কেন্দ্রে বসে আছে এক নীতিহীন সরকার – মানুষকে আজ তারা ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে

আজকের খবর বিশেষ খবর মতামত

Last Updated on 5 months by admin

“কোভিড ও সাধারণ রোগ মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাদের ব্যর্থতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে – প্রাণের বিনিময়ে। একটা নীতিহীন সরকার আর যাই করুক মানুষের উপকার তারা কোনোদিন করে নি – করবেও না। সরকারের নীতিহীনতার বিরুদ্ধে আজ যদি মানুষ মুখ না খোলে তাহলে আগামী দিন মানবতাই সঙ্কটে পড়ে যাবে।” – লিখেছেন রোশেনারা মন্ডল

কেন্দ্রে বসে আছে এক নীতিহীন সরকার – মানুষকে আজ তারা ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে

রোশেনারা মন্ডল

করোনার প্রথম ঢেউ-এর ঝাপটা আমাদের দেশে শুরু হয়েছিল প্রায় চৌদ্দ মাস আগে। এখন বলছে দ্বিতীয় ঢেউ। প্রতিদিন কোভিডের তথ্য এবং মৃত্যু সংবাদ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, এই সংবাদ পরিবেশনগুলো ভীষণ বিরক্তিকর হয়ে উঠছে। অথচ গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সরকার এই মারি মোকাবিলায় কোনো সদ্‌-পদক্ষেপ নিতে পারলো না! সম্ভবত, সরকারের কোনও নীতি আছে বলে মনে হচ্ছে না! এমন নীতিহীন সরকার বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না। সরকারের আজকের নীতিহীনতা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

২০১৪-র আগে UPA সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা সঠিক কোনো নীতি গ্রহণে অক্ষম। “পলিসি প্যারালিসিস” শব্দবন্ধটি তাদের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত। কিন্তু আজ যারা সরকার চালাচ্ছে তারা তো সমস্ত পলিসির মৃত্যুঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে। COVID-19 এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিবাক্য ছিল  ছিল “জব তক দাওয়াই নেহি, তব তক ঢিলাই নেহি” (যতক্ষণ ওষুধ নেই, ততক্ষণ ঢেলেমি দেওয়া চলবে না)। মোবাইলে ব্যারিটোন ভয়েস আমাদের প্রতি ফোন কলে মনে করিয়ে দিত একথা। ভাবলাম সরকার “পলিসি প্যারালিসিস” থেকে বেরিয়ে সদা সতর্ক এবং আমাদেরকেও সতর্কতা বাণী শোনাচ্ছে। এসব বাণীর মাঝে আমরা ১২ নভেম্বর ২০২০তারিখে দেশের অর্থমন্ত্রীর বানী শুনলাম – কোভিড ভ্যাক্সিন গবেষণায় ৯০০ কোটি টাকা সরকার খরচ করছে। সেই গবেষণার ফসল হিসাবে আমরা দুটো ভ্যাক্সিনের নামও জেনে ফেললাম। কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন। WHO-এর প্রশংসা কুড়োলাম। “আত্মনির্ভর ভারত”-এর ৫৬ ইঞ্চি ছাতি ফুলে ১১২ ইঞ্চি হয়ে গেল। বিদেশে ভ্যাক্সিন রপ্তানি করা হল। (যদিও ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকে গেল)। প্রধানমন্ত্রী, ২০ জানুয়ারী, ২০২১ বিশ্বকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করে দেশের গর্ব প্রকাশ করার জন্য টুইটও করে দিয়েছিলেন।

সকলের জন্য ভ্যাক্সিন ?

সামনে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাই ঘোষণা করে দিলেন – দেশের প্রতিটি নাগরিক ভ্যাক্সিন পাবে সরকারি খরচে – ধাপে ধাপে। কোভিড যোদ্ধারা পেতে শুরু করলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষরা লাইনে দাঁড়ালেন ঘন্টার পর ঘন্টা। কেউ কেউ পেলেন – কেউবা আবার পেলেন না, ভ্যাক্সিন সরবরাহ নেই বলে। ৪৫এর বেশি বয়সীরাও লাইন দিলেন তাদেরও কেউ পেলেন – কেউবা পেলেন না। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৮ শতাংশ ভারতবাসী প্রথম ডোজের ভ্যাক্সিন পেয়েছে। মাত্র ১.৪ শতাংশ পেয়েছে দ্বিতীয় ডোজ। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩৭ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাক্সিন পেয়েছে। এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৫০ টাকায় ভ্যাক্সিন মিলেছে। মে মাস থেকে তাও মিলবে কিনা জানা যাচ্ছে না।

