চলমান কৃষক আন্দোলনের হাল হকিকত : পর্ব – ৬

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিশেষ খবর

Last Updated on 2 weeks by admin

বিশেষ প্রতিবেদন, ১৫ নভেম্বর, ২০২১ :

(দেশজুড়ে চলমান কৃষক আন্দোলনের প্রতি সপ্তাহের আপডেট দেওয়া হবে এই বিশেষ সিরিজের প্রতিবেদনে। এই আন্দোলনের ব্যাপ্তির নিরিখে এরকম যেকোনও প্রতিবেদন অসম্পূর্ণ হতে বাধ্য। কিন্তু চেষ্টা করা হবে বিগত সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে যথাসম্ভব তুলে ধরার। প্রতি সোমবার আমরা তুলে ধরবো আগের সপ্তাহের খবরাখবর। এ সপ্তাহে আগের  সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খবর দেওয়া হল।)

পর্ব – ৬

 

৯ নভেম্বর : লখিমপুর খেরি হত্যাকাণ্ডের ফরেনসিক তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়। তদন্ত থেকে জানা গেছে যে কেন্দ্রী সরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছেলে আশিস মিশ্র টেনির মালিকানাধীন বন্দুকটি থেকে ঘটনাস্থলে গুলি চালানো হয়েছিল। এটি স্পষ্টতই সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (এসকেএম)-র বারবার দাবী করে এসেছিল যে কৃষকদের গুলি করা হয়েছিল, এবং তার সাথে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলে জড়িত। এই ফরেন্সিক তদন্ত প্রমাণ করে যে এসকেএম-এর দাবী যথার্থ ছিল। ৮ নভেম্বর, সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানিতে “একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করার” জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল এবং ইউপি সরকারকে ভৎর্সনা করে। তবুও, মোদী এবং যোগী সরকার নির্লজ্জভাবে মন্ত্রী এবং তার ছেলেকে রক্ষা করে চলেছে। অজয় মিশ্র টেনিকে বরখাস্ত করার, তাঁকে গ্রেফতার করার এবং সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের দাবি আবারও জানায় এসকেএম।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে দিল্লি সীমান্তে কৃষক আন্দোলনের প্রথম বর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানের অংশ হিসাবে ২৬ নভেম্বর পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং রাজস্থান থেকে বিশাল সংখ্যায় কৃষকরা দিল্লি  সীমান্তে আসবে। সেখানে বড় সভা হবে। এসকেএম-এর অধিভুক্ত কৃষক সংগঠনগুলি কৃষকদের এনে এই সভাকে শক্তিশালী করবে। এই আন্দোলনে এ পর্যন্ত ৬৫০ জনেরও বেশি শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এসকেএম। এছাড়াও অন্য রাজ্যের রাজধানীগুলিতে বিশাল মহাপঞ্চায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে৷ দিল্লি ও অন্য রাজ্যের রাজধানীর কৃষক ছাড়াও শ্রমিক, ছাত্র ও অন্যান্য পেশার মানুষদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া এদিন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ঘোষণা করেছে যে শীতকালীন সংসদ অধিবেশন চলাকালীন অর্থাৎ ২৯ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর প্রত্যেক দিন  ৫০০ জন কৃষক ট্রাক্টর সহ  সংসদ অব্দি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে । কৃষকরা তিন কৃষি বিলের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যহত রেখেছে। এই তিন আইন ‘কর্পোরেট হাঙর’দের জমি দখল অনিবার্য করবে ও এম.এস.পি. বা  নূন্যতম সহায়ক মূল্যের সুরক্ষাকে নষ্ট করে দেবে।

পাঞ্জাবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রাক্তন অধ্যাপক লখবিন্দর সিং এবং ভাটিন্দার পাঞ্জাবী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরু কাশী ক্যাম্পাসের সামাজিক বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক বলদেব সিং শেরগিল দ্বারা করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কৃষক আন্দোলনে মারা যাওয়া অধিকাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। প্রাণ হারানো কৃষকদের মালিকানাধীন খামারগুলোর গড় আয়তন ২.২৬ একর। এসকেএম জানিয়েছে যে কৃষক আন্দোলনের পিছনে ধনী কৃষকরাই আছে এই দাবি যে বারবার তোলা হচ্ছে, এই গবেষণা তা মিথ্যা প্রমাণ করে।

