত্রকে আরো স্পষ্ট করে দিচ্ছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অভিমত।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
error

Enjoy this website? Please spread the word :)