রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের প্রতিশ্রুতি রাখলেন না

আজকের খবর বিশেষ খবর মতামত

Last Updated on 6 months by admin

 

(পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৯৯৭ সালের একটি আইন মারফত।  ২০১৬ সালে নতুন সিলেবাসের ভিত্তিতে এই কমিশন নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য নতুন পদ্ধতিতে “প্রথম SLST (স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্ট)” পরীক্ষা নেয়। এই পরীক্ষার নির্দেশে ঘোষিত শূন্য পদ ছিল প্রায় ১৪,০০০। ২০১৭ তে  পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হয়, কিন্তু কোনও মেধাতালিকা প্রকাশ হয় না এবং কোনও পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরও উল্লেখ করা হয় না। এর মাধ্যমে পরীক্ষার নির্দেশে ঘোষিত গেজেট নিয়মের অবমাননা করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন পরীক্ষার্থীরা। তার পর থেকে আইনী লড়াই এবং রাস্তার  লড়াইয়ের  মাধ্যমে “অপেক্ষমাণ যোগ্য পরীক্ষার্থীদের” চাকরির দাবী বারংবার তোলেন প্রায় আড়াই হাজার অপেক্ষমান চাকরিপ্রার্থী। গত ৩০শে জানুয়ারি থেকে তারা সল্টলেকে বিকাশ ভবনের সামনে লাগাতার ধর্ণায় সামিল। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে অনিয়ম বন্ধ হোক, যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হোক এই দাবিতে তাদের লড়াই এগিয়ে চলেছে। ভোটের মরশুমে দাবীগুলো তারা পৌঁছে দিতে চান মসনদ দখলের লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী সমস্ত রাজনৈতিক দল বৃহত্তর নাগরিক সমাজের কাছে।  আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে তাদের নিজেদের কথাগুলো  ‘এদেশ আমার’-এর পাতায়  তুলে ধরলেন  সৈরুদ্দিন ।)

 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের প্রতিশ্রুতি রাখলেন না

সৈরুদ্দিন

বিগত ২০১৬ সালে  প্রথম SLST (স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্ট) পরীক্ষা হয়েছিল এবং তার রেজাল্ট বেরিয়েছিল ২০১৭ সালের  মে মাসে। আমরা প্রথম ধাপেই ডাক পাই। আমরা 1st phase ডাক পেয়ে মৌখিক পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ দিই।  কিন্তু দেখা যায় কমিশন সেকেন্ড ও থার্ড ফেজ  ডাকে ইন্টারভিউর জন্য। তারপর যখন প্যানেল লিস্ট প্রকাশিত হয় তখন দেখা যায় যে কমিশন গেজেট এর নিয়ম বিধি লংঘন করেছে। কোন মেরিট লিস্ট বা মেধা তালিকা প্রকাশ করে নি। একাডেমিক স্কোর, লিখিত নম্বর,  মৌখিক পরীক্ষা বা ইন্টারভিউর নম্বর নিয়ে যে টোটাল নম্বর প্রকাশিত করার কথা ছিল সেটা কমিশন করেননি। গেজেট এর নিয়ম অনুযায়ী একশটি চাকরির জন্য ১৪৪ জনকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকার পরিবর্তে বেশি সংখ্যক ক্যান্ডিডেট বা চাকরি-প্রার্থীকে ডাকে । গেজেট এর অনুপাত অনুযায়ী 1:1.4 সেটাও কমিশন পালন করে নি। নানা অসঙ্গতির ফলে প্রথম ধাপে  ডাক পাওয়া বেশিরভাগ চাকরি-প্রার্থীকে মেধাতালিকার পিছনে গিয়ে অবস্থান করতে হয় এবং সেকেন্ড থার্ড ফেজ এ ডাক পাওয়া চাকরি-প্রার্থীদের চাকরি দেয় কমিশন।

 

এছাড়া আমরা দেখি ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী হঠাৎ করেই ওয়েটিং লিস্টের এক নম্বরে অবস্থান করে এবং চাকরি পায়। এই ধরনের নানা অসঙ্গতি ও কমিশনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে চাকরি প্রার্থীরা ২০১৯ সালে আঠাশে ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনে “এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ” দীর্ঘ ২৯ ধরে অনশন আন্দোলন করার পর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রী মাননীয় পার্থ চ্যাটার্জি স্বশরীরে অনশন মঞ্চে এসে প্রতিশ্রুতি দেন  – “মেধা তালিকায় থাকা কাউকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হবে না, প্রত্যেকেই চাকরি দেওয়া হবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তাতে যদি ওয়ানটাইম আইন পরিবর্তন করতে হয় তবুও আমি আইন পরিবর্তন করে চাকরি দেব।“

মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে  আমরা অনশন আন্দোলন তুলে নিই। সাথে সাথে  আমরা একথাওবলি যে যদি কোনো সুরাহা না হয় তাহলে আমরা আবারও আন্দোলনে নামবো। দীর্ঘ দুই বছর আমরা চাতক পাখির মতো চেয়েছিলাম ‘দিদি’ (মুখ্যমন্ত্রী)-র প্রতিশ্রুতি দিকে!  কোনো সুরাহা মিলেনি। অথচ আমরা দেখি লকডাউন এর সময় অনশন আন্দোলনের ৫ জন প্রতিনিধিকে আবারও কমিশন দুর্নীতি করে চাকরি দেয়। শুধু আন্দোলনের ৫ প্রতিনিধি নয় ওই প্রতিনিধির স্ত্রী আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের অনেকেরই চাকরি দেয় কমিশন। এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-মন্ত্রীদের হাত থেকে মুক্তি পেতে আমরা আবারও ৩০শে জানুয়ারি থেকে লাগাতার কলেজস্ট্রিটে, শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে ও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করি। দীর্ঘ ৫৬ দিন ধরে আমরা অনশন আন্দোলন করছি সেন্ট্রাল পার্ক এর ৫ নম্বর গেটে করুণাময়ী উন্নয়ন ভবনের বিপরীতে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের চাকরি দিয়ে সরকার তথা কমিশন মুক্তি দিচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে।

এখন নির্বাচনের সময় বলে  এসএসসি যুব ছাত্র অধিকার মঞ্চ আপাতত রাস্তায় আন্দোলন করছে না।  নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর আবার আন্দোলন যে রকম চলছিল সেই একই রকম ভাবে আন্দোলন চলবে। যতদিন না সরকার চাকরি দিয়ে মুক্তি দিচ্ছে।

আমাদের দাবি – “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর মেধা তালিকাভুক্ত সকল যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি সুনিশ্চিত করতে হবে।”

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের প্রতিশ্রুতি রাখলেন না

Leave A Comment