উচ্ছেদের সময় বুক লক্ষ্য করে গুলি, অসমের ঘটনার নিন্দায় গোটা দেশ

আজকের খবর বিভাগ-বহির্ভূত বিশেষ খবর

Last Updated on 4 weeks by admin

প্রজ্ঞা অন্বেষা, আসাম, ২৫ সেপ্টেম্বর,২০২১ :

উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল আসামের দরং জেলার সিপাঝাড়ে। প্রস্তাবিত কৃষি প্রকল্প স্থাপনের জন্য এদিন সিপাঝাড়ের ধলপুর বাজার, ১নং ধলপুর, ৩ নং ধলপুর সহ এক বড় অঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চালায় আসাম পুলিশ। সে সময় উচ্ছেদের বিরোধিতা করে স্থানীয় জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় সাদ্দাম হুসেন এবং শেখ সাহিদ নামের দুই প্রতিবাদকারীর। প্রশাসনের তরফ সংবাদমাধ্যমের কাছে বলা হয় – এই ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশ কর্মী। দু’জনের মৃত্যু ছাড়াও বেশ কয়েকজন প্রতিবাদকারী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার পর এখনও গোটা এলাকাজুড়ে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। শুক্রবার সকালেও ধলপুর থেকে উদ্ধার হয় এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ। সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানা গেছে। যদিও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।

এদিকে, উচ্ছেদ চলাকালীন সময়ে সিপাঝাড়ের গরুখুঁটি অঞ্চলে আহত এক প্রতিবাদকারীর ওপর ক্যামেরা হাতে থাকা এক ব্যক্তিকে চড়াও হতে দেখা যায়। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে তাকে সংবাদ মাধ্যমের লোক মনে করা হলেও পরবর্তীতে জানা যায় বিজয় বানিয়া নামের ওই ব্যক্তি প্রশাসনের ক্যামেরাম্যান। তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার ১২ ঘণ্টার দরং বনধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সারা আসাম সংখ্যালঘু ছাত্র সংস্থা, অল মাইনিরিটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের ডাকা এই বনধ সর্বাত্মক সফল হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিন দরং জেলার সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং যান চলাচল বন্ধ ছিল বলে খবর। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাস নাগাদই সিপাঝারের এক বড় অংশে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় আসাম সরকার। এমনকি সেখানে থাকা মানুষদের ‘বিদেশি’ হিসেবে আখ্যা করে সেই অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার নোটিশও পাঠানো হয়।

বর্তমানে  যেখানে উচ্ছেদ চলছে, সেখানকার বেশির ভাগ মানুষই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিযোগ, পুরো ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। উচ্ছেদের বিরোধীতা করে স্থানীয় মানুষ আদালতে যায়। তাই, বর্তমানে উচ্ছেদের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।  কিন্তু হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীত বিজেপি পরিচালিত সরকার কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বন্দুক হাতে অভিযানে নামিয়েছে পুলিশকে।

বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনার পর শুক্রবার উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখলেও পরবর্তীতে যে আবার উচ্ছেদ অভিযান চলবে প্রস্তাবিত কৃষি প্রকল্পের অধ্যক্ষ তথা বিধায়ক পদ্ম হাজারিকার কথা থেকেই তা স্পষ্ট। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে  থেকে সরে যাওয়ার জন্য ওই স্থানে বসাবাসকারীদের কিছু সময় দেওয়া হবে, কিন্তু এই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হবে না। একই বক্তব্য আসামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেশব মহন্তেরও। ওই অঞ্চলে বসবাসকারীদের ‘বিদেশি’ এবং ‘বেদখলকারী’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, উচ্ছেদ অভিযান চলবেই।

এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন অসমের বিরোধী দলগুলি । তাদের বক্তব্য, তাঁর নির্দেশ ছাড়া কি পুলিশ গুলি চালানোর সাহস পাবে? প্রতিবাদীর বুক লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাকে বিজেপি-আরএসএসের সংখ্যালঘু নিধনের পদক্ষেপ বলেও আখ্যা দিয়েছেন অনেকে। এই ঘটনার নিন্দা করেছেন গোটা দেশের মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠনগুলি।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on উচ্ছেদের সময় বুক লক্ষ্য করে গুলি, অসমের ঘটনার নিন্দায় গোটা দেশ

Leave A Comment