নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে বিজেপির মুখ হতে চাইছেন শুভেন্দু

বিভাগ-বহির্ভূত মতামত

Last Updated on 9 months by admin

পশ্চিমবঙ্গের দলবদলের যাত্রাপালা গত কয়েকদিনে তুঙ্গে উঠেছে। শুভেন্দু অধিকারী সহ বেশ কিছু নেতা অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্য বিজেপিতে সম্ভবত দলত্যাগীদের সংখ্যাধিক্য প্রশ্নাতীত হয়ে উঠেছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঠিক পর থেকেই সচেতন ভাবে তৃণমূল-এর অপশাসনের বিরুদ্ধে শুভেন্দু বাবু আগ্রাসী আক্রমণ করছেন। গতকালের জনসভাতে তিনি বলেন বাংলাকে তৃণমূলের অপশাসন মুক্ত করতেই তার বিজেপি আগমন। তবে শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ সুচিন্তিত ও দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল বলেই রাজনৈতিক মহলের অভিমত। আদানির মতন বড় পুঁজিপতিদের মধ্যস্থতায় বহু টাকার লেনদেন এর মাধ্যমে এই দলবদলের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া গিয়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরেই তৃণমূলের দলীয় সমাবেশে অথবা মন্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বাবু গরহাজির ছিলেন। একইসময়ে ক্রমাগত বিভিন্ন অরাজনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজের একটি লড়াকু প্রতিচ্ছবি তিনি সমাজে নিয়ে গিয়েছেন। কখনো নন্দীগ্রামের শহীদ দিবস পালন, কখনো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ মঞ্চ, তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন – এসবের মধ্যে দিয়ে বিগত কয়েক মাসে জনমানসে আপাতভাবে একধরণের সচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। যদিও তৃণমূলের নয় বছরের রাজত্বে তিনি সমস্ত ধরণের উচ্চ ক্ষমতাশীল পদে আসীন ছিলেন। দলীয় ভাবেও বহু জেলার প্রধান দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে প্রশাসনিক বা দলীয় দুই স্তরেই, তৃণমুল আমলে যে সমস্ত অপকর্ম ঘটেছে তার দায়ভার শুভেন্দু অধিকারীর উপর যথেষ্ট পরিমানেই বর্তায়।
এ রাজ্যে বিজেপি প্রথম থেকেই তৃণমূল সহ অন্যান্য দল থেকে নানা ভাবে গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিদের নিজেদের দলে সামিল করার রণকৌশল নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর সেই কাজ হাসিল করার জন্য একদিকে থাকছে পর্যাপ্ত বৈষয়িক কিংবা ক্ষমতার উপটৌকন।আর অন্যদিকে সাথে চলছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে ভয় দেখানোর কাজ। এই দুই সাঁড়াশি রণকৌশলের হাত ধরে বাংলায় বিজেপি কিন্তু আপাত ভাবে শক্তি অর্জন করেছে। নানা স্তরে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে প্রায় শতাধিক জেলা এমনকি ব্লক স্তরের বিজেপি নেতাও কেন্দ্রীয় রক্ষী বাহিনী নিয়ে এলাকায় ঘুরছেন।কেন্দ্রীয় সরকারী ক্ষমতা আর সুযোগসুবিধার আধিপত্যকে সরাসরি কাজে লাগিয়ে বাংলায় ক্ষমতা বিস্তারের কাজে নেমেছে বিজেপি।
গতকালের জনসভাতে তিনি আরো জানান ক্ষমতার লোভে নন, বরং তৃনমূলকে তাড়াতে বিজেপি দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই তিনি ভূমিকা নিতে চান। এমনকি বিজেপির থেকে বিধায়ক প্রার্থী হতেও তিনি ইচ্ছুক নন। বাস্তবত তৃণমুলের অপশাসনের বিরূদ্ধে রাজ্যে নানা স্তরেই জনমত রয়েছে। কিন্তু সেই জনমতকে নিজেদের দিকে নিতে গেলে বিজেপির প্রয়োজন সচ্ছ ও লড়াকু ভাবমূর্তির লোক। বর্তমানে রাজ্য বিজেপিতে সেই ধরণের মুখের নিশ্চিন্ত ভাবেই অভাব আছে। নিজের অতীতকে ঝেড়ে ফেলে, সেই আত্মত্যাগী ও লড়াকু ভাবমূর্তির মুখ হয়ে ওঠার জন্যই শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সুকৌশলী পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে বিজেপির মুখ হতে চাইছেন শুভেন্দু

Leave A Comment