এখন শোনা যাচ্ছে আঠারোর্ধরাও পাবেন। কিন্তু পয়সা দিয়ে না বিনা পয়সায় তা খোলসা করে আর বলছেন না। ভোটতো প্রায় মিটে গেছে – তাই অত খোলসা না করলেও চলে। কিন্তু খোলা বাজারে “ফেল কড়ি মাখো তেল” নীতিতে ভ্যাক্সিন পাওয়া যাবে ৬০০ ও ১২০০ টাকায়। তাহলে সরকারের ৯০০ কোটি টাকা কোথায় গেল? বাজেটে কোভিড মোকাবিলায় ভ্যাক্সিনের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ৩৫০০০ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল? শোনা গেছে এই সব কোম্পানিকে সরকার গবেষণার কাজে সাহায্য করেছে। ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি চায় ব্যাপক পরিমাণ মুনাফা। তাই কোভ্যাক্সিন মে মাস থেকে রাজ্য সরকারকে দেওয়া হবে ৬০০ টাকায়, বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ১২০০ টাকায়। প্রকৃতপক্ষে ভ্যাক্সিনের উপর কোনও সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। খোলা বাজারে ভ্যাক্সিনের কালোবাজারি চলবে। তাহলে সরকারের অর্থাৎ আমার –আপনার পকেটের টাকা নিয়ে গবেষণা করে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়ে দিল মোদী-শাহরা কোম্পানিগুলিকে অতি মুনাফা পাইয়ে দেওয়ার জন্য?

কুম্ভ মেলা  – সুপার স্প্রেডার ইভেন্ট?

দেশ যখন কোভিডের  দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়েছে, তখন হরিদ্বারে চলমান কুম্ভ চলাকালীন প্রায় ৫০ লক্ষ ভক্ত তিন দিনে জমায়েত করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল এই কুম্ভটি ছিল ‘প্রতীকী’। এটিকে একটি সুপার-স্প্রেডার ইভেন্ট ছাড়া কিছু বলা যাবে না। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে তখন দেশে ব্যাপক হারে করোনা ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পরম ভক্তিভরে জানালেন, এই মহাকুম্ভে মা গঙ্গায় এক ডুব দিলেই না কি করোনা ভাইরাস পালাবে! অথচ গত বছর সরকারি অনুমতি নিয়ে দিল্লিতে তবলিক জমায়েতকে দেশদ্রোহীতার সমান বলে চিহ্নিত করেছিলেন বিজেপি নেতারা।

কোভিড-১৯ মারির দ্বিতীয় ঢেউ-এর এই মারণাত্মক চেহারা  দেখার আগে কেটে গেছে ১ বছরের বেশি সময়। ডাক্তার -বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞরা গত বছরের অক্টোবর – নভেম্বর মাস থেকে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা দিয়েছিলেন।  ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী, থেকে বহু সাধারণ মানুষ গত এক বছরে জেনে গেছেন এই কোভিড-১৯কে মোকাবিলা করতে হলে কী কী করা দরকার। মুখে মাস্ক, নিয়মিত হাত ধোওয়া, জ্বর এলে সোয়াব নিয়ে কোভিড পরীক্ষা করা, করোনা পজিটিভ হলে নিভৃতবাস, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দরকার। তারজন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা, অক্সিজেন সহ শয্যা বা সিসিইউ শয্যা, ভেন্টিলেটর, ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা – এসব করার কথা ছিল কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারগুলোর। এসব অতি প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা আমলারা জানতেন – মন্ত্রীরা জানতেন। কিন্তু,তাঁরা কিছুই করলেন না।

নির্বাচন – জন সমাগম – ভুলে যাওয়া হলো করোনা রোগ – ভ্যাক্সিন – অক্সিজেন !

করোনা সংক্রমণ সামান্য কম হতেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষিত হল, সেখানে নির্বাচনে জয়লাভ করলে সকলের জন্য বিনামূল্যে ঢালাও ভ্যাক্সিন বিলি করার প্রতিশ্রুতি দিল শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা। ভোটে জেতার পর প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে গেলেন নেতা-মন্ত্রীরা। তারপর পাঁচ রাজ্যে ভোট হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী, সরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক ছোট বড় নেতা-মন্ত্রীরা ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকলেন। হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব। তাতে তাঁদের ভ্রূক্ষেপ নেই। মানুষ ভ্যাক্সিন পাচ্ছেন না । তাতে তাঁদের নজর দেওয়ার সময় নেই। প্রথম ডোজ যারা পেয়েছেন তাঁরা দ্বিতীয় ডোজ পাবেন কবে তার খবর পাওয়া যাচ্ছে না। বহু হাসপাতালে “NO VACCINE” নোটিশ পড়ে গেছে। দেশের সব মানুষের ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা না করে কেন রপ্তানি করা হলো ভ্যাক্সিন? অপদার্থ সরকার তার জবাব দেবে কি? দেশের মূমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা না করে দেশের বাইরে গতবছরের তুলনায় দ্বিগুন অক্সিজেন পাঠানো হলো – কেন?

