এক বছর জুড়ে চলা কৃষকদের অনমনীয় লড়াইয়ের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 1 week by admin

বিশেষ সংবাদদাতা, ১৯ নভেম্বর,২০২১ :

কৃষক আন্দোলনের কাছে অবশেষে মাথা নোয়াতে বাধ্য হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিতর্কিত ও ‘কৃষক বিরোধী – জন বিরোধী’ তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। ২০১৪ পর ক্ষমতায় আসা নরেন্দ্র মোদী এই সাত বছরের রাজত্বে এই প্রথম কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেন।

আজ গুরু নানকের জন্মদিনে সকাল ন’টায় আচমকাই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন যে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করা হবে। তিনি জানান যে আসন্ন রাজ্যসভার শীতকালীন অধিবেশনেই আইনগুলো প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করবে সরকার। অধিবেশন শুরু হচ্ছে ২৯ নভেম্বর।

দিল্লি সীমান্তে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক বছর ধরে বিক্ষোভকারী কৃষক আন্দোলনের এটাই সবচেয়ে বড় বিজয়। আজ ছিল আন্দোলনের ২৫৮ তম দিন। এসময় দেশের কৃষক সংগঠনগুলি আন্দোলনের ১ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ভাষণে বলেছেন- “আমরা আমাদের দেশের কৃষকদের বোঝাতে পারিনি। এটা কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। আমি আপনাদের বলতে চাই যে আমরা কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী  কৃষকদের বাড়ি এবং  ক্ষেতের মাঠে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি এও বলেছেন যে এই আইনগুলি কৃষকদের উন্নতির ছিল এবং তিনি  দাবী করেন এই আইনগুলি নাকি কৃষক এবং অর্থনীতিবিদদের দাবি মেনে করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা প্রধান মন্ত্রীর এই দাবিকে মিথ্যা দাবি বলে অভিহিত করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২০ সালের জুন মাসে অধ্যাদেশের মাধ্যমে কৃষক-বিরোধী, কর্পোরেট-সমর্থক তিন কালো কৃষি আইন আনেন। কৃষকদের আন্দোলনের চাপে আজ সেই তিন আইন প্রত্যাহার করার কথা জানান।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি তারা জানিয়ে দেন যে যতদিন না আইনসভায় এই আইন বাতিল হচ্ছে ততদিন তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। যদি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়িত হয় তবে এটি হবে ভারতে দীর্ঘ এক বছরের কৃষকদের সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিজয়। তবে এ সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন প্রায় ৭০০ কৃষক। লখিমপুর খেরিতে খুন সহ সমস্ত কৃষকের মৃত্যুর জন্য  কেন্দ্রীয় সরকারের হঠকারিতা দায়ী।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেয় যে কৃষকদের আন্দোলন শুধুমাত্র তিনটি কালো আইন বাতিলের জন্য নয়, বরং কৃষি পণ্য এবং সমস্ত কৃষকদের জন্য উপযুক্ত মূল্যের একটি বিধিবদ্ধ গ্যারান্টির জন্যও তারা আন্দোলন করছেন। কৃষকদের এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো মেটে নি। বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারেরও দাবি রয়েছে। এসকেএম সমস্ত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। তারপর তাঁরা  আগামী দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করবেন। তারা শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর মুখের কথায় আস্থা রাখতে পারছেন না।

Please follow and like us:
error17
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on এক বছর জুড়ে চলা কৃষকদের অনমনীয় লড়াইয়ের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Leave A Comment