“যখন এই কৃষি আইন পাস হল তখন থেকেই আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়েদের, বাচ্চাদের, বয়স্ক মানুষ সকলকেই এই আইনের বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করি” – হরিন্দর বিন্দু

আজকের খবর কৃষক আন্দোলন বিভাগ-বহির্ভূত

Last Updated on 7 months by admin

নিজস্ব সংবাদদাতা, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি: কিছুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন কৃষক আন্দোলনের ময়দান থেকে বয়স্ক, শিশু ও মহিলাদের ঘরে ফিরে যেতে। এখন আবার সিঙ্ঘু, টিকরি, গাজীপুর বর্ডার সম্পর্কে গুজব ছড়াচ্ছে যে এই জায়গাগুলো মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। এই আন্দোলন সম্পর্কে একটু খবর নিলেই বোঝা যায় এই আন্দোলনে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। সেই ভূমিকাই কি চিন্তায় ফেলেছে রাষ্ট্রশক্তিকে?  এক আন্দোলনের নেত্রীর সাথে কথোপকথনে উঠে এলো এই আন্দোলনের “অর্ধেক আকাশ” এর ছবিটা।

টিকরি বর্ডার পুলিস ব্যারিকেড থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভেতরে সংযুক্ত মোর্চার মঞ্চ থেকে আলাদাভাবে ধর্ণা মঞ্চ করে লক্ষাধিক কৃষকের জমায়েত করেছে একটি একক সংগঠন – ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন (একতা) উগ্রাহাঁ। হরিন্দর বিন্দু এই সংগঠনের অন্যতম সংগঠক। সারাদিন মঞ্চ সামলেও আমাদের সাথে টানা এক ঘণ্টার বেশি কথা বললেন আন্দোলনের এই অক্লান্ত কর্মী। পাঞ্জাবি মেশানো হিন্দীতে বললেন, “যখন এই কৃষি আইন পাস হল তখন থেকেই আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়েদের, বাচ্চাদের, বয়স্ক মানুষ সকলকেই এই আইনের বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করি।  সবাই বুঝতে পারে এবং এই লড়াইয়ে সামিল হয়। জুলাই থেকে আমরা গ্রামে গ্রামে ধর্ণা, ট্রাক্টর মিছিল শুরু করি। সেপ্টেম্বর মাসে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অবস্থানে বসি। এই অবস্থানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় মহিলারা অংশগ্রহণ করে৷” এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে এতো সংখ্যক মহিলার আন্দোলনে অংশগ্রহণ কীভাবে সম্ভব হল? এই প্রশ্নের জবাবে হরিন্দর বললেন, “সারা বছরই পাঞ্জাবে কিছু না কিছু আন্দোলন চলে। আমরা প্রতিটা আন্দোলনের মেয়েদের জোড়ার চেষ্টা করি। বোঝাবার চেষ্টা করি এগুলোর সাথে তাদের সরাসরি স্বার্থের সম্পর্কের কথাগুলো। আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক যদি নারী হয়, তাহলে তাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা একদম তৃণমূল স্তরের সংগঠন থেকে সংগঠনের নেতৃত্ব সর্বত্র নারীদের ভূমিকাকে সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করি।”

শুধু নারীদের অংশগ্রহণের প্রশ্নই নয়, হরিন্দর বিন্দুর কথায় উঠে এলো কিভাবে তাদের সংগঠন সমস্ত রকম ধর্মীয় প্রভাব থেকে এই আন্দোলনকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। তাদের মঞ্চ থেকে ওঠে না কোনও ধর্মীয় স্লোগান। এমনকি কৃষি আইনের বিরোধিতার মঞ্চ থেকেই তারা সোচ্চার হয়েছিলেন সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির দাবীতেও।

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উদ্দেশ্যে হরিন্দর বললেন, “বিজেপি সারা দেশকে ভাগবাটোয়ারা করতে নেমেছে। ধর্মের নামে, জাতের নামে। এদের এই বিভাজনের রাজনীতিকে স্থান দেবেন না বাংলায়।” “আন্দোলনজীবী” হিসাবে গর্বিত হরিন্দর বিন্দুরা শুধু পাঞ্জাবের নয় সারা দেশেরই কাছে সংগ্রামের উজ্জ্বল উদাহরণ।

Please follow and like us:
error16
fb-share-icon0
Tweet 20
fb-share-icon20
No Thoughts on “যখন এই কৃষি আইন পাস হল তখন থেকেই আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়েদের, বাচ্চাদের, বয়স্ক মানুষ সকলকেই এই আইনের বিপদ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করি” – হরিন্দর বিন্দু

Leave A Comment