উচ্চশিক্ষার পাঠক্রম থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচী

আজকের খবর গণ-আন্দোলন বিশেষ খবর রাজ্য

Last Updated on 2 weeks by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ১০ সেপ্টেম্বর,২০২১ :

উচ্চশিক্ষার পাঠক্রমে জ্যোতিষকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে  জ্যোতিষের জালিয়াতিতে সরকারি শিলমোহর দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদে আজ ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (IGNOU) কলকাতা দপ্তরে বিভিন্ন বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংগঠন, ছাত্র-ছাত্রী সংগঠন ও অন্যান্য গণ সংগঠন  স্মারকলিপি দিল IGNOU-এর আঞ্চলিক অধিকর্তার কাছে। করুনাময়ী বাস স্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি, গণবিজ্ঞান সমন্বয় কেন্দ্র, আরএসএফ, এআইএসএ, পিডিএসএফ সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের সদস্যরা মিছিল করে IGNOU আঞ্চলিক দপ্তরের সামনে আসেন। সেখানে সভা করাতে বাধা দেয় পুলিশ। ময়ূখ ভবনের সামনে তাঁরা পথসভা করেন। পথসভা চলাকালীন একদল প্রতিনিধি IGNOU পূর্বাঞ্চল অধিকর্তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান – IGNOU পূর্বাঞ্চল অধিকর্তা স্মারকলিপি যথাস্থানে পৌঁছে দেবেন বলেছেন।

সম্প্রতি ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (IGNOU) তাদের উচ্চশিক্ষার পাঠক্রমে স্নাতকোত্তর ও ডিপ্লোমা কোর্স হিসেবে জ্যোতিষ শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছে। ২০০০ সালে অটল বিহারী বাজপায়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার UGC-র অন্তর্ভুক্ত সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় জ্যোতিষ শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত কথা বলেছিল। দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীরা ও বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ তার প্রতিবাদ করেছিলেন। পরবর্তীতে UPA সরকার তা স্থগিত রাখে। আবার নরেন্দ্র মোদীর আমলে আবার উচ্চশিক্ষায় জ্যোতিষ শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা হয়েছে।

ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস্ ভট্টাচার্য বলেন, ” শিক্ষাক্ষেত্রে জ্যোতিষের অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় সংবিধানের ৫১এ(এইচ) ধারা অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক মেজাজ ও অনুসন্ধিৎসা গড়ে তোলবার ঘোষিত মৌলিক কর্তব্যের পরিপন্থী।”

স্মারকলিপি দিতে আসা এক ছাত্র বলেন, “এই কেন্দ্রীয় সরকারকে দিয়ে ইউজিসি-কে আরএসএস তার এক শাখায় পরিণত করতে চাইছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও ইউজিসি উচ্চশিক্ষার পাঠ্যসূচিতে জ্যোতিষশাস্ত্র অন্তর্ভূক্ত করে সমাজে অন্ধবিশ্বাস ও অপবিজ্ঞানের প্রসার ঘটাতে চাইছে। সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে দমিয়ে রাখতে তাদের অদৃষ্টবাদী চিন্তায় আচ্ছন্ন করে রাখতে চাইছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার। সেইজন্যই অবৈজ্ঞানিক ও মানুষ ঠকানো এই শাস্ত্রকে বৈধতা দিয়ে  বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে।“

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পেশা হিসাবে জ্যোতিষচর্চা কোনও বৈধ পেশা নয়। বৃত্তি বিষয়ক আইন ১৯৭৯-এ আইনসম্মত পেশার তালিকায় জ্যোতিষের কোনো উল্লেখ নেই। আবার, ড্রাগস্ অ্যান্ড ম্যাজিক রেমিডিজ অ্যাক্ট, ১৯৫৪ অনুযায়ী  যদি কেউ মন্ত্র-তন্ত্র, দোয়া-তাবিজ, কবচ-মাদুলি বা কোনও প্রলোভনের সাহায্যে মানুষের রোগ সারানোর দাবি করেন বা এইসব দাবিসহ বিজ্ঞাপন দেন, তাহলে তিনি আইনের চোখে অপরাধী হিসাবে গণ্য হবেন। তাই, আইন অনুযায়ী মানুষকে প্রতারণা করার কারণে জ্যোতিষীদের দোষী সাব্যস্ত করা যায় বলে মনে করেন যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞান-মনস্ক মানুষেরা।

 

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on উচ্চশিক্ষার পাঠক্রম থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচী

Leave A Comment