উত্তরবঙ্গে চলছে “শ্রমজীবী অধিকার অভিযান” – একটি রিপোর্ট

আজকের খবর

Last Updated on 8 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ১০ই ফেব্রুয়ারি: শ্রমজীবী অধিকার অভিযান আজ পঞ্চম দিনের যাত্রা শেষ করল। খয়েরবাড়ি বনবস্তিতে (forest Village) ৯ই মার্চের যাত্রা শেষে নৈশযাপন৷ খয়েরবাড়ি থেকেই শুরু ৬ মার্চ ই মার্চের যাত্রা৷ শিশুবাড়ী, মুজনাই টি এস্টেট, টোটোপাড়া, হান্টাপাড়া, ধুমসিপাড়া বীরপাড়ায় দফায় দফায় প্রোগ্রাম হয়ে জাঠা আজকের মতো থামে দলগাঁও। কাল আবার দলগাঁও থেকে শুরু হবে ৬ষ্ঠ দিনের যাত্রা৷

শিশুবাড়ি; অভিযান কর্মীদের আপ্যায়নে পোস্টার

শ্রমজীবী অধিকার অভিযানের প্রথম দফা চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ডুয়ার্স অঞ্চল জুড়ে। ভুটান, আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমানা মিলছে যেখানে, সেই কুলকুলি বনগ্রাম থেকে শুরু। শেষ হবে বাগরাকোট চা বাগান। নদী ধরে বললে সংকোশ থেকে তিস্তা৷

দ্বিতীয় দফায় তরাই অঞ্চল৷ ১৭-১৯ মার্চ৷ তিস্তা থেকে শুরু হয়ে ভারত-নেপাল বর্ডার মেচি তে শেষ৷

২২ তারিখ তৃতীয় দফায় অধিকার অভিযান পৌঁছে যাবে পাহাড়ের দিকে৷ সুকনা থেকে দার্জিলিং কালিম্পং জেলা পরিক্রমা করে ১লা মার্চ সেবক এ শেষ হবে তিনদফার এই শ্রমজীবী অধিকার অভিযান।

চারটি শ্রমকোড, বন আইন বদল, কৃষি বিল – প্রধানত এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই যাত্রায়৷ ৪৪টি শ্রমআইন বাতিল করে ৪ টি শ্রমকোড আনা হচ্ছে যাতে শ্রমিকদের প্রাপ্য বহু অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন আইনিভাবেই। কৃষি বিল নিয়ে কৃষকদের বক্তব্য তো দিল্লীর বুকে তাদের সমবেত কন্ঠস্বর রোজ জানান দিচ্ছে। বন আইন ২০০৬ এ বনবাসী আদিবাসী মানুষদের যে অধিকার ছিল জঙ্গলের উপর, ইন্ডিয়ান ফরেস্ট অ্যাক্ট ১৯৮৭ কে সামান্য সংশোধন করে যে আইন আসতে চলেছে তাতে সেই অধিকার খর্ব হবে বলে মনে করছেন বনবস্তির মানুষজন।

অধিকার যাত্রার কনভেনার লাল সিং জি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানালেন, “বেদান্তর মতো বড় বড় কোম্পানিকে ফিরে যেতে হয়েছে গ্রামসভার অনুমতি না পেয়ে৷ জঙ্গল কিনে নষ্ট করতে পারেনি৷ সুপ্রিমকোর্টও জানিয়েছে জঙ্গলে কিছু করতে গেলে জঙ্গলের অধিবাসীদের গ্রামসভার অনুমতি লাগবে৷ গ্রামসভার এই অধিকার দেওয়া আছে ২০০৬ এর আইনে৷ ফলে ব্রিটিশ আমলের ফলে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট অ্যাক্ট আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে৷ তাতে অধিকার তো খর্ব হবেই; ফরেস্ট অফিসারদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়ার ফলে নিচু র‍্যাঙ্কের ফরেস্ট অফিসারও যদি মনে করে কেউ জঙ্গলের জন্য ক্ষতিকারক তাহলে তাকে গুলিও করতে পারে। এরকম অত্যাধিক ক্ষমতা পেয়ে গেলে জঙ্গল বেচতে সুবিধা হবে। পরিবেশকর্মী বা অন্য কেউ আর বাঁচাতে পারবে না জঙ্গলকে ধ্বংসের হাত থেকে।

প্রচার অনুষ্ঠান ও নাটক; ধুমসি

গ্রামে গ্রামে সাড়া ফেলছে অধিকার যাত্রা৷ কোথাও রাভা নৃত্যে বরণ করা হচ্ছে অধিকার যাত্রার কর্মীদের, তো কোথাও সারা গ্রাম মিলে আয়োজন করছে থাকা খাওয়ার৷ অধিকার যাত্রার গাড়ি পৌঁছলে বিভিন্ন মোড় থেকে যোগদান করছেন এলাকার মানুষ। যাচ্ছেন যতদূর সম্ভব। গান, নাটকে সজ্জিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষে মাটিতে পাতা গামছায় গ্রামবাসীরা যে যা পারছেন দিচ্ছেন অধিকার যাত্রার খরচ ভাগ করে নিতে৷ এভাবেই চলছে অধিকার যাত্রা৷

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on উত্তরবঙ্গে চলছে “শ্রমজীবী অধিকার অভিযান” – একটি রিপোর্ট

Leave A Comment