১০ নভেম্বর : এই দিন কৃষকদের উপর আবার গুলি চলে, এবং ফিরোজপুরে SAD অর্থাৎ শিরোমনি আকালি দল নেতাদের একটি গাড়ি পাঁচজন কৃষককে পিষ্ট করে বলে অভিযোগ। কৃষকরা SAD সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলকে প্রশ্ন করার জন্য এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন। এক কৃষক হারনেক সিং মহিমাকে গাড়িটি এক কিলোমিটারের বেশি টেনে নিয়ে গিয়েছিল। SAD নেতারা কৃষকদের উপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সন্দেহভাজন এস.এ.ডি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

এদিন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা জানায় যে ২২ নভেম্বর, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ব্যানারে লক্ষ্ণৌতে একটি বিশাল কিষাণ মজদুর মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ নভেম্বর, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ব্যানারে মুম্বাইতে আরেকটি বিশাল কিষাণ-মজদুর মহাপঞ্চায়েতের আয়োজন করা হবে। সারাদেশে কৃষি আন্দোলন জোরদার করার উদ্দেশ্যে এই মহাপঞ্চায়েতগুলি অনিষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানানো হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে, কৃষকরা ন্যুনতম সহায়ক মূল্যে ফসল সংগ্রহের জন্য  সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে। সরকারগুলির এব্যাপারে গাফিলতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন কৃষকরা। রাজস্থানের জয়পুরে কৃষকরা বাজরা সংগ্রহের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিকে, হরিয়ানার কর্নালে কৃষকরা ধান সংগ্রহের জন্য বিক্ষোভ করেছে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে কৃষকরা একটি বিক্ষোভ করেছে এবং জারি পাওয়ার হাউস থেকে গাল্লা মান্ডি পর্যন্ত একটি পদযাত্রার আয়োজন করেছিল। কৃষকরা একটি ৯-দফা দাবি সহ স্মারকলিপি পেশ করেছে প্রশাসনের কাছে – যার মধ্যে রয়েছে প্রতি কুইন্টাল ধান ১৯৪০ টাকা দরে সংগ্রহ করতে হবে।

১১ নভেম্বর : মধ্যপ্রদেশের গান্ধওয়ানির কৃষকরা নর্মদা উপত্যকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।  কৃষকরা বিশুদ্ধ জলের  জন্য প্রতি হেক্টর জমির জন্য কর্তৃপক্ষকে ৬০ টাকা দেয় ।  অথচ বাস্তবে, তাদের জমিতে হয় জল পৌঁছায় না নাহলে আবর্জনা নিয়ে পৌছয়। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে নদী পরিষ্কার করতে ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে, এতদসত্ত্বেও পরিষ্কার জল পাওয়া যাচ্ছেনা।  এই টাকা তাহলে কোথায় গেল? প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা।

হরিয়ানার হানসিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্না অব্যাহত রয়েছে এবং আজ মিনি সচিবালয়ে অবস্থান বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে পড়ল। এখানকার কৃষকরা দাবি করছে যে বিজেপি সাংসদ রাম চন্দর জাংরার বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভের জন্য ৩ জন কৃষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সাংসদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ এবং কৃষকদের আহত করার জন্য একটি মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে এসকেএম। বিজেপি সাংসদ, তাঁর দলের অন্যান্য নেতাদের মতো, প্রতিবাদী কৃষকদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ অপমানজনক এবং অবমাননাকর মন্তব্য করতে দেখা গেছে। এদিকে এ ঘটনায় গুরুতর আহত কৃষক কুলদীপ রানার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং স্বাধীন ফেডারেশনগুলির যৌথ প্ল্যাটফর্ম দ্বারা আয়োজিত শ্রমিকদের একটি জাতীয় সম্মেলন দিল্লির যন্তর মন্তরে এদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কনভেনশনটি বিজেপি-এনডিএ সরকারের শ্রমিক-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী, জন-বিরোধী এবং দেশবিরোধী নীতিগুলিকে তুলে ধরে এবং কৃষক আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে ২৬ নভেম্বর দেশব্যাপী গণ-বিক্ষোভের মাধ্যমে শ্রমিক-কৃষক ঐক্যকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। এই জাতীয় কনভেনশনে এসকেএম-এর এক প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

