২৬ মে ‘কালা দিবস’ পালনের আহ্বান সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার : সমর্থন ট্রেড ইউনিয়নগুলির

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 4 months by admin

বিশেষ সংবাদদাতা, ২১ মে, ২০২১ :

এই সময় কেন্দ্রীয় সরকার করোন ভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সারা বিশ্বে বরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকার আজ সমালোচবার মুখে পড়েছে। ঠিক এই সময়ই  ভারতের চলমান ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন ছ’মাস পূর্ণ করছে। এই মহামারীর সময় তাঁরা যেমন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তেমনই অসুস্থ মানুষের পরিষেবার জন্য অবস্থান স্থলে অক্সিজেন পার্লার চালিয়ে মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে  ৪০ টিরও বেশি কৃষক ইউনিয়নের মোর্চা – সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এসকেএম) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের উপর চাপ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমান্তে তাঁদের ছয় মাসের বিক্ষোভ  পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ২৬ শে মে “কালা দিবস” পালন করার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদী  ২৬ শে মে, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে  প্রথম  শপথ গ্রহণ করেছিলেন। মোদীর আমলেই ‘কৃষক বিরোধী কৃষি আইন’ পাশ হয়। গত ছয় মাসে এসকেএম এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে, এবং দাবি করেছে যে সরকার কৃষি আইন বাতিল না করলে প্রতিবাদ আন্দোলন বন্ধ করবে না। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলিও সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছে। গত বছর ২৬ মে তারা সর্বভারতীয় ধর্মঘট পালন করেছিল।

“কালা দিবস” পালন করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে এসকেএম-এর মুখপাত্র এবং কৃষক নেতা বলবীর সিং রাজেওয়াল জানিয়েছেন যে তাঁরা মোর্চার সদস্য – সমর্থক এবং অন্যদের ২৬ মে তাদের বাড়িতে, যানবাহনে ও দোকানে কালো পতাকা লাগানোর আবেদন করছেন। এমনকি তাঁরা কালো ব্যাচ লাগানোর আবেদনও করেছেন।

তিনি বলেছেন, “আমরা প্রতিবাদের একটা রূপ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূশপুতুল দাহ করব”। অনেকের মতে এসকেএম ২৬ মে এর বিক্ষোভের মাধ্যমে কৃষকদের সাথে আলোচনা শুরু করার জন্য সরকারের উপর চাপ দেওয়ার আরও একটি উদ্যোগ নিচ্ছে। এখন অবধি, সরকার আলোচনার ব্যাপারে কোনও সদর্থক উদ্যোগ দেখায় নি। তাতে আলোচনার ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আর কৃষকরা চাইছেন, প্রকৃতি ও কৃষক পরিপন্থী তিনটি কৃষি আইন বাতিল করা হোক।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা র আহ্বানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি একটি বিবৃতিতে বলেছে, “সেই দিনটিকে ‘কালা দিবস’ হিসাবে পালন করার আহ্বান করা হয়েছে কারণ, গত সাত বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। মোদী সরকার কেবল লম্বা প্রতিশ্রুতি বিতরণ করেছে, কিন্তু  একটাও প্রতিশ্রুতি পালন করে নি। প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষকে তারা বিপদে ফেলেছে।”

“করোনার মহামারী মোকাবিলায় এই সরকার কেবল তার দায়বদ্ধতা অস্বীকার করেছে তা নয়, রাজ্যগুলোকে বিভ্রান্ত করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কারণে এখন চিকিৎসা সহায়তার জন্য ভ্যাকসিন নেই, অক্সিজেন নেই, হাসপাতালের শয্যা নেই  এমনকি কোভিডে-১৯-এ মৃতদের ডেঢক্ররত্যের জন্য কবরস্থান বা শ্মশানের অবস্থাও উদ্বেগজনক। সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘোষণা ও তা প্রত্যাহেরের জন্য ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীরা কবে টিকা পাবে ঠিক নেই। গুরুতর সঙ্কটের সময়  কী করা দরকার তা নিয়ে সরকার পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে ও দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।”

ইউনিয়নগুলি বলেছে যে সরকার এই মহামারীকে ব্যবহার করে “কেবল কর্পোরেটদের সুবিধার্থে তৈরি করা আইনগুলি কার্যকর করার জন্য,  তিনটি  কৃষি আইন হোক বা চারটি শ্রম-কোড তড়িঘড়ি পাশ করিয়েছে। সরকারী সংস্থাগুলোকে  বেসরকারীকরণ  করা হয়েছে ও হচ্ছে।”

কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে সরকারের মতে কোভিড -১৯ মহামারী মোকাবেলায় সরকারের তহবিল নেই, কিন্তু ২০০০ কোটি টাকা ব্যয় করে “ নির্লজ্জভাবে” সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প চালানো হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সাংবিধানিক এজেন্সিগুলিতে নিজের লোক ঢুকিয়ে বিরোধীদের ভয় দেখাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।“

তাঁরা দাবী করেছেন যে সরকারের উচিৎ পরিযায়ী শ্রমিক, বেকার ও অন্যান্যদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের আরও সুরক্ষিত করা। কৃষকদের আহ্বানে সংহতির জানাতে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলিও তাদের সদস্য-সমর্থকদের বাড়িতে এবং যানবাহনে কালো পতাকা লাগাতে এবং বুকে কালো ব্যাজ ঝোলাতে বলেছে।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on ২৬ মে ‘কালা দিবস’ পালনের আহ্বান সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার : সমর্থন ট্রেড ইউনিয়নগুলির

Leave A Comment