নিজের দেশের সব মানুষের ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা না করে বিদেশে ভ্যাক্সিন পাঠিয়ে নরেন্দ্র মোদী বা তাঁর সরকার বাহবা কুড়োতে চেয়েছে। আর “জব তক দাওয়াই নেহি, তব তক ঢিলাই নেহি” স্লোগানকে নিজেরাই বুড়ো আঙ্গুল  দেখিয়ে পাঁচ রাজ্যে ভোটের আগে সমস্ত করোনা বিধি শিকেয় তুলে দিয়ে ব্যাপক জন-সমাবেশ ঘটিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে সরাষ্ট্রমন্ত্রী একের পর এক রোড শো করেছেন মাস্ক না পরেই। বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি জনসভা ও কোভিডের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই বলে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যান্য দলের নেতা – মন্ত্রীরা এই কোভিড বিধিকে উপেক্ষা করেছেন। নির্বাচন কমিশন চোখে ঠুলি পরে বসেছিলেন। মাদ্রাজ হাইকোর্ট করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য শুরুমাত্র নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করল। মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেছেন, ‘কমিশনের অফিসারদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা উচিত।

একের পর এক রাজ্যের হাইকোর্ট সমস্বরে সরকারগুলিকে তিরষ্কার করেছে। অক্সিজেনের অভাবে রোগীরা মারা যাচ্ছেন। রাস্তায়, ফুটপাথে, হাসপাতাল করিডরে বা বিছানায় রোগীরা অপেক্ষা করছেন একটু অক্সিজেন পাওয়ার জন্য।  গত ২৪ এপ্রিল দিল্লির জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে ২০ জন কোভিড রোগী অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে মারা গেছে। একই দিনে অমৃতসর নীলকণ্ঠ হাসপাতালে ছ’জন রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন। মহারাষ্ট্রে দুইজন মারা গেছেন। ২৩ তারিখে দিল্লির শ্রী গঙ্গারাম হাসপাতালে ২৫ জন। ২৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে চারজন কোভিড আক্রান্তের মৃত্যু। সারা দেশ জুড়ে মৃত্যুমিছিল চলেছে অক্সিজেনের অভাবে।

আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলছে – কেন কেন্দ্র সব ভ্যাক্সিন কিনে নিচ্ছে না? কেন্দ্রের জন্য এক দাম, রাজ্যের  জন্য আরেক দাম, বেসরকারি হাসপাতালের জন্য আরো অন্য দাম- এরকম “খুব বিরক্তিকর”  (very very disturbing) নীতি কেন? অ্যাপ ডাউনলোড করার ক্ষমতা যাদের নেই বা স্মার্টফোন যাদের নেই, তারা টীকা নেবে না? পুরো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কী করে কয়েকজন টীকা ব্যবসায়ীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হল? কেন্দ্র – রাজ্যের মধ্যে বৈষম্য হবে কেন? এসব প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

কোভিড ও সাধারণ রোগ মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার আজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাদের ব্যর্থতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে – প্রাণের বিনিময়ে। একটা নীতিহীন সরকার আর যাই করুক মানুষের উপকার তারা কোনোদিন করে নি – করবেও না। সরকারের নীতিহীনতার বিরুদ্ধে আজ যদি মানুষ মুখ না খোলে তাহলে আগামী দিন মানবতাই সঙ্কটে পড়ে যাবে।

  • এই বিভাগের মতামত লেখকের নিজস্ব
Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
One Thought on কেন্দ্রে বসে আছে এক নীতিহীন সরকার – মানুষকে আজ তারা ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে
    সিদ্ধার্থ বসু।
    1 May 2021
    8:19am

    COVID নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যা চলছে তা বিশ্বজোড়া কোন মহা প্রকল্পের অংশ। অবশ্যই তার নির্মাণের সঙ্গে বিশ্ব জোড়া পুঁজিবাদী শৃঙ্খলের ফিন্যান্স পুঁজির শৃঙ্খলের যোগ আছে। এ প্রশ্ন ইতোমধ্যেই উঠেছে যে এই ভাইরাস জন্মেছে কোন পরীক্ষাগারে। এবং আমাদের দেশের সরকারগুলোর সাথে বিশ্ব পুঁজিবাদ বা ফিন্যান্স পুঁজিবাদের সখ্য সর্বজনবিদিত। এর প্রমাণ হচ্ছে ভারতের কোন বড়ো পুঁজিপতি Covid পরিস্থিতিতে লোকসান করেনি পরন্তু অতি মুনাফা করেছে।
    একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বিশ্ব পুঁজিবাদের যে সংকট চলছে তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই প্রকল্প হাথে নেওয়া হয়েছে বলে একদল সমাজকর্মী, পুঁজিবাদ বিরোধী অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, virologist ইত্যাদি বিভিন্ন স্তরের মানুষ বলতে শুরু করেছেন।

    0
    0

Leave A Comment