গুরপ্রীত সিং (45) নামে একজন কৃষক সিংঘু বর্ডারে আত্মহত্যা করেন কেন্দ্র সরকারের কৃষক বিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে – এমনই দাবি সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার। দিল্লি সীমান্তে প্রায় বারো মাসের বিক্ষোভের মধ্যে এটি বিক্ষোভকারীদের দ্বারা নবম আত্মহত্যা। গুরপ্রীত সিং পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহেবের রুরকি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শুরু থেকেই আন্দোলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। এসকেএম ‘শহীদ’ গুরপ্রীত সিংয়ের পরিবারকে আন্তরিক সমবেদনা জানায়। এসকেএম এটিকে কেন্দ্র সরকারের দ্বারা আত্মহত্যার প্ররোচনা বলে অভিহিত করে। এসকেএম সমস্ত সাহসী প্রতিবাদকারীদের কাছে এই চরম পদক্ষেপের কথা চিন্তা না করার জন্য অনুরোধ করে।

১২ নভেম্বর : ২০১৬ সাল থেকে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সার ডিস্ট্রিবিউটরদের “পয়েন্ট অফ সেল” বলে একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রেতার আধার কার্ড যাচাই করে সার বিক্রি করার কথা।  এটি কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতিটি রাজ্যে সারের মজুত বুঝতে সাহায্য করে।  এমনকি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্যে বিক্রেতাদের কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি ভর্তুকিও দেয়।  সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী সারের দাম বাড়ার পরিস্থিতিতে, সরকারী ভর্তুকি দিয়েও সার ডিস্ট্রিবিউটররা  লোকসান করছেন।  চাহিদা প্রচন্ড বেড়ে যাওয়ায় তারা অফলাইনে কালোবাজারে বিক্রি করতে প্ররোচিত হচ্ছেন।  সার বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য তারা কৃষকদের অতিরিক্ত পণ্য বা অনুখাদ্য বা “গ্যাটিস” যেমন ভিটামিন, বোরন ইত্যাদি কিনতে বাধ্য করছে।  এটি কৃষকদের জন্য একটি নতুন  সমস্যা।  আরও বড় সমস্যা হল, অফলাইনে বিক্রির কারণে রাজ্যের সারের মজুতের ব্যাপারে কেন্দ্রের কাছে ভুল তথ্য যাচ্ছে যে রাজ্যে যথেষ্ট সার মজুত আছে।  এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকার আসন্ন মাসগুলিতে রাজ্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করবে না।  পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য যা এই সমস্যার মুখোমুখি।  রাজ্য ও কেন্দ্রকে এই সমস্যার খুব দ্রুত সমাধান খুঁজতে হবে। এমনই দাবি কৃষদের।

হরিয়ানার সোনিপত জেলার গোহানায়, একজন আখ চাষী এদিন বিজেপি নেতা এবং রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী ডঃ বনওয়ারি লালের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। গোহানা চিনিকলের মাড়াই মরসুমের উদ্বোধন করতে মন্ত্রী গোহানায় গিয়েছিলেন, এবং গত মরসুমে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আখ সরবরাহকারী কৃষককে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। তাই আখচাষী সুরেন্দ্র লাথওয়ালকে পুরস্কারের জন্য ডাকা হয়। তিনি তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন।  তিনি বলেছেন যে তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে চলমান কৃষক আন্দোলনে যখন শত শত কৃষক শহীদ হচ্ছেন তখন তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারবেন না। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে টেনে হিঁচড়ে মঞ্চ থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়। সনহযুক্ত কিষাণ মোর্চা সুরেন্দ্র লাথওয়ালকে তার সাহসী পদক্ষেপ এবং নৈতিক দৃঢ়তার জন্য অভিনন্দন জানায়। কৃষকদের প্রতিবাদের জেরে হরিয়ানা সরকার জিন্দে আরও একটি কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হয় বলে জানা গিয়েছে।

১১ নভেম্বর খাজুরিয়া থেকে নিঘাসন পর্যন্ত “খেত, খেতি, কিষাণ বাঁচাও যাত্রা” হওয়ার কথা ছিল। উত্তরপ্রদেশ সরকার সে কর্মসূচির অনুমতি দেয় নি এবং তা করতে বাধা দেয়। এর প্রতিবাদে এদিন সর্বভারতীয় কিষান মহাসভার কৃষক নেতারা  অনশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পালিয়াতেও এই অনশন চলছে। এসকেএম আবারও ইউপি সরকারকে অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া বন্ধ করতে এবং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার দেওয়ার জন্য বলেছে।

১৩ নভেম্বর : ধান সংগ্রহের বিষয়ে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।  অনেক দলই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।  তেলেঙ্গানায়, ক্ষমতাসীন দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সমান্তরাল প্রতিবাদ করে ভোটারদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে  বাস্তবে, রাজ্য এবং কেন্দ্র উভয়ই ধান সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে।

দিল্লির বায়ু দূষণ সম্পর্কিত একটি শুনানিতে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৩ বিচারপতির  একটি বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে কৃষকদের দোষ দেওয়া ও মারধর করা এখন একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। দূষণের একমাত্র কারণ খড় পোড়ানো নয়। আদালত বলেছে যে বায়ু দূষণ সমস্যা সমাধানের জন্য কৃষকদের দোষারোপ করার পরিবর্তে, সমস্ত রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের এক সাথে কাজ করা উচিত। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ উল্লেখ করেছেন যে দূষণের ২৫ শতাংশের জন্য দায়ী কৃষকদের খড় পোড়ানো, এবং বাকি ৭৫ শতাংশ দূষণ হয় আতশবাজি পোড়ানো, যানবাহন ও ধুলাবালি থেকে।

১৪ নভেম্বর : পিলিভীত জেলার পুরানপুরে, ‘লখিমপুর ন্যায় মহাপঞ্চায়েত’-এর জন্য কৃষকদের একটি বিশাল সমাবেশ হয়। বক্তারা জোর দিয়েছেন যে অজয় মিশ্র টেনিকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এবং নিরীহ কৃষকদের উপর তাদের হত্যাকাণ্ডের জন্য সমস্ত দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত লখিমপুর খেরি কৃষক গণহত্যার ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সকল আহতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়।

হরিয়ানার কাইথাল জেলার আরেক কৃষক মেওয়া সিং পুনিয়া এদিন সিংঘু সীমান্তে ‘শহীদ’ হয়েছেন। এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৬৫ জন কৃষক শহীদ হলেন। কৃষকরা শহীদ হওয়ার পরও মোদী সরকার নির্বিকার এবং উদাসীন। তাই কিষাণ মোর্চা কেন্দ্র সরকারকে ধিক্কার জানিয়েছে।

কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার কর্পোরেটদের হাতে বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ কৃষকদের সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়েছে। রাজস্থানের হনুমানগড়ে, একটি সরকারী গুদাম একটি বেসরকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তের প্রতিবাদে ২৫ দিন ধরে কৃষকরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

১৫ নভেম্বর :  ১৫ই নভেম্বর, আদিবাসী বীর ও স্বাধীনতা সংগ্রামী বিরসা মুণ্ডার জন্মবার্ষিকী। বিরসা মুন্ডা ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে আদিবাসী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। এমন এক সময়ে যখন ভারত সরকার বন সংরক্ষণ আইন (১৯৮০)-এর সংশোধনীর কথা ভাবছে, যা আদিবাসী এবং অন্যান্য বনবাসীদের অধিকার এবং তাদের জীবিকার জন্য ক্ষতিকর হবে, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা বিরসা মুন্ডাকে তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়, এবং বলে যে কৃষকরা বিরসা মুন্ডার অনুপ্রেরণামূলক কাজ থেকে আন্দোলনের শক্তি সংগ্রহ করবে।

কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে কর্ণাটক থেকে পদযাত্রা করে নাগরাজ এদিন রাজস্থানের ধোলপুরে পৌঁছেছেন। এরপর তিনি উত্তরপ্রদেশের জাজাউয়ে পৌঁছাবেন ও পরে আগ্রা পৌঁছাবেন এবং ১৭ তারিখে মথুরায় পৌঁছাবেন। ১৮ নভেম্বর তিনি ইউপির কোসি কালান এবং ১৯ তারিখে হরিয়ানার পালওয়ালে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে লখিমপুর খেরি গণহত্যা সংক্রান্ত একটি শুনানিতে, উত্তরপ্রদেশ সরকার তদন্ত পর্যবেক্ষণের জন্য রাজ্যের বাইরের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগে সম্মত হয়েছে। উচ্চতম ন্যায়ালয় ইতিমধ্যেই ইউপি সরকারের এসআইটি, বা রাজ্য সরকার দ্বারা নির্বাচিত কোনও বিচারক বা এমনকি সিবিআই-এর তদন্তের উপর আস্থার অভাব প্রকাশ করেছে এবং এর আগে দুটি শুনানিতে তদন্তের তত্ত্বাবধান হস্তান্তর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা লখিমপুর খেরি গণহত্যায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ইউপির বিজেপি রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং অজয় ​​মিশ্র টেনিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত করার জন্য অনুরোধ করেছে।

Please follow and like us:
error17
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
Tagged
No Thoughts on চলমান কৃষক আন্দোলনের হাল হকিকত : পর্ব – ৬

Leave A Comment