চলচ্চিত্র নির্মাতা আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এফআইআর -এর বিরুদ্ধে লাক্ষাদ্বীপে প্রতিবাদ তীব্রতর হচ্ছে : লাক্ষ্মাদ্বীপের বিজেপি নেতারাও প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন

আজকের খবর গণ-আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 3 months by admin

বিশেষ সংবাদদাতা, ১৩ জুন,২০২১ :

চলচ্চিত্র পরিচালক আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে প্রশাসক প্রফুল খোদা প্যাটেলকে ‘বায়ো-উইপন’ বলার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় এফআইআর হওয়ায় লাক্ষাদ্বীপে প্রতিবাদী মানুষের আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল খোদা প্যাটেলকে কোভিড -১৯ মোকাবিলায় ব্যর্থতার সমালোচনা করেন লাক্ষাদ্বীপের চলচ্চিত্র নির্মাতা আয়েশা সুলতানা। স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তিনি প্রফুল প্যাটেলের সমালোচনা করে বলেন যে প্যাটেল আসার পরেই লাক্ষাদ্বীপে কোভিড -১৯ ভাইরাস ছড়িয়েছে। তিনি আসার আগে এই দ্বীপপুঞ্জে একটিও করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল না। প্রশাসকের বিরুদ্ধে ‘জৈব অস্ত্র’ (bio-weapon)-এর  অভিযোগ আনেন। তাঁর মন্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করেন লাক্ষাদ্বীপের বিজেপি প্রধান আবদুল খায়ের হাজী। এই FIR-এর ভিত্তিতে আয়েশা সুলতানার নাম রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মামলা দায়ের হয়েছে। এই FIR-এর প্রতিবাদে সরব হয়েছে লাক্ষাদ্বীপের সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্ট জনেরা। এমনকি লাখাদ্বীপের ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও দলীয় কর্মীরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

তাঁরা তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে দলের প্রধান আবদুল খায়ের হাজীকে একটি চিঠি লিখেছেন, “লাক্ষ্মাদ্বীপের বিজেপি সদস্যরা জানে যে বর্তমান প্রশাসক প্যাটেল কীভাবে জনবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী কাজ করছে এবং মানুষের মধ্যে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।”

স্থানীয় বিজেপি নেতারা আয়শা সুলতানাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “এটা ঠিক একই পদ্ধতিতে, চেতলাতের বাসিন্দা আয়েশা সুলতানাও গণমাধ্যমে নিজের মতামত জানিয়েছিলেন। পুলিশের কাছে আপনার অভিযোগের ভিত্তিতে আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি সঠিকভাবে বলেছিলেন যে লাক্ষাদ্বীপে বর্তমান প্রশাসকের আগমনের পর এবং তাঁর অবৈজ্ঞানিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের জন্য এই দ্বীপে কোভিডের আক্রান্ত বেড়ে গেছে, যেখানে এই দ্বীপে তিনি আসার পূর্বে কোনো কোভিড রোগী ছিল না।“

তাঁরা আরও অভিযোগ করেছেন, “আপনি চেতলাথের বাসিন্দা এই বোনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও অযৌক্তিক অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং তাঁর পরিবারকে বিপদে ফেলেছেন ও তাঁর ভবিষ্যত নষ্ট করছেন। আমরা আমাদের তীব্র আপত্তি জানাই এবং বিজেপি থেকে আমাদের প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহার করছি।“ চিঠিতে অন্যদের সাথে বিজেপির লাক্ষাদ্বীপের সম্পাদক আবদুল হামেদ মুলিপুজা স্বাক্ষর করেছেন।

NDTV-র এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, তখন লাক্ষাদ্বীপের বিজেপি-র সভাপতি আবদুল খায়ের হাজী সুলতানার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪এ (রাষ্ট্রদ্রোহিতা) এবং ১৫৩বি (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য) ধারায় মামলা দায়ের করেছিলেন। হাজী অভিযোগ করেছেন, চলচ্চিত্র নির্মাতার “দেশবিরোধী” মন্তব্য  “কেন্দ্রীয় সরকারের দেশপ্রেমী চিত্রকে কালিমালিপ্ত করেছে”।

১০ জুন, যখন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র লাক্ষাদ্বীপ সভাপতির নেতৃত্বে কয়েকজন  যখন আয়েশা সুলতানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিক্ষোভ করেছিল, তখন সুলতানা তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন যে ভয় দেখিয়ে তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না।

সুলতানা তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, “যে বিজেপি নেতা মামলা করেছেন, তিনি লাক্ষাদ্বীপের বাসিন্দা। যখন তিনি স্বদেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, আমি স্বদেশ রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। যারা আগামীকাল জনবিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছেন তারাই দ্বীপপুঞ্জের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন … তারা যখন আমার উপর অত্যাচার চালানোর চেষ্টা করে তখন আমি আমার প্রতিবাদের স্বর থামিয়ে দেব না। আমার স্বর আরও জোরালো হয়ে উঠবে।“

সমাজকর্মী সাকেত গোখেল প্রফুল প্যাটেলকে খলা চিঠি লিখে বলেন যে এফআইআর “কেবল রাজনৈতিক নির্যাতন নয়, লাক্ষাদ্বীপ প্রশাসন ইচ্ছাকৃত ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ভয় দেখানো”। তিনি দাবি করেন যে অবিলম্বে এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে। আয়েশা সুলতানার পাশে দাঁড়িয়েছেন লাক্ষাদ্বীপের সাধারণ মানুষ সহ বিশিষ্টজনেরা।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on চলচ্চিত্র নির্মাতা আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এফআইআর -এর বিরুদ্ধে লাক্ষাদ্বীপে প্রতিবাদ তীব্রতর হচ্ছে : লাক্ষ্মাদ্বীপের বিজেপি নেতারাও প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন

Leave A Comment