বিপন্ন নদী বাঁধ, ভাঙন রুখতে নদীর বাঁধ সংস্কারের দাবি গোটা মালদা জুড়ে

আজকের খবর বিশেষ খবর রাজ্য

Last Updated on 3 months by admin

নিউজ ডেস্ক, ২৬ জুন,২০২১ :

মালদা সহ গোটা উত্তর বঙ্গে বর্ষা নেমে গেছে। উত্তরের প্রায় সব কটি নদী ভারী বৃষ্টির ফলে  গুলি ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। কুশী – মহানন্দা সহ সব নদীতে জলস্তর বেড়েছে। নদীগুলোর সংস্কার না হওয়ার ফলে নাব্যতা কমেছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় মহানন্দার নদী বাঁধে ফাটল দেখা গেছে। কুশীর ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। ফলে নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের আতঙ্কে দিন কাটছে।

কুশী নদীর পাড়ে ব্যাপক ভাঙনে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে মালদার মানিকচক ব্লকের হিরানন্দপুর গ্রামপঞ্চায়েতের ও উত্তর চণ্ডীপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই অবস্থায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসীরা। প্রতিবছর বর্ষার মরসুমে এই এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখেছে এলাকাবাসী। বিস্তীর্ণ জমি গঙ্গা গিলে ফেলেছে বিগত বছরগুলোতে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কেশবপুর, কাল্টনটোলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক হারে ভাঙন শুরু হয়েছে । আর এতেই নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের আতঙ্ক বাড়ছে। গঙ্গার (কুশী) ভয়ঙ্কর রূপ থেকে এলাকাকে বাঁচাতে প্রশাসন যাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, সেই আবেদন করছেন নদী তীরবর্তী পরিবারগুলি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই এলাকাগুলিতে নদী বাঁধ ভাঙন রোধের কাজ কোনোদিন সঠিক হয়নি। দ্রুত এই সমগ্র এলাকাজুড়ে ভাঙন রোধের কাজ না হলে ফের ভাঙনে তলিয়ে যাবে প্রায় দশ বারোটি গ্রাম। গ্রামবাসীদের আবেদন – প্রশাসনের দ্রুত ভাঙন রোধের কাজে নজর দিক।

অন্যদিকে, মহানন্দার জলও ফুলে ফেঁপে উঠেছে।  মালদার চাঁচলের মহানন্দা নদী লাগোয়া  যদুপুর,গালিমপুর, শ্রীপতিপুর গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বাঁধের অবস্থা ভালো নয়। যেকোনও সময় বাড়িঘর, চাষের জমি তলিয়ে যেতে পারে মহানন্দায়।ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভাঙন। গ্রামবাসীর অভিযোগ করছেন যে প্রায় দশ বছর আগে ভাঙনের সময় সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান করতে বড় বড় পাথর দিয়ে নদীর ভাঙন রোধে তৈরি করা বোল্ডার ফেলা হয়েছিল। কিন্তু, তারপর দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেই। এখন বোল্ডার ভাঙতে শুরু করেছে। প্রশাসন যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় – এই তাঁদের আবেদন।

২০১৭ সালের ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যার কথা এখনও গ্রামবাসীরা ভোলেন নি। প্লাবনের ফলে সেবছর গ্রামছাড়া হয়েছিল গালিমপুর,ভবানীপুর,যদুপুর, শ্রীপতিপুর দহ বহু গ্রামের মানুষ। গ্রামবাসীদের দাবি, সময় থাকতে থাকতে বাঁধ মেরামত করা হোক। তা নাহলে  অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে চাষবাস – নষ্ট হয়ে যাবে ফসল।

স্থানীয় বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ সমস্যার কথা জেলায় মন্ত্রী সেচ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবিনা ইয়াসমিনের নজরে আনা হবে বলে জানিয়েছেন। ফরাক্কা বিধানসভার অন্তর্গত আকুড়া ব্রিজ ঘাট থেকে শুরু করে মামরেজপুর, মহেশপুর, অর্জুনপুর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় গঙ্গা ভাঙন পরিদর্শন করার সময় মন্ত্রী  সাবিনা ইয়াসমিন  বলেন, কেন্দ্র সরকার ভাঙন রুখতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মালদার ভাঙন প্রবন এলাকার মানুষের বক্তব্য , কেন্দ্র – রাজ্য টানাপোড়েন না করে গ্রামবাসীদের বাঁচানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করুক প্রশাসন।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on বিপন্ন নদী বাঁধ, ভাঙন রুখতে নদীর বাঁধ সংস্কারের দাবি গোটা মালদা জুড়ে

Leave